বৃটেনের বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ার আদি অধিবাসীদের জিনে বিশেষ একধরনের শীতলতা সহ্য করার ক্ষমতা আবিস্কার করেছেন. ওর দৌলতেই তীব্র ঠান্ডা মানুষ সহ্য করতে পারে. তবে রুশী বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, যে এরকম জিন নিহিত আছে প্রত্যেক মানুষের শরীরেই.

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন তত্ত্ববিদেরা সাইবেরিয়ার ২০০ জন আদি বাসিন্দার ডিএনকের নমুনা সংগ্রহ করেছেন. জটিল বিশ্লেষণের পরে তারা খুঁজে পেয়েছেন সেই জিন, যা ঠান্ডা সহ্য করার দায়িত্ব পালন করে. তবে এটা আশ্চর্যজনক, যে ঐ জিন দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে না, শরীরের ভেতরে দ্রব্য বিনিময় নিয়ন্ত্রণ করে. রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সাইবেরিয়া শাখার উপাধ্যক্ষ ভাদিম স্তেপানভের মতে, এরকম জিন নিহিত আছে প্রতিটি মানুষের শরীরে. –

প্রত্যেক মানুষের শরীরে একইরকম জিনের উপাচার রয়েছে. তবে প্রত্যেক জাতির ক্ষেত্রে তার গড়নে পার্থক্য থাকে. উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী লোকজনের শরীরে চর্বি বিনিময়ের দায়িত্ব পালনকারী জিন রয়েছে. যখন মানুষ চর্বিসম্বলিত খাদ্য গ্রহণ করে, তছন দেহের ভেতরে চর্বি শক্তি হিসাবে মজুত হয়. চরম জলবায়ুতে সেটা জীবনধারনের জন্য সহায়ক.

গরমের দেশে বসবাসকারী লোকজনের জন্য অত শক্তির প্রয়োজন নেই, তাই তাদের দ্রব্য বিনিময় হয় অন্যভাবে. এক কথায় বলতে গেলে, আফ্রিকানদের সাইবেরিয়ায় শুধুমাত্র শীতই করবে না, তারা অনাহারেও ভুগবে. শরীরের ভেতরে মজুত সামান্য শক্তি দ্রুত খরচা হয়ে যাবে. আর তা পূরন করার জন্য প্রচুর মাংস ও চর্বিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা আবশ্যক. অন্যদিকে উত্তরের অধিবাসীদেরও গরমের দেশে কষ্ট হবে. যখন মানুষ সাইবেরিয়া ও উত্তর মেরু অঞ্চলে প্রথম বসতি গেড়েছিল, সেই সময় থেকে হাজার হাজার বছর ধরে তাদের শরীরের ভেতরে তথাকথিত শীতলতা সহিষ্ণু জিন গঠিত হয়েছে. তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরেধীরে, কিন্তু নিখুঁতভাবে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়েছে – বলছেন নৃতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ভালেরি তিশকোভ. –

হচ্ছে হাজার হাজার বছরের কথা. ওদের দীর্ঘকালীন মানানসইতা ইউরোপের উত্তর দিকের অধিবাসীদের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর. স্ক্যানডিনেভিয়ার অধিবাসীদেরও কিছু স্বকীয় বৈশিষ্ট্য আছে. ইউরোপের ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে উষ্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সাথে ওদের চামড়ার রঙ ও দেহের গড়নে ফারাক আছে.

ভবিষ্যতে এরকম জিনের বিশ্লেষণ কাজে লাগবে. বিশেষতঃ প্রবল ঠান্ডা অথবা তীব্র গরমের আবহাওয়ায় জীবনধারন করার জন্য – এই সম্পর্কে সুনিশ্চিত ভাদিম স্তেপানভ. –

ব্যবহারিক দিক থেকে এটা উপযোগী আবিস্কার. ধরুন, আমাদের সুমেরু বা কুমেরুতে অভিযান করতে হবে. তার মানে সুমেরুতে যাবে তারা, যারা আগে অন্য অঞ্চলে বাস করতো. তারা সেখানে নির্মানকার্য করবে, রাস্তাঘাট বানাবে, দিক নির্ণয় করবে. যদি ঐসব লোকেদের শরীরে জিন আগে থেকেই শীতল জলবায়ুর জন্য মানানসই হয়, তাহলে তাদের কাজ অনেক বেশি ফল দেবে ও জীবনধারনও তত কষ্টসাধ্য হবে না.

বিশ্বের বিজ্ঞানের জন্যও বৃটেনের বিজ্ঞানীদের আবিস্কারের বড় মূল্য আছে. বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসকারী লোকেদের জিনের গড়ন বিশ্লেষণ করে সঠিক ও উপযুক্ত জিন নির্ণয় করা সম্ভবপর হবে ভবিষ্যতে.