বিশ্বের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে মহাজাগতিক অন্তিমকাল, যেখানে একই সঙ্গে জল, বায়ু, ভূমি ও আগুন তাণ্ডবে লিপ্ত হবে, এই রকমই একটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সুদূর প্রাচ্য রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রফেসর আলেকজান্ডার পানিচেভ ও আলেকজান্ডার গুলকভ. আসন্ন শেষের সে দিনে আমাদের পরিচিত বিশ্বের জন্য কোন সুযোগই থাকবে না আস্ত থাকার. নিজেদের এই ধারণাকে ও তারই সঙ্গে নিজেদের বিশ্বের সৃষ্টি ও লয় সম্পর্কে তাঁরা “পরম ও মানুষ” নামের এক বইতে লিখেছেন.

সুদূর প্রাচ্যের বিজ্ঞানীরা তিনটি বিপর্যয়ের ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ নিয়ে গবেষণা করেছেন. এই তিনটি হল “বিশ্বময় প্লাবন”, “হিমযুগ” ও ডাইনোসরদের মৃত্যুর কাল. তাঁরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই সব কটি বিপর্যয়ই একই রকমের পটভূমিতে ঘটেছে. প্রসঙ্গতঃ, এই গুলির শুরু এক সাময়িক বিশ্বজোড়া ঘটনার সঙ্গেই জড়িত ছিল, যা আমাদের বিশ্বের সমস্ত জীব জগতকে টলিয়ে দিয়েছে ও নানা রকমের জীবের গণ মৃত্যুর কারণ হয়েছে.

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দুই প্রফেসর পানিচেভ ও গুলকভ এক খুব কম জানা বাস্তব বিষয়ের কথা মনে করেছেন. ১৯৮৫ সালে এটা আবিষ্কার করেছিলেন সোভিয়েত মহাকাশচারী ভ্লাদিমির ঝানিবেকভ. মহাকাশে থাকার সময়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, ভরহীণ অবস্থায় কোন রকমের চলার সময়ে পদার্থ হঠাত্ করেই নিজেদের অক্ষরেখার পাশে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে যায়.

বিজ্ঞানীরা প্রস্তাব করেছেন যে, এই “ঝানিবেকভ আবিষ্কৃত ধর্ম” আমাদের বিশ্বে এই সব বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে সমর্থ. সম্ভবতঃ আমাদের পৃথিবীও এই ধরনের ভরহীণ অবস্থায় “ডিগবাজি” খেয়েছিল. এই সময়ে আবার বিশ্ব তার অক্ষ রেখার পাশে ঘোরার দিকও পাল্টেছিল. এখন যদি বিশ্ব তার অক্ষরেখার চার পাশে বাম দিকে পাক খেতে থাকে, তবে এই “ডিগবাজি” খাওয়ার পরে পাক খাওয়া শুরু করতে পারে ডান দিকে. এই অক্ষরেখার পাশে দিক পরিবর্তন নিয়ে তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে সমর্থ হয়, কেন আমাদেরই সৌর মণ্ডলের কিছু গ্রহ পৃথিবীর সঙ্গে তুলনায় উল্টো দিকে পাক খাচ্ছে. সম্ভবতঃ, তারাও এই রকমের “ডিগবাজি” খেয়েছে, কিন্তু তা আমাদের গ্রহের সঙ্গে একসাথে ঘটে নি.

এই রকমের “অক্ষ রেখার পাশ ঘুরে উল্টো পাক খাওয়ার” ফলে বিশ্বে আমাদের চেনা জীবনের শেষ হতেই পারে বলে উল্লেখ করেছেন পানিচেভ ও গুলকভ. বন, মাটি সবই এই সময়ে ছিটকে উঠে যাবে আকাশে, অনেক দূর অবধি তারা উড়ে গিয়ে একেবারে ঢিপি হয়ে পড়বে নীচু জায়গায়. কয়েক লক্ষ বছর পরে এই বিশাল ঢিপি গুলিই পাথুরে কয়লার খনি হবে. পৃথিবীর “ডিগবাজি” খাওয়ার পরে বিশাল সামুদ্রিক ঢেউ ত্সুনামির মতো সারা বিশ্বকে ডুবিয়ে দেবে আর হবে সারা বিশ্বজোড়া প্লাবন. তার পরে বিজ্ঞানীদের মতে শুধু খুবই উঁচু পাহাড়ী জায়গা গুলি অক্ষত থাকবে.

“ডিগবাজি” খাওয়ার পরে বিশ্ব কেঁপে উঠবে, তার থেকে বেরিয়ে আসবে লাভা ও আগুন. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার ঢেকে দেবে ছাই ও ধুলা, সূর্যের আলোই পৃথিবীতে পৌঁছতে পারবে না. বহু হাজার বছর ধরে সেখানে নতুন “হিম যুগের” শুরু হবে. বেশীর ভাগ জীবন্ত কোষই মরতে বাধ্য হবে.

আমাদের পৃথিবীতে এই ধরনের বিপর্যয়ের ঘটনার বহু প্রমাণ উপস্থিত রয়েছে বলে গুলকভ ও পানিচেভ মনে করেন. তারই একটি প্রমাণ বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন সামুদ্রিক জমা অবশিষ্টাংশ থেকে খুবই হঠাত্ করে মহাদেশীয় অবশিষ্টাংশ পৃথিবীতে দেখতে পাওয়াকে. খুবই প্রবল শক্তি সম্পন্ন আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণের ফল হিসাবে মনে করা যেতে পারে ব্যাসাল্ট পাথরের উপত্যকার উপস্থিতি, যা সেই সময়েই তৈরী হয়েছিল, যা গুলকভ ও পানিচেভ হিসাব করে দেখেছেন বিপর্যয়ের কাল বলে. ডাইনোসরদের বিশাল স্তর হয়ে থাকা কঙ্কালের সারিও ও ত্সুনামির প্রমাণ ছাড়া আর কিই বা হতে পারে?

“আমাদের কোন রকমের সন্দেহের অবকাশ নেই যে, এই ধরনের ঘটনার শৃঙ্খল আবারও হবে”, - এই কথা বলেছেন সুদূর প্রাচ্যের বিজ্ঞানীরা. কিন্তু তা কবে হতে পারে? তাঁদের হিসাব অনুযায়ী পৃথিবীতে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২ কোটি ৩০ থেকে তিন কোটি বছর পরে প্রতিবারে. শেষ যেটি হয়েছিল, তা হয়েছিল আজ থেকে আড়াই কোটি বছর আগে. সুতরাং বলা যেতে পারে যে, বিশ্বের আর একটি ডিগবাজি খাওয়ার সময় এবারে এগিয়ে এসেছে ও গুলকভ ও পানিচেভ মনে করেন, তা হতে পারে এখন যে কোন দিনই.