সিরিয়ার বিরোধে এবারে ইজরায়েল ঢুকে পড়ল. বুধবারে তাদের বিমান বাহিনী দামাস্কাসের উপকণ্ঠে এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের উপরে বোমা বর্ষণ করেছে. দুজন নিহত ও কিছু অন্যান্য লোক আহত হয়েছেন. এই বিষয়ে সিরিয়ার সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল থেকে জানানো হয়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই ইজরায়েল বোমা বর্ষণের প্রস্তুতির খবর দিয়েছিল বলে “নিউইয়র্ক টাইমস” পত্রিকা জানিয়েছে, তাদের উত্স ছিল আমেরিকার সরকারি কর্মচারীরা. আর “ওয়াশিংটন পোস্ট” সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের উত্স থেকে পাওয়া খবর বলে জানিয়েছে যে, বোমা বর্ষণ করা হয়েছে রাসায়নিক অস্ত্র নির্মাণ কেন্দ্রের উপরেই. আরও একটা ধারণা রয়েছে যে, ইজরায়েলের সেনা বাহিনীর লক্ষ্য এই গবেষণা কেন্দ্র ছিল না, বরং সেই কনভয়, যারা লেবাননে “হেজবোল্লা” যোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করছিল.

যাই হোক না কেন, দেখাই যাচ্ছে যে, সিরিয়ার বিরোধে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ বেড়েই চলেছে. সম্ভবতঃ সিরিয়ার এলাকায় ইজরায়েলের বিমান বাহিনীর তরফ থেকে আঘাত হানা হয়েছে তুরস্কের সঙ্গে সিরিয়ার সীমান্ত এলাকায় ছটি রকেট বিরোধী প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা বসানোর অব্যবহিত পরেই, আর এটা হঠাত্ করেই নয়. স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ সম্বন্ধে তাঁর বক্তব্য জানিয়ে বলেছেন:

“কোন সন্দেহ নেই যে, শেষ মেষ এই সবই নিকটপ্রাচ্যে এক বিশাল মাত্স্যন্যায়ের সূচনা করবে. সিরিয়া – এটা আরব বিশ্বের হৃত্পিণ্ড. আর সেখানে পরিস্থিতি যতই খারাপ হবে, ততই আরব বিশ্বের পরিস্থিতিও খারাপ হবে. একটা গোলমাল শুরু হলে, সিরিয়ার পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক ভাবে শক্তি ও মাধ্যম ব্যবহার করে কোন রকমের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে না. পরে এই গোলমাল সিরিয়ার সীমান্ত ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ গুলিতেও ছড়িয়ে পড়বে. লিবিয়া জ্বলে উঠবে, ইরাকের কেন্দ্রীয় এলাকাতেও আগুন জ্বলবে. আর তারপর আমরা এক বিশাল অস্থিতিশীলতার কেন্দ্রকেই দেখতে পাবো, যেখানে সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি থাকবে, যার সঙ্গে আবার সারা বিশ্ব খুবই সক্রিয় ভাবে সংগ্রামে নামতে বাধ্য হবে”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেদের তরফ থেকে ঘোষণা করেছে যে, যদি সিরিয়াতে ইজরায়েলের আঘাত হানার তথ্য প্রমাণিত হয়, তবে এটা হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদের এক জঘন্য রকমের লঙ্ঘণ. এখানে তারপরে কথা হবে সার্বভৌম দেশের ভিতরে লক্ষ্যের উপরে কোন রকমের প্ররোচনা ছাড়াই আঘাত হানা নিয়ে. এটা মেনে নেওয়া যেতে পারে না, তা সে যে ধরনের যুক্তি দিয়েই এটাকে প্রমাণের চেষ্টা করা হোক না কেন. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণাতে এই কথাই বলা হয়েছে.