মালির সামরিক বাহিনী ও ফ্রান্স ঐস্লামিক অধিকৃত ও তাদের ঘাঁটি হওয়া একটি প্রধান শহর টিমবুক্টু বিমান বন্দরের উপরে অধিকার বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে. এই বিষয়ে ফরাসী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা খবর দিয়েছে. কোন রকমের বাধাই কেউ দেয় নি, - ফ্রান্স প্রেস সংস্থা স্থানীয় সামরিক উত্স থেকে পাওয়া খবর বলে জানিয়েছে. এই ভাবেই, বাস্তবে ঐস্লামিকদের একটি ঘাঁটির উপরে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে.

টিমবুক্টু আল- কায়দা ও ঐস্লামিক মাগ্রিবের জঙ্গীরা যোদ্ধারা দখল করে রেখেছে. মালি দেশের উত্তর দখল করে রাখা জঙ্গীদের মধ্যে এদেরই সবচেয়ে যুদ্ধ সক্ষম বলে মনে করা হয়. যুদ্ধ করতে না চেয়ে সম্ভবতঃ বিরোধীরা উত্তরে মরুভূমির দিকে আলজিরিয়ার সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে.

গত ছুটির দিন গুলিতে ফরাসী ও মালির সামরিক বাহিনী খুবই দ্রুত গাও শহর দখল করতে পেরেছে. এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই শহরে শুধু যথেষ্ট দুর্বল এক দল জঙ্গী ছিল. ঐস্লামিকদের প্রধান শক্তি জড়ো হয়ে রয়েছে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদালে. সেই শহরও এখন জঙ্গী মুক্ত করা বাকী, আর এটা টিমবুক্টু দখলের চেয়েও আরও কঠিন কাজ হবে. কিন্তু খুব সম্ভবতঃ, বিদ্রোহীরা বড় শহরের উপরে থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করতে পারে. তার মানে হল, ফরাসী সেনাবাহিনী অনেক দিনের জন্যেই মালিতে আটকা পড়তে পারে, এই রকম মনে করে আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির শুবিন বলেছেন:

“এই অভিযান কতদিন চলবে, তা এখন এর আয়োজকরাই জানেন না. ব্যাপার হল যে, একটা বা দুটো শহর দখল করার মানে এই নয় যে, এই সব বিদ্রোহীরা তাদের বাধা দেওয়া বন্ধ করবে. তার ওপরে বিদ্রোহীরা - নানা রকমের লোক. যদি তুয়ারেগ উপজাতির লোকদের সঙ্গে কোন একটা সমঝোতাতে পৌঁছনো সম্ভবও হয়, তবে এটা একটা দিক মাত্র, - একেবারে চরমপন্থী ঐস্লামিকদের সাথে মনে তো হয় না যে, কোন রকমের সমঝোতা করা যেতে পারে. সোমালির অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, এমনকি রাজধানী মুক্ত করার পরেও যুদ্ধ আরও বহু বছর ধরেই চলছে”.

পশ্চিমের লোকদের জন্য সোমালি প্রসঙ্গতঃ এখনও এক খুবই সন্ত্রাসবাদী বিপদের সম্ভাবনাময় এলাকা. বিশেষ রকমের বিপদের আশঙ্কা থাকায় গ্রেট ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর রবিবারে ব্রিটেনের লোকদের এই দেশ ছেড়ে চলে আসতে পরামর্শ দিয়েছে. এই সাবধান বাণী এই দপ্তর থেকে করা হয়েছে লিবিয়ার বেনগাজী শহর ছেড়ে চলে আসার ও লিবিয়ার কোন এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ-পরামর্শ দেওয়ার কয়েকদিন পরেই. খুবই গুরুতর বিপদের আশঙ্কা গ্রেট ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর আবার যুক্ত করেছে মালিতে ফরাসী অনুপ্রবেশের কারণেই. তাই আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইভগেনি করেনদিয়াসভ এই সম্ভাবনা বাদ দিতে পারেন নি যে, মালি দেশের উত্তর থেকে জোর করে ঐস্লামিকদের বের করে দেওয়া নিয়ে কাজকর্ম সক্রিয় করার ফলে সন্ত্রাসের নতুন ঢেউ উঠতেই পারে, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“ঐস্লামিক বাহিনী গুলির মধ্যে সাংগঠনিক ও যুদ্ধ প্রস্তুতিকে মোটেও অবমূল্যায়ণ করা সম্ভব হবে না, আল- কায়দা গোষ্ঠী শুধু মালির এলাকাতেই নেই, বরং তার সীমানার বাইরেও রয়েছে. এটা আলজিরিয়াতে মানুষ লুঠ করে বন্দী করাই প্রমাণ করে দিয়েছে”.

আলজিরিয়ার গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্রে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের ক্যাম্প দখল করার কারণ হিসাবে সন্ত্রাসবাদীরা মালিতে ফরাসী অনুপ্রবেশকেই প্রধান বলে উল্লেখ করেছে. তখন প্রায় ৪০ জন জঙ্গী বিভিন্ন দেশের থেকে এসে প্রায় ৮০০ লোককে বন্দী করেছিল. আটটি দেশের ৩৭ জন নাগরিক নিহত হয়েছে. চরমপন্থী ঐস্লামিকেরা এবারে বিদেশীদের বিরুদ্ধে নতুন সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়েছে.