কাশ্মীর ধীরে হলেও শান্তির জীবনে ফিরে এসেছে. সোমবারে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুটি সীমান্ত পারাপার হওয়ার জায়গা খুলে দেওয়া হয়েছে. একই সঙ্গে এখানে নিয়মিত বাস চলাচলের ব্যবস্থা আবারও চালু করা হয়েছে পুঞ্চ – রাওয়ালকোট রুটে. এখানে সীমান্ত পার করে ব্যবসাও আবার জীবনে ফিরেছে. সমস্ত প্রশ্নেরই সমাধান করা শুর হয়েছে, যা কয়েকদিন আগে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে স্থগিত রাখা হয়েছিল. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব, যারা কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রয়েছেন, তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে অগ্নি সম্বরণ ও এই সঙ্কট বাড়তে না দেওয়া. উত্তেজনা কমে আসছে.সোমবারে ভারত থেকে পাকিস্তানের অংশে বাড়ী ফিরে এসেছেন ৮৫ জন. এই সঙ্কট তাঁদের নিজেদের ভারতীয় আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে আটকে রেখেছিল, যাঁদের কাছে তাঁরা পৌঁছেছিলেন সীমান্ত পারাপার বন্ধ হওয়ার আগেই. প্রায় তত জনই ভারতীয় এই দিন ফিরেছেন পাকিস্তান থেকে. ২৯শে জানুয়ারী পাক ভারত সীমান্ত বাণিজ্যও আবার করে শুরু হয়েছে. এই বিষয়ে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“যখন ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে, তখন সবার আগে পুনর্বহাল হয় সীমান্ত বরাবর বাণিজ্য ও কাশ্মীরের অংশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত আবার করে শুরু হয়, যা ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের দখলে রেখেছে. ভবিষ্যত নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া যেতে পারে যে, যদি কাশ্মীরের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়, তবে তা সমাধান হবে প্রাথমিক ভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতার কাঠামোর মধ্যেই. অর্থাত্ বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই, পরিবহন যোগাযোগ ও সাধারন মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনের ফলেই, যাঁরা আজ কাশ্মীরে রয়েছেন”.

ব্রিটিশ ভারত ভাগের সময় থেকে ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মত নব গঠিত রাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কয়েকবার প্রসারিত যুদ্ধ হয়েছে, আর তারই সঙ্গে অসংখ্য ছোট সীমান্ত বরাবর বিরোধ হয়েছে. সবচেয়ে গুরুতর ছিল কাশ্মীরের কারগিল এলাকায় ১৯৯৯ সালের যুদ্ধ. তখন দুই তরফই সীমান্তের কাছে সব মিলিয়ে দশ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছিল. পাকিস্তান ভয় পেয়েছিল যে, ভারতের সেনাবাহিনী, সংখ্যায় বেশী বলে তাদের দেশের মধ্যে অনেক ভিতরে চলে আসবে. এই হানার উত্তর হতে পারত এমনকি পারমানবিক বোমার আঘাত. এই বিষয়ে নিজের জীবন স্মৃতিতে লিখেছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মুশারফ. সুখের কথা হল যে, এই সব সময় অতীতে চলে গিয়েছে, যদিও দুই দেশেই এখনও অনেক লোক রয়েছেন, যারা অস্ত্র ধারণে প্রস্তুত. কিছুদিন আগের রক্তাক্ত ঘটনা – যা কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর হয়েছে, তা এটারই প্রমাণ. সুখের কথা হল যে, দিল্লী ও ইসলামাবাদে আবেগকে বোধের উপরে প্রভাব ফেলতে দেওয়া হয় নি. ভারত ও পাকিস্তান এই বিরোধ নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা থেকে বেরিয়ে যায় নি.