বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হলেও রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতের দিকে আশা নিয়েই তাকিয়ে রয়েছেন. এই ধরনের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অডিট কর্পোরেশন প্রাইস-ওয়াটার-হাউস-কুপার্স পৌঁছেছে. এই সংস্থার বিশ্লেষকরা ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার কোম্পানী গুলির শতকরা ৯৫ ভাগ, নিজেদের কোম্পানী গুলির উন্নতি সম্বন্ধে আসন্ন কয়েক বছরে বিশ্বাস ও আস্থা রাখেন.

একই সময়ে যখন বিশ্বে এই সংখ্যা একের তৃতীয়াংশের বেশী কিছুতেই হচ্ছে না, তখন শতকরা ৬৬ ভাগ রুশ ব্যবসায়ী নিজেদের সফল ভবিষ্যত নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ প্রকাশ করেন নি. দীর্ঘস্থায়ী বিকাশ – যা আগামী তিন বছরের মধ্যে হওয়ার কথা – তা নিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন শতকরা ৮৮ ভাগ রুশ কোম্পানীর প্রধানরা. রাশিয়ার লোকদের এই আশাবাদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, বহু দেশের সঙ্গে তুলনায় নিজেদের দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেই দেখা হয়েছে. এর সঙ্গে যোগ করা যেতে পারে খুবই বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের বাজারের কথা, সফল ঋণের ব্যবস্থা, জিনিষপত্রের পূর্বাভাস যোগ্য ও স্বল্প মূল্য বৃদ্ধি. আর এটাও ঠিক যে, রাশিয়ার অর্থনীতির প্রধান বিভাগ গুলি স্থিতিশীল ভাবেই উন্নতি করছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা ও পূর্বাভাস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গুসেভ বলেছেন:

“খনিজ তেল ও গ্যাসের শিল্প, ভারী যন্ত্র নির্মাণ শিল্প, খনিজ দ্রব্যের উত্তোলন... আর এর সঙ্গে মনে করা যেতে পারে যেমন, পরিমাপ ও সূক্ষ্ম যন্ত্র নির্মাণ, বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতির শিল্প, কৃষি কাজ ইত্যাদি যা বিগত সময়ে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গতিতেই বৃদ্ধি পেয়েছে, এই গুলির কথা. আবার যেমন মত্স শিল্প, যা বহু শতাব্দী ধরেই রাশিয়াতে একটি প্রধান শিল্প ছিল ও যে শিল্প বিদেশেও যথেষ্ট পরিমানে চাহিদা তৈরী করতে পেরেছে, সেটিও রয়েছে. এই শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে ও এর উন্নতির জন্য বিদেশী মূলধনও পাওয়া যেতে পারে”.

রাশিয়া ব্যবসায়ীদের দৃঢ় আস্থার সঙ্গে যোগ হয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের সরকারগুলির সঙ্কট বিরোধী নানা ব্যবস্থার প্রভাব. অংশতঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম তৈরী হয়েছে শেয়ার বাজার থেকে এক লক্ষ কোটি ডলারের বেশী শেয়ার কিনে নেওয়ার জন্য. এটা কোম্পানী গুলির হাতের বাঁধন খুলে দেবে, তাদের কাছে অর্থের যোগান আসবে ও তাদের পক্ষে সম্ভব হবে, কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করার. ইউরোপীয় এলাকাও যথেষ্ট আশা ব্যঞ্জক. এটা ঠিক যে, কোন ভাবেই এখন ঢিলে দেওয়া যেতে পারে না, অনেকটাই এখনও নির্ভর করছে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, তেমনই ইউরোপে সমাধান করার. এক সাবধানী আশার সুর নিয়ে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক দিমিত্রি আলেকসান্দ্রভ বলেছেন:

“এই সঙ্কেত খুবই ভাল. সেই সব বাড়তি আশঙ্কা গুলিকে পার হয়ে আসা সম্ভব হয়েছে যে, ইউরোপের সঙ্কট এক অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতিতেই বেড়ে যেতে পারে. আমি মনে করি যে, এই বছরের মধ্যেই এমন সময় আসবে, যখন আমাদের মনে হবে অন্তত আবার সব খুবই দ্রুত খারাপ হতে চলেছে ও আমরা নতুন এক সঙ্কটের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছি, যা এমনকি হতে পারে আঞ্চলিক ভাবেও. কিন্তু, নীতিগত ভাবে, ইউরো অঞ্চলে সঙ্কটের সব থেকে তীক্ষ্ণ পরিস্থিতি পার হয়ে আসা সম্ভব হয়েছে”.

এই ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে না যে, রাশিয়ার ব্যবসা কোন অপেক্ষায় বসে রয়েছে যে, যতদিন না সঙ্কট মুক্ত হয়ে দেশ গুলি রাশিয়াতে বিনিয়োগ করা শুরু করবে, তার জন্য. রাশিয়ার ব্যবসায়ীরা, দেশে বিদেশীদের চেয়ে বেশী বিনিয়োগ করছেন. গত সপ্তাহে দাভোস শহরে ঘটে যাওয়া বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে রাশিয়ার প্রধান মন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন যে, গত বছরে মূল বিনিয়োগের পরিমান – আর এটা প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলার – এসেছে রাশিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই.