ভারত তৈরী হচ্ছে বিশ্ব জোড়া জাহাজের উপরে নামা ওঠার উপযুক্ত ছশো কোটি ডলারেরও বেশী মূল্যের হেলিকপ্টার কেনার টেন্ডার ঘোষণার জন্য. ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দেশের সামরিক নৌবাহিনীর উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে জানিয়েছে. রাশিয়া আপাততঃ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সম্বন্ধে কোন রকমের ঘোষণা করে নি, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন: বিজয়ের সম্ভাবনা আমাদের আছে.

সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ভারতীয় সামুদ্রিক নৌবাহিনী ইতিমধ্যে বিশ্বের সমস্ত উত্পাদককে এই ধরনের হেলিকপ্টারের প্রযুক্তিগত তথ্য পাঠাতে আহ্বান করেছে. এর পরবর্তী পদক্ষেপ – এই ধরনের যন্ত্র সরবরাহের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখা. ভারতের সামরিক বাহিনীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২০টি এই ধরনের জাহাজে ওঠা নামায় সক্ষম সর্বাধুনিক হেলিকপ্টার কেনার কথা. তাদের কাজ হবে জাহাজ বিরোধী অপারেশন করা, জলের নীচের ও উপরের লক্ষ্য ধ্বংস করা, আর তারই সঙ্গে বিশেষ বাহিনীকে যুদ্ধের সময়ে সহায়তা করা. আশা করা হয়েছে যে, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হেলিকপ্টার তৈরীর কোম্পানীগুলি, যেমন, “ইউরোকপ্টার” ও “সিকোরস্কি”.

রসআবারোনএক্সপোর্ট সংস্থার এই ধরনের লাভজনক চুক্তির ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ নিয়ে আপাততঃ কিছুই জানা নেই. তারই মধ্যে রাশিয়ার কাছে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সহকর্মী দেশকে প্রস্তাব করার মতো সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক কিছুই আছে. যেমন, কামভ কোম্পানীর হেলিকপ্টার, এই কথা উল্লেখ করে সামরিক –শিল্প পরিষদের সামাজিক সভার সদস্য মিখাইল খদারিয়েনক বলেছেন:

“এটা কা – ২৭ ধরনের হেলিকপ্টার ও নানা ধরনের মডেলের কা – ৫২ ধরনের হেলিকপ্টার সম্বন্ধে বলা যেতে পারে, যে গুলি জাহাজের উপরে ওঠা নামায় সক্ষম. তাদের কতটা বেশী সম্ভাবনা রয়েছে, তা এখনও বলা কঠিন. তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে খুবই উচিত্ হবে এই টেন্ডারে অংশ নেওয়া, আমাদের জন্যও সম্ভাবনা রয়েছে. আমরা কিছু সময়ে আমাদের সামরিক অস্ত্রের বেশী ভাল দিক গুলি সম্বন্ধে প্রচারের ক্যাম্পেনে পিছিয়ে থাকি. এই কাজকে দেখাই যাচ্ছে যে, জোরদার করা দরকার”.

বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর আওতায় রয়েছে পুরনো হয়ে যাওয়া সি কিং ধরনের হেলিকপ্টার, যা কেনা হয়েছিল সেই গত শতকের আশির দশকে. আর তাই এই হেলিকপ্টার পার্ক নতুন করে করা, একটা সবচেয়ে বাস্তব কাজেই বর্তমানে পরিণত হয়েছে, কারণ নয়া দিল্লী চেয়েছে সামরিক যুদ্ধ জাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের এলাকাও বৃদ্ধি করা.

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্ষমতার বিস্তার ও আধুনিকীকরণের প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে যে, এই বিশাল বাজারে সমরাস্ত্রের বিষয়েও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে. মস্কোয় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অজয় মলহোত্রর মতে, রাশিয়া অন্যান্য দেশ থেকে আসা সমরাস্ত্র নির্মাতাদের পক্ষ থেকে খুবই কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সামনে উপস্থিত হয়েছে. বিগত সময়ে বেশ কিছু টেন্ডারে হার হয়েছে.

তা স্বত্ত্বেও রাশিয়া – ভারত স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা বিষয়ে সামরিক ক্ষেত্র এক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকই রয়ে গিয়েছে. নয়াদিল্লীতে আগের মতই রাশিয়াকে এক সবচেয়ে ভরসা যোগ্য সরবরাহকারী দেশ বলেই মনে করা হয়, যাদের জিনিষ ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে চাহিদা পূর্ণ করতে সক্ষম. এই দেশের সমরাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বহু শত রুশ বিমান ও হেলিকপ্টার, ডুবোজাহাজ, অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতি. কিছুদিন আগে মস্কো ও নয়া দিল্লী ভারতে মি – ১৭ভে-৫ হেলিকপ্টার ও সু – ৩০ এমকাই বিমান নির্মাণের জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার চুক্তি করেছে প্রায় তিনশ কোটি ডলার অর্থমূল্যের. আর এর আগে ভারত এই ধরনের ২৩০টি বিমান কিনেছে প্রায় সাড়ে আটশো কোটি ডলার দিয়ে. সুতরাং দুই পক্ষের ভবিষ্য ত সম্ভাবনা খুবই প্রভাব ফেলার মতো, বলে মনে করে পিতৃভূমির সমরাস্ত্র ভাণ্ডার জার্নালের প্রধান সম্পাদক ভিক্টর মুরাখোভস্কি বলেছেন:

“আমরা নতুন ধরনের সামরিক – প্রযুক্তি সহযোগিতার কাঠামোর দিকে এগিয়ে চলেছি: যৌথভাবে উত্পাদন ও প্রযুক্তি বিষয়ে আলাদা সব অস্ত্র ও রসদের জন্য প্রকৌশল বিনিময় নিয়ে. এটা সাধারন বিক্রী করা ও কেনা হল ধরনের কাঠামোর থেকে সম্পূর্ণ অন্য.এই ধরনের সহযোগিতার অভিজ্ঞতা আমাদের অন্য কোনও একটি দেশের সঙ্গেও নেই”.

একটি বিশাল দিক বলে দুই পক্ষ মনে করে থাকে সম্মিলিত ভাবে আবিষ্কারে বিকাশ. আজ প্রায় ১৫ বছর ধরে রুশ ভারত যৌথ প্রকল্প “ব্রামোস” কাজ করছে, যারা একই নামের শব্দাতীত ব্যালিস্টিক মিসাইল উত্পাদন করে থাকে. এই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা নানা রকমের শিল্প ক্ষেত্রে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে. এই ক্ষেত্রে খুবই ইতিবাচক ভাবে মূল্যায়ণ করা হয়েছে রাশিয়ার সামুদ্রিক বন্দরে ভারতীয় সামরিক নৌবহরের যুদ্ধ জাহাজ গুলির মেরামত ও আধুনিকীকরণের কাজ. যেমন ২৯শে জানুয়ারী রাশিয়ার শ্বেত সমুদ্র তীরের সিয়েভেরোদ্ভিনস্ক শহরের কারখানা থেকে ভারতের ডিজেল- বিদ্যুত চালিত ডুবোজাহাজ নিজের দেশের তীরের দিকে রওয়ানা হয়েছে উত্তরে সমুদ্র পথ দিয়ে.