রবিবারে ভারতে এক মাঝারি পাল্লার রকেট কে – ৫ বঙ্গোপসাগরে অন্ধ্র প্রদেশের কাছে কোন এক অনুল্লিখিত জলের নীচের প্ল্যাটফর্ম থেকে উড়ান সফল ভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, এই ধরনের রকেট এক টন অবধি বোমা বয়ে নিয়ে যেতে পারে ও এই রকেট ৭০০ কিলোমিটার দূরের একটি লক্ষ্য ভেদ করতেও সক্ষম হয়েছে.

গত বছরের আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল অগ্নি – ৫, যা পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশী দূরত্ব অতিক্রম করে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম, সেই পরীক্ষার পটভূমিতে ও এই ধরনের জল তল থেকে চোদ্দটি রকেট পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এই খবরকে যথেষ্ট সাধারন বলেই মনে হতে পারে. কিন্তু বিষয় হল যে, এটা সামুদ্রিক এলাকা থেকে ছোঁড়া রকেটের প্রথম উড়ান, যার খবর গোপন রাখার চেষ্টা করা হয় নি. এই ভাবেই ভারত একেবারেই কোন দ্বন্দ্ব না রেখেই ঘোষণা করেছে যে, তারা খুবই কাছাকাছি এসে পড়েছে জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষ থেকে পারমানবিক ত্রয়ী শক্তি লাভের. ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম গুলির খবর অনুযায়ী কে – ৫ ধরনের রকেট পারমানবিক ডুবোজাহাজ আরিহান্ত এর ভিতরে রাখা হতে পারে, যা ভারত নিজেরাই তৈরী করছে ও তা তৈরীর কাজ বর্তমানে শেষের কাছে.

কে – ৫ ধরনের রকেট উড়ানের খবর খুবই সচেষ্ট ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে সেই প্রশ্নের উত্তর, যে এর ভূ- রাজনৈতিক অর্থ কি হতে পারে. আর, যেমন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংস্থা স্রেফ পুরনো বোকা এক বাক্য এই সম্বন্ধে বলেই চলেছে যে, ভারত ও তার প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, যাদের কাছেও পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে, তারা একেক সময়ে নিজেদের নানা ধরনের রকেট পরীক্ষা করে চলেছে ও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ভারত ও পাকিস্তান এর মধ্যেই নিজেদের মধ্যে স্বাধীনতা লাভের পরে তিনবার যুদ্ধ করেছে.

কিন্তু ব্যাপার হল যে, আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা সমুদ্রে জলের নীচের ঘাঁটি থেকে ছোঁড়া রকেট ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বা পারমানবিক কোন রকমের বিরোধের ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের জন্য দরকার নেই, তার জন্য যথেষ্ট হয় ভূমি বা অন্তরীক্ষ থেকে ছোঁড়া সম্ভব এমন পুরনো মডেলের রকেটই. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়া স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“পারমানবিক ত্রয়ী শক্তি সৃষ্টি শেষ করা ও যেমন গত বছরের অগ্নি – ৫ রকেটের পরীক্ষা অনেক বড় ও দূরের ঠিকানার কথা মনে করেই করা হয়েছে. এই সব ঘটে যাওয়া ঘটনার মূল অর্থ হল যে, ভারত বাস্তবে এক উচ্চ কোটির ক্লাবে ঢুকছে (এখন অবধি পারমানবিক ত্রয়ী শক্তির অধিকারী ছিল শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং চিন) ও এই বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থে বিশ্বের আরও এক পারমানবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হচ্ছে”.

যদি বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে ভারতের জায়গা দেখা হয়, তবে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাবে এই ধরনের রকেট পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত যে সঙ্কেত পাঠাচ্ছে বিগত কয়েক মাস ধরেই, তা শুধু একটা ঠিকানা লক্ষ্য করেই করা হয়েছে, আর সেটা হল – চিন. এই বিষয়ে আরও বেশী করে দুই পক্ষের মধ্যে জমে থাকা পুরনো সমস্যা গুলি ও দুই দেশের ভূ- রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিগত বছর গুলিতে বলে দিয়েছে.

চিন ভারতকে সক্রিয় ভাবেই ভূমি ও সমুদ্র পথে ঘিরে ফেলতে চলেছে, তারা প্রতিবেশী দেশ গুলিতে নিজেদের সহায়তার ঘাঁটিও তৈরী করছে বলে বরিস ভলখোনস্কি উল্লেখ করেছেন. ভারত আরও সক্রিয় ভাবেই দক্ষিণ চিন সাগর ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার কাজে অংশ নিয়েছে, যেখানে সংযুক্ত ভাবে চিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির সঙ্গে সামুদ্রিক সামরিক মহড়া করেছে এবং তাদের সঙ্গে যৌথ ভাবে অর্থনৈতিক প্রকল্প তৈরী করেছে, তার মধ্যে আবার সেই সমস্ত এলাকায়, যেখানে চিনও দাবীদার.

এই রকমের পটভূমিতে খুবই সংজ্ঞাবহ হয়েছে (এমনকি তা খানিকটা হিংসার বাণীও বয়ে এনেছে) সেই বাস্তব প্রদর্শনী যে, একই দিনে যখন ভারত নিজেদের সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে ছোঁড়া রকেট পরীক্ষা করেছে, চিনও নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরীক্ষা করেছে.

খুব কঠিন হবে বলা যে, এটা আচমকা ঘটা একটা মিলের ঘটনা অথবা চিন বিশেষ করে নিজেদের পরীক্ষা, ভারতীয় (তাহলে স্বীকার করতেই হবে যে, চিনের গুপ্তচর বিভাগ আগে থেকেই জানতো ভারতীয় পরিকল্পনা সম্বন্ধে) পরীক্ষার সঙ্গেই করেছে. কিন্তু যাই হোক না কেন বিগত সপ্তাহান্তের ঘটনা আবার করেই প্রমাণ করে দিয়েছে যে, এশিয়াতে সমরাস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুধু চলছেই না, বরং তা আরও বিস্তৃত ভাবেই প্রসারিত হচ্ছে.