রাশিয়াতে এক সময়ে নির্মিত ভারতের ডিজেল-বিদ্যুত চালিত ডুবোজাহাজ “সিন্ধুরক্ষক” রাশিয়ার সিয়েভেরোদ্ভিনস্ক শহরে আধুনিকীকরণ হওয়ার পরে মঙ্গলবারে নিজেই ভারতের স্থায়ী ঘাঁটি বিশাখাপত্তনম বন্দরের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই ডুবোজাহাজ শ্বেত সমুদ্র পার হয়ে বরফাবৃত সমুদ্র পৃষ্ঠ অতিক্রম করে যাচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন জায়গায় বরফের আচ্ছাদনের প্রস্থ তিন মিটারের চেয়েও বেশী. “সিন্ধুরক্ষকের” জন্য অপেক্ষায় রয়েছে জলে ভেসে থাকা হিমশৈল ও জলের নীচের বরফের পাহাড়. এই সবের সঙ্গে ধাক্কা লাগলেই ভাল হওয়ার মতো কিছু থাকবে না এই ডুবোজাহাজের জন্য, তার ওপরে রয়েছে প্রবল ঠাণ্ডা ও দেহ ভেদ করা কনকনে শৈত্য প্রবাহ, যা গরমের দেশে অভ্যস্ত ভারতীয় নাবিকদের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা. শ্বেত সমুদ্রে এই জাহাজের জন্য পথ করে দিতে আগে চলেছে রাশিয়ার বরফ ভাঙা জাহাজ “ডিকসন” ও গাধাবোট “ভিতিয়াজ”. রাশিয়ার সামরিক বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন অন্যান্য সব রুশ মানুষের মতই এই জাহাজ ও তার নাবিকদের জন্য কামনা করেছেন সৌভাগ্য, তিনি আরও বলেছেন:

“রাশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল সময়মতো ও নিজেদের উপরে ন্যস্ত মেরামত ও আধুনিকীকরণের কাজ ভারতকে আগে সরবরাহ করা ডুবোজাহাজ গুলির জন্য করা, কারণ আসন্ন ভবিষ্যতে আশা করা হয়েছে যে, ভারত একটি নতুন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে চলেছে নতুন ডিজেল- বিদ্যুত চালিত ডুবোজাহাজ সরবরাহের জন্য. এখানে রুশ ও ফরাসী ডুবোজাহাজ নির্মাতা কোম্পানী গুলির মধ্যে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে. এই প্রতিযোগিতা খুবই সংজ্ঞাবহ হবে. আর রাশিয়া, অবশ্যই দেখাতে চাইছে যে, তারা এই ক্ষেত্রে ভাল সহকর্মী হবে এবং তাদের পক্ষে সম্ভব হবে সময়মতো সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মেরামত ও আধুনিকীকরণ করে দেওয়া”.

“সিন্ধু রক্ষক” - ভারতে পাঠানো “৮৭৭ একেএম” প্রকল্প অনুযায়ী তৈরী পঞ্চম ডিজেল- বিদ্যুত চালিত ডুবোজাহাজ, যা রাশিয়ার সিয়েভেরোদ্ভিনস্ক শহরে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে. ১৯৯৭ সাল থেকে এই কারখানায় ভারতীয় নৌবাহিনীর বায়না অনুযায়ী চারটি ডুবোজাহাজ আধুনিকীকরণ করে দেওয়া হয়েছে – “সিন্ধুবীর”, “সিন্ধুরত্ন”, “সিন্ধুঘোষ” ও “সিন্ধুবিজয়”. এই প্রকল্পে তৈরী ডুবোজাহাজ গুলি তৈরী করা হয়েছে প্রতিপক্ষের জাহাজ ও ডুবোজাহাজের সঙ্গে লড়াই করার জন্য, আর তারই সঙ্গে নিজেদের সামরিক নৌবাহিনীর ঘাঁটি, সীমান্ত ও সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, গুপ্তচর ও পাহারাদার জাহাজের কাজকর্ম রক্ষা করার জন্যে.

এই ডুবোজাহাজে আধুনিক “এস – ক্লাবের” রকেট ব্যবস্থা বসানো হয়েছে, রয়েছে আরও ভাল রকমের ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা এবং রেডিও অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা “পোরপেস”. গত বছরের নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে শ্বেত সমুদ্রের কাছে প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে এই জাহাজ সাফল্যের সঙ্গে কারখানার পরীক্ষা গুলি পার হতে পেরেছে ও তার মধ্যে জাহাজের টর্পেডো- রকেট অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষাও করা হয়েছিল.

আজ ভারতের নৌবাহিনীর এক্তিয়ারে রয়েছে দশটি “কিলো” ক্লাসের রাশিয়ায় তৈরী ডুবোজাহাজ, চারটি জার্মানীতে নির্মিত “২১২ প্রকল্পের” ডুবোজাহাজ ও রুশ প্রজাতন্ত্র থেকে দশ বছরের জন্য ভাড়া করে নেওয়া পারমানবিক ডুবোজাহাজ “নেরপা”. ভারতীয় নৌবাহিনীতে এই ডুবোজাহাজকে নাম দেওয়া হয়েছে “চক্র”. ভারতের আরও রয়েছে নিজেদের পারমানবিক ডুবোজাহাজ “আরিহান্ত”, যা ভারতের জাহাজ নির্মাতারা তৈরী করেছেন.

0আসন্ন সময়ে ভারত ঠিক করেছে আরও ছটি ডিজেল- বিদ্যুত চালিত ডুবোজাহাজ ক্রয় করার, যার জন্য ব্যয় করতে তৈরী আছে এক হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত. এই খবর দিয়েছেন ভারতীয় নৌবাহিনীর সদর দপ্তরের প্রধান অ্যাডমিরাল দেবেন্দ্র কুমার যোশী. তাঁর কথামতো, ডুবোজাহাজ সরবরাহের জন্য “এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে”. এখন অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারত নতুন প্রজন্মের ডুবোজাহাজ পেতে চায়, যেখানে বাইরের হাওয়ার উপরে নির্ভরশীল নয়, এমন এঞ্জিন থাকবে. রাশিয়া নিজেদের পক্ষ থেকে “আমুর” ধরনের ডুবোজাহাজ প্রস্তাব করতে পারে, যার এঞ্জিন আবহাওয়া থেকে পাওয়া হাওয়া ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম. এই ধরনের বিষয় “আমুর” ধরনের ডুবোজাহাজকে পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজের সম্ভাবনার সঙ্গে প্রায় সমকক্ষ করতে পারে.