অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাশিয়ার অ্যাডভেঞ্চার ভক্তদের অভূতপূর্ব ভ্রমণ সুসম্পন্ন হয়েছে. ১০-১২ শতকে স্লাভিয়ানদের তৈরী করা কাঠের নৌকার আদলে বানানো ‘রুসিচে’ চড়ে তারা সাগর ও মহাসাগর দিয়ে ২৬ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে. রুসিচের ক্যাপ্টেন সের্গেই সিনেলনিকের কথায় – এরকম নৌকায় চড়ে এর আগে আর কেউ রাশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেয়নি.

হ্যাঁ, অবশ্যই প্রাচীনকালে স্লাভিয়ানদের নৌকা কখনো সবুজ মহাদেশে পৌঁছায়নি. কিন্তু রাশিয়ার সমুদ্র অভিযাত্রীরা প্রমাণ করে দিল, যে সেটা সেযুগে সম্ভবপর ছিল.

ভ্রমণ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে ভোলগা নদীর তীর থেকে. রুসিচ কৃষ্ণ সাগর, ভূমধ্য সাগর ও লোহিত সাগর পার হয়ে, ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে. পথে অভিযাত্রীরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে নোঙর করেছিল. অবশ্যই, সবকিছু নির্বিবাদে হয়নি. ওমানে ও থাইল্যান্ডে নোঙর করে নৌকার মেরামতি করতে হয়েছে. তবে রুসিচ তার লক্ষ্য সাধন করেছে. এই সম্পর্কে বলছেন পৃথিবী পরিক্রমা তহবিলের প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভগেনি অর্লোভ. –

এই নৌকাটি প্রচন্ড গরম ও বিশাল ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে সমর্থ হয়েছে. রিফে বসে থাকতে হয়েছে বটে, কিন্তু সাফল্যের সাথে রিফ থেকে উত্তোরনও করা গেছে. বলা যেতে পারে, যে প্রাচীনকালের স্লাভিয়ানদের মতো নৌকা ‘রুসিচে’ চড়ে গোটা পৃথিবীও পরিক্রমা করা সম্ভব. এবারে নৌকাটি তিন তিনটি মহাসাগর – আটল্যান্টিক, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত পৌঁছেছে. অবশ্যই আমাদের ইচ্ছা ছিল পৃথিবী পরিক্রমা করার. কিন্তু সেটা নৌকার সমস্যা নয়, সমস্যাটা আর্থিক.

যে কোনো সমুদ্র অভিযাত্রীই কাঠের নৌকা চড়ে মহাসমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেবে না. ‘রুসিচে’র অভিযাত্রী দলের কীর্তির মূল্যায়ণ করে ইয়েভগেনি অর্লোভ বলছেন – ইতিহাসে হাতে গোনা সেরকম উদাহরন আছে. –

আমরা এই সমুদ্রযাত্রাকে তুলনা করতে পারি টিম সেভেরিনের ‘ব্রেনডানে’ চড়ে অভিযানের সঙ্গে. ঐ প্রখ্যাত আইরিশ পর্যটক এমন নৌকা তৈরী করেছিলেন, যেমন জলযানে চড়ে অতীতে সন্ন্যাসীরা উত্তরের সাগরগুলি দিয়ে ভ্রমণ করতেন. ঐ নৌকা আগাগোড়া মোড়ানো ছিল চামড়া দিয়ে. ঐ নৌকায় চড়ে লালচুলো এরিক কলম্বাসের ৩০০ বছর আগে আমেরিকায় গিয়ে পৌঁছেছিল ও ঐ মহাদেশ আবিষ্কার করেছিল. তারপরে অবশ্যই মাথায় আসে টুর হেইয়েরডালের অভিযান – নরওয়ের ঐ মহান বিজ্ঞানী ‘কোন-টিকি’ ও ‘রু’ নামক নৌকায় চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন. ‘রুসিচে’ চড়ে অভিযানও ঐ গোত্রের.

রুসিচের ক্যাপটেন সের্গেই সিনেলনিক ফিনিশের সময় তার ভাবাবেগ লুকাতে পারেননি. তিনি বা দলের কেউই এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না, যে তারা কাঠের নৌকা চড়ে অর্ধেক পৃথিবী অতিক্রম করতে পেরেছেন. ক্যাপ্টেন বলেছেন – “আমরা ভোলগার তীরের সাথে দক্ষিণ গোলার্ধের মেলবন্ধন ঘটিয়েছি”.

সিনেলনিক ভ্রাতৃদ্বয় – সের্গেই ও আলেক্সান্দর বহু অভিযানে অংশ নিয়েছেন. তারা বিশ্বে প্রথম ‘উরাল’ মার্কা মোটরবাইকে চড়ে পৃথিবী পরিক্রমা করেছেন ৭৫ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে. পশ্চিম সাহারা মরুভূমিতে পায়ে হেঁটে ১ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন তারা. এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার উচ্চতম গিরিশৃঙ্গগুলিতে আরোহন করেছেন. অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেরার পরে সিনেলনিক ভাইয়েরা উত্তর মেরু পাড়ি দেওয়ার জন্য বিশেষ নৌকা বানাতে চান.