চা উত্পাদনকারীদের আন্তর্জাতিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করার কথা ঘোষনা করে ঐ জোট চায়ের বাজার ভাগযোগ করে নেওয়ার কথাই ঘোষনা করলো. কিন্তু ঐ পরিকল্পনা রূপায়িত করা সহজসাধ্য হবে না. জোটের বাইরে থেকে যাওয়া বড় চা উত্পাদক দেশগুলি কোনোমতেই মানবে না তাদের উপর আরোপ করা শর্তাবলী.

ইন্টারন্যাশন্যাল টি প্রোডিউসার্স ফোরামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ৬টি দেশ, যারা পৃথিবীতে অর্ধেকের বেশি চা উত্পাদন করে – ভারত, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, রুয়ান্ডা ও মালাভি. জোটের নেতৃপদ অধিকার করেছে ভারত ও সদর-দপ্তর খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়. নতুন জোটের সদস্যরা ঘোষনা করেছে, যে তাদের উত্পাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ন্যায্য দাম পাচ্ছে না এবং দাম বাড়ানো জরুরী.

চীন, ভিয়েতনাম, তুরস্ক ও ইরান – যারা বাকি অর্ধেক চা উত্পন্ন করে পৃথিবীতে, তাদের প্রতিক্রিয়া কি হবে – সেটা এখনো বোঝা যাচ্ছে না. কিন্তু তাদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে, এবং তারাও পাল্টা চায়ের জোট বাঁধতে পারে. এতদিন পর্যন্ত চা উত্পাদনের দিক দিয়ে চীন সবার চেয়ে এগিয়ে ছিল. জাতিসংঘের খাদ্যদ্রব্য সংস্থা প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, চীন প্রতিবছর প্রায় ১৫ লক্ষ টন চা বাজারে বিক্রি করে. ভারত বরাবর দ্বিতীয় স্থানে থাকে – দশ লক্ষ টনের সামান্য কম চা বাজারে বিক্রি করে ভারত. খুব সম্ভবতঃ ভারতের উদ্যোগেই উপরোক্ত জোট গড়া হয়েছে, চীনকে শীর্ষস্থান থেকে হটানোর উদ্দেশ্যে ও একইসঙ্গে বাজারে চায়ের দর নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে.

এখানে নির্ঘাত সমস্যার সৃষ্টি হবে – এই দৃঢ় মত পোষন করেন রাশিয়ার চা ও কফি উত্পাদকদের সংস্থার প্রধান রামাজ চানতুরিয়া. –

বোঝা যাচ্ছে, যে উদ্যোগটা শুভ, কিন্তু নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে বা কৃত্রিম ঘাটতি সৃষ্টি করে চায়ের দর বাড়ানো মনে হয় সম্ভব হবে না. সব সময়ই এমন সব দেশ হাজির হবে, যারা এই সুযোগে বরাদ্দের বেশি চা বিক্রি করে বাজেটের জন্য বাড়তি আয় করতে সক্রিয় হবে. গত ২০-৩০ বছরের মধ্যে কোনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেই এরকম জোটভিত্তিক বোঝাপড়া কোনো কাজে লাগেনি.

বিশ্বের চায়ের বাজারে কোনো একটা জোটের কায়েমী স্বার্থের পক্ষে আরও প্রতিবন্ধকতা আছে. যেমন, ক্রেতা দেশগুলির বাণিজ্যিক পরিকাঠামো. রাশিয়া নিজেই সারা পৃথিবী থেকে চা কেনে এবং তার ৮৫ শতাংশ প্যাকিং করা হয় এদেশে. তার মানে, রাশিয়া নির্দিষ্ট কোনো একটি দেশের উপর নির্ভরশীল নয়. দামের ওঠানামা হতে থাকলে রাশিয়ার চা বন্টনকারীরা এক নীলাম ছেড়ে অন্য নীলামে অংশ নিতে পারে, যাতে চায়ের দামে তেমন তারতম্য না ঘটে. ইউরোপেও পরিস্থিতি মোটামুটি সেইরকমই. সেখানেও ব্যবহৃত চা প্যাক করা হয় স্থানীয় কারখানাগুলোতে.

আর শুধু ভারত, শ্রীলঙ্কা, চীন এবং রুয়ান্ডাই চা উত্পন্ন করে না, সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪০টি দেশ চা উত্পন্ন করে. ইদানীং অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো দেশে চা বাগানের বহর বাড়ছে. যদিও ঐসব দেশের পক্ষে চা উত্পাদকদের জোটের সদস্যদের ফসলের পরিমান ছোঁয়া সুদূর স্বপ্ন মাত্র, কিন্তু সার্বজনীন চা পানের আসর বসলে, তারাও সুযোগ নিতে ছাড়বে না.