ইজিপ্টের তিনটি শহর – পোর্ট সঈদ, সুয়েজ ও ইসমাইলিতে ২৮শে জানুয়ারী সোমবার থেকে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে হয়েছে. এই সব প্রদেশের তিন দিন ধরে চলা বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি এই ভাবেই তাঁর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন. এই ব্যবস্থা এর পরে স্রেফ অসন্তোষের আরও একটা কারণ হয়েছে.

তিনটি প্রদেশের জন্য আগামী তিরিশ দিনের নিয়ম কানুন রাষ্ট্রপতি মুর্সি নিজেই টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারের সময় বলে দিয়েছেন: প্রত্যেক দিনই রাত ন’টা থেকে পরের দিনের ভোর ছ’টা পর্যন্ত চলবে কার্ফ্যু. নিজের সিদ্ধান্ত মুর্সি ব্যাখ্যা করেছেন নাগরিক নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ও যারা আইন ভঙ্গ করছেন, তাঁদের একটা সত্যিকারের উল্টো ধাক্কা দেওয়ার জন্য. কিন্তু ক্রুদ্ধ জনতা রাষ্ট্রপতির নির্দেশের উত্তরে আবারও নিজেদের বাড়ী ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়েছিল প্রতিবাদ জানাতে.

রাষ্ট্রপতি কোনও রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে এবারে ধাক্কা খান নি, বরং জনগনের অসন্তোষের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছেন, এই রকমই মনে করেছেন প্রাচ্য বিশারদ ও আরব বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির বেলিয়াকভ:

“কায়রোতে তহরির চকে এই দিন গুলিতে বেশী করে ছিল রাজনৈতিক বিরোধী লোকরা. ইসমাইলি, পোর্ট সঈদ ও অন্য বহু শহরে - একেবারেই অন্য ধরনের লোকজন. একটা উত্তেজনা টের পাওয়া যাচ্ছে, এখানে একটা দেশলাই জ্বলন্ত অবস্থায় ফেললেই যেন বিস্ফোরণ অনিবার্য, এমন পরিস্থিতি. আর তার কারণ হল যে, রাষ্ট্রবিপ্লব সেই ফল দিতে পারে নি, যা এর আয়োজকরা আশা করেছিল, আর জীবনের মান কমে যাওয়াতে ও কোন রকমের ভবিষ্যত সম্ভাবনা দেখতে না পাওয়াতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে. মুর্সি সেই কোন কিছুই ঠিকমতো করে উঠতে পারেন নি, যাতে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভাল হতে পারে”.

সমস্ত উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে রয়েছে সেই পোর্ট সঈদ বন্দর. এর আগে পরিস্থিতি একেবারেই চরমে উঠেছিল. পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে মৃত লোকদের কবর দিতে নিয়ে যাওয়ার পথে নতুন করে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয় নি. ফলে পোর্ট সঈদে বর্তমানে ট্যাঙ্ক ঢোকানো হয়েছে. দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রপতি ঠিক করেছেন দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার. কিন্তু মুর্সির প্রতি অসন্তুষ্ট ইজিপ্টের লোকরা, তাঁর কাজকর্মে দেখতে পাচ্ছেন সমস্ত রকমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত লক্ষ্যকেই চেপে বসিয়ে দেওয়ার ইচ্ছা. একটা মত এখন চলছে যে, দেশের নতুন প্রশাসন এই সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে “সবুজ সঙ্কেত” পেয়েছে. রেডিও রাশিয়াকে পোর্ট সঈদের বিরোধী সামাজিক নেতা আইমান ফাইদ বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষেত্রে লক্ষ্য হল যে, সুয়েজ প্রণালীর উপরে সম্পূর্ণ রকমের অধিকার বিস্তার, যাতে অন্য কোন দেশই - তা রাশিয়া বা চিন যেই হোক না কেন, কোন অন্য দেশেরই - এই এলাকায় কোন রকমের ভূমিকাই যেন না থাকে. এখানে শুধু পোর্ট সঈদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চলছে না, শুধু ইজিপ্টের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ হচ্ছে না, লক্ষ্য হচ্ছে সমস্ত এলাকাই. যদি আমাদের প্রশাসন এর পরেও জনগনের ইচ্ছাকে লক্ষ্য করতে না চায়, তবে দেশে আরও বেশী করেই সঙ্কট হতে থাকবে. ইজিপ্ট নতুন বিপ্লবের কিনারায় চলে আসবে. অনেকেরই এখন সহ্য ক্ষমতা স্রেফ শেষ সীমায় পৌঁছেছে”.

0কয়েকদিন আগেও মুহাম্মেদ মুর্সি নিজেকে সমস্ত রকমের চরম ব্যবস্থার বিরোধী বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন. এবারে তিনিও সাবধান করে দিয়েছেন: প্রয়োজনে সরকার আরও কড়া ব্যবস্থা নেবে. অর্থাত্, তিনটি প্রদেশে জরুরী অবস্থা এটা সম্ভবতঃ – শুধু শুরুই হয়েছে.