ভারত মুম্বাই হামলার প্রস্তুতকারক মার্কিন নাগরিক ডেভিড হেডলির বহিঃস্কার আদায় করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদ. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে দশ জন সন্ত্রাসবাদী পাকিস্তানের করাচী থেকে সমুদ্র পথে এসে মুম্বাইয়ের সমুদ্র তটে নেমেছিল. তারা দলে ভাগ হয়ে রাস্তায়, ক্যাফেতে, স্টেশনে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ নিধন যজ্ঞে মেতেছিল, আর তারপরে পাঁচতারা হোটেলে ঢুকে পড়ে দুই দিন ধরে এক অবর্ণনীয় আশঙ্কা ও উত্কণ্ঠায় উদগ্রীব করে রেখেছিল সারা ভারতবর্ষের মানুষদেরই ও এমনকি তারা দেশের বিশেষ পুলিশ বাহিনীকেও বাধা দিয়ে গিয়েছিল নিজেরা ধ্বংস হওয়া অবধি. এই সন্ত্রাসের ফলে ১৬৬ জন শান্তিপ্রিয় মানুষ. যাঁদের মধ্যে মুম্বাই শহরে অভ্যাগত বহু বিদেশীও ছিলেন, তাঁরা নিহত হয়েছিলেন. এক জঙ্গী আজমল কাসব ধরা পড়েছিল জীবন্ত অবস্থাতেই. ভারতের হাই কোর্ট তাকে ফাঁসীর শাস্তি দিয়েছিল.

পাকিস্তানে জন্ম আমেরিকার এই নাগরিক হেডলি শান্তিপ্রিয় লোকদের উপরে গুলি চালনা করে নি, কিন্তু সে ছিল এই সন্ত্রাসের এক মুখ্য আয়োজক. হেডলি – পাকিস্তানে জন্মান আমেরিকার নাগরিক, যে নিজের দাউদ গিলানি নাম বদলে ডেভিড কোলম্যান হেডলি নাম নিয়ে ভারতে এসেছিল, নাম বদলের কারণ ছিল যাতে স্থানীয় গোয়েন্দা বিভাগ তাকে সন্দেহ না করে. মুম্বাই শহরে সে “গুপ্তচর হিসাবে কাজ করেছিল” ও সেই সমস্ত জায়গার সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিয়েছিল, যেখানে দুই বছর পরে সন্ত্রাসবাদীরা আক্রমণ করেছিল. “তার কাজের সুবাদেই সেই সব সন্ত্রাসবাদীরা, যারা আগে কখনও মুম্বাই শহরে আসে নি, তারা এত সহজে স্থানীয় রাস্তাঘাট চিনে নিতে পেরেছিল”, - এই কথা বলা হয়েছিল সরকারি ভাবে আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সময়ে.

কাসবের মত হেডলির জন্যও অপেক্ষা করে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড. কিন্তু সে তা এড়াতে পেরেছে. আমেরিকায় তদন্তের কাজে সহায়তা করার জন্য আমেরিকার আদালত, ভারতের পক্ষ থেকে একাধিকবার চাওয়া স্বত্ত্বেও, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সম্ভাবনাকেই বাতিল করে দিয়েছে ও ভারতে বহিঃস্কার করতে দিতেও চায় না. সেটাই আবারও হয়েছে, যা আগেও একাধিকবার দেখতে পাওয়া গিয়েছে, আমেরিকার লোকরা অন্য দেশের এলাকায় অপরাধ করে থাকে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখনই হঠাত্ করে মানবিক মূল্যবোধের কথা মনে করে, কিন্তু এই সব ক্ষেত্রে ভুলে যায় যে, সেই শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা এই অপরাধের সঙ্গে সমতূল্য হতে পারে. তাই মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ের প্রফেসর দিমিত্রি লোবিন বলেছেন:

“বহিঃস্কার – এটা খুবই সাধারন ও প্রসারিত রকমের বাস্তব ব্যাপার – যা রাষ্ট্র গুলির মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে. মুম্বাই শহরে আক্রমণের আয়োজন, শান্তিপ্রিয় ১৬৬ জনের মৃত্যু ওয়াশিংটনের দিক থেকে কি এই সব হত্যাকারীর উপরে মানবিকতার দাবী করে”?

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদ ঘোষণা করেছেন যে, “যদি এই বিচার ভারতে হত, তবে আদালতের কাছে অনেক বেশী কঠিন শাস্তিই চাওয়া হতো”. খুরশিদ যোগ করেছেন যে, দিল্লী হেডলির ভারতে বহিঃস্কার দাবী করেই যাবে. তাঁর কথামতো, “এটা তো সবে শুরু, অনেক পথ অতিক্রম এর পরে করতে হবে”, যাতে সকলেই বুঝতে পারে – এই ধরনের অপরাধের জন্য কোন রকমের মাপ করে দেওয়া হবে না.