সামাজিক উদ্যোগ, যা রাশিয়ার অধিকাংশ লোকই সমর্থন করবেন, তা এখন থেকে আইনের খসড়া হওয়ার মর্যাদা পেতে পারবে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার লোকসভার স্পীকার সের্গেই নারীশকিন. এখন শুধু বাকী রয়েছে আইন সঙ্গত ভাবে জনগনের প্রস্তাব গুলিকে উপস্থাপন ও আলোচনার পদ্ধতি নির্ণয় করার.

রাশিয়ার এক লক্ষেরও বেশী লোকের স্বাক্ষর সমেত যে সমস্ত প্রস্তাব করা হবে, সেই গুলিকে নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমা বা লোকসভাতে সাধারন নিয়ম অনুযায়ীই আলোচনা করা হবে. এই ধরনের একটি চিন্তার কথা ভ্লাদিমির পুতিন কাঁর প্রাক্ নির্বাচনী প্রবন্ধ গুলিতে লিখেছিলেন ও পরে তা রাষ্ট্রপতির নির্দেশে স্পষ্ট করেই লেখা হয়েছে. এই ধারণা দেশের মানুষদের পছন্দ হয়েছে বলে “রাজনীতি” নামের তহবিলের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ উল্লেখ করে যোগ করেছেন:

“নিজের দিক থেকে এই উদ্যোগ যথেষ্ট আগ্রহোদ্দীপক. এই ধরনের ব্যাপার রাশিয়ার সংবিধানে আগে ছিল না ও তা কোন রকমের আইন সংক্রান্ত নিয়মের মধ্যেও বলা ছিল না, কিন্তু তা হলে অনেক সূক্ষ্ম ভাবেই সমাজের মানসিকতা বোঝা সম্ভব হবে ও তা আইনের ভাষায় পরিণত করাও যাবে, যদি তা করার কোন প্রয়োজন পড়ে”.

স্বাক্ষর সংগ্রহ ও আলোচনা দুটোই ইন্টারনেটে করা সম্ভব বলে, দেশের প্রায় প্রত্যেক নাগরিকই বাড়তি সুযোগ পাবেন দেশ চালানোর বিষয়ে অংশ নিতে. আগে এই অধিকার রাশিয়ার লোকরা শুধু দেশের প্রশাসনের প্রতিনিধি নির্বাচনের সময়েই পেতেন, আর এবারে তারা সরাসরি আইন সৃষ্টির প্রক্রিয়াতে যোগ দিতে পারবেন. কিন্তু যাতে এটা ঘটে, তার জন্য সামাজিক উদ্যোগের প্রতিফলনের জন্য আইন সম্মত নিয়মও বের করতে হবে বলে উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

“এখন যত খুশী স্বাক্ষর সংগ্রহ করা যেতে পারে, কিন্তু কোন রকমেরই নিয়ম স্রেফ নেই, যা এর পরে ব্যবহার করা যেতে পারে. তাই আগে আইন নিতে হবে, যেখানে বলা থাকবে কোথায় ও কিভাবে এই ধরনের স্বাক্ষর যোগাড় করা হবে. সম্ভবতঃ, এটা রাষ্ট্রীয় লোকসভার সাইটে কোন আলাদা পাতা হবে. যার পরে লেখা থাকবে এই আইনের খসড়া আলোচনা করার পদ্ধতি. তাছাড়া, এই এক লক্ষ লোককে মোটেও আইন প্রণয়নের কর্তা বলে দেখা যেতে পারে না. কারণ সমস্ত আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্তাই রাশিয়ার সংবিধানে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে. তাই হয় দেশের সংবিধানে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হবে, অথবা এই উদ্যোগ যারা আইন প্রণয়নের বিষয়ে কর্তা হতে পারেন, তাদের কাউকে কাজে পরিণত করতে হবে, তা সে লোকসভার সদস্য, রাষ্ট্রীয় দ্যুমার উচ্চ কক্ষের সদস্য, রাশিয়ার মন্ত্রীসভা অথবা আদালত হতেও পারে”.

তা স্বত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই কাজের উপযুক্ত নিয়ম কানুন শীঘ্রই তৈরী হয়ে যাবে, আর দেশের লোকসভা আবশ্যিক ভাবেই জনপ্রিয় সামাজিক উদ্যোগ গুলিকে বিচারকরে দেখবে. এই কথা সত্য যে, পথও বার করতে হবে, যা ভাল উদ্যোগের থেকে স্রেফ জনপ্রিয়তা লাভের জন্য উদ্যোগ গুলিকে আলাদা করতে পারবে, যেমন সকলের মাইনে ও অবসর ভাতা ১০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া অথবা সবৈতনিক ছুটির সময় বাড়িয়ে দেওয়া, ইত্যাদি. এখানে এই ধরনের ছাঁকনির ভূমিকা নিতে পারে নাগরিক সমাজ নিজেই, যাদের স্বার্থের কথা ভেবেই এই ধরনের আইন দেশের প্রাথমিক কাজের ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অঙ্গ বলেই নেওয়া হতে চলেছে.