রাশিয়া স্তালিনগ্রাদ যুদ্ধ শেষের ৭০ বছরের জয়ন্তী পালন করছে. বীর শহর স্তালিনগ্রাদ (বর্তমানে ভলগোগ্রাদ)বহু প্রজন্মের স্মৃতিতে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর ভলগা নদীর তীরে এক যুগান্তকারী বিজয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতি প্রকৃতিই বদলে দিতে পেরেছিল.

স্তালিনগ্রাদের প্রতিটি রাস্তায় হয়েছিল বহু নৃশংস যুদ্ধ, বহু লক্ষ মানুষ দুই তরফেই দিয়েছিলেন প্রাণ, শহর একবারে ভিত পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল... ফ্যাসিস্ট হামলাকারীদের সঙ্গে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর ২০০ দিনের যুদ্ধ সমস্ত মানবেতিহাসের পাতায় লেখা হয়েছে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বলেই. স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে বিজয় সোভিয়েত জনগনের জন্য খুবই দামী হয়েছিল, কিন্তু লক্ষ্য পূরণও হয়েছিল: পূর্ব দিকে ফ্যাসিস্টদের অগ্রগতি রুখে দেওয়া গিয়েছিল. মহান পিতৃভূমির যুদ্ধে ফ্যাসিস্ট দলের স্তালিনগ্রাদ শহরের কাছে ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছিল এক উল্টো স্রোতে চলার শুরু.

সোভিয়েত সেনা দলের স্মৃতিতে, যারা স্তালিনগ্রাদের যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন, শহরের কেন্দ্রে মামায়েভ কুরগান নামক জায়গায় এক অতিকায় ঐতিহাসিক মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স তৈরী করা হয়েছিল. এই জায়গা শুধুশুধুই বেছে নেওয়া হয় নি. মহান পিতৃভূমির জন্য যুদ্ধের সময়ে স্তালিনগ্রাদের প্রতিরক্ষা ফ্রন্টের জন্য এই উপত্যকা অঞ্চলই ছিল সবচেয়ে মূল্যবান অংশ, সেখানেই হয়েছিল সবচেয়ে কঠিন সব যুদ্ধ. এই জায়গায় ভলগা নদী সাঁতার দিয়ে পার হয়েছিল সোভিয়েত সেনাবাহিনী কম করে হলেও দেড়শো বার, আর প্রতি বারেই রেখে আসতে হয়েছিল অপর পারে বহু শত বীরের অমূল্য প্রাণ.

এই মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের কেন্দ্রীয় অংশ – “মাতৃভূমির আহ্বান!”, নামের এক ৫২ মিটার উচ্চতার খোলা তরোয়াল হাতে মহিলার মূর্তি, যা জন্মভূমির প্রতীক, যিনি নিজের সন্তান সন্ততিদের আহ্বান করছেন শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধের জন্য. ১৯৬৭ সালে এই মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স তৈরী শেষ হওয়ার সময়ে এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপত্য. তুলনার জন্য: নিউইয়র্কের স্বাধীনতার স্ট্যাচুর উচ্চতা ৪৬ মিটার. এই বিষয়ে গল্প করে এক মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের গাইড এলিজাভেতা লিস্তভা বলেছেন:

“বাইরে থেকে জন্মভূমি মায়ের চেহারা – এটা একটা কল্পনার সর্ব্বোচ্চ রূপ, আর ভিতরে – খুবই কড়া হিসেব. এই স্ট্যাচু, যার ওজনই সাড়ে পাঁচ হাজার টন, তা কোন ভাবেই আটকে রাখার চেষ্টা করা হয় নি, তা রয়েছে দাবার বোর্ডের উপরে ঘুঁটির মতই স্বাধীন ভাবে দাঁড়িয়ে. এটাকে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করছে ভিতরের কংক্রীটের কাঠামো, যা প্রয়োজনীয় জায়গাতেই ভর কেন্দ্রের একেবারে নিখুঁত হিসাব করে দাঁড় করিয়ে রাখতে সাহায্য করেছে. তাছাড়া, কংক্রীটের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে বহু সংখ্যক ইস্পাতের দড়ি, যা একেবারে নীচ থেকে উপর অবধি স্ট্যাচুর পুরো উচ্চতা জুড়েই বাঁধা হয়েছে. তাদের মোট সংখ্যা ৯৯, প্রতিটির টেনে বাঁধার ওজন – ৬০ টন. এই একই ধরনের ব্যবস্থা মস্কো শহরের অস্তানকিনো টেলিভিশন টাওয়ারের ক্ষেত্রেও করা হয়েছে”.

প্রায় পঞ্চাশ বছরের বেশী সময় ধরে এই মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের কার্যকালের মধ্যে এখানে সাত কোটিরও বেশী মানুষ এসেছেন.