সর্বরুশ সামাজিক মতামত অধ্যয়ন কেন্দ্রের সমাজতত্ত্ববিদেরা খোলসা করে জেনেছেন, রুশবাসীরা স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেয় কিনা. অধিকাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছে, যে হ্যাঁ. তবে, দেখা গেছে, যে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নের প্রকাশ তাদের ঘটে বিভিন্নভাবে.

সমাজতত্ত্ববিদদের প্রশ্ন – তারা স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয় কিনা, তার উত্তরে ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক উত্তর দিয়েছে. সেজন্য অর্ধেকের সামান্য কম লোক চিকিত্সকদের দ্বারস্থ হয় ও তাদের পরামর্শ মেনে চলে. ততজনই ক্ষতিকর নেশা বর্জন করেছে. এক-চতুর্থাংশ মনে করে, যে দূরদর্শনে স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনুষ্ঠানাদি দেখা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পত্রপত্রিকা পড়লেই যথেষ্ট.

অন্য এক-চতুর্থাংশ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় ও পুরোমাত্রায় চেকআপ করায়. সেই সংখ্যক লোকজনই যথোপযুক্ত খাদ্য গ্রহণকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার অন্যতম পদ্ধতি বলে গণ্য করে. ২০ শতাংশের সামান্য বেশি লোকজন কেবলমাত্র চেষ্টা করে বেশি বিশ্রাম নেওয়ার, যাতে শরীরের উপর বাড়তি ধকল না পড়ে. আর কেবল প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন শরীরচর্চা বা খেলাধুলা করে.

মহিলারা এই ব্যাপারে বেশি শৃঙ্খলাপরায়ন. তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেয়, পুরুষদের মধ্যে এই পরিসংখ্যান মাত্র ৭৪ শতাংশ. পুরুষদের তুলনায় মেয়েরা বেশি বদ নেশা থেকে বিরত থাকে ও প্রয়োজনে ডাক্তার দেখায়. তারাই মূলতঃ দূরদর্শনে স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানাদির দর্শক ও পত্রপত্রিকার পাঠক. আর পুরুষরা বেশি পছন্দ করে খেলাধুলা করতে.

রুশবাসীরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের পরামর্শ মেনে চলে. উদাহরনস্বরূপ, যখন তারা বাইরের চেহারা নিয়ে খুশি নয়( ফিগার, চুল, পা, চামড়া ইত্যাদি), তখন তারা এসব বিষয় নিয়ে ডাক্তারের তুলনায় পরিচিতদের সাথে শলা-পরামর্শ করতেই বেশি পছন্দ করে. তবে তাদের মধ্যে কেবল ১২ শতাংশ লোকই তারপর স্বাস্থ্য মেনে জীবনযাপন করতে শুরু করে. আর কেউ কেউ শুধু বিউটি পার্লারে গিয়েই ক্ষান্ত হয়, সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য কোনোরকম চেষ্টাচরিত্র করে না.

স্বাস্থ্যের সমস্যা হলে প্রথম স্থানে আছে ডাক্তারের দ্বারস্থ হওয়া – শরীরে গন্ডগোল হলে অর্ধেক লোক ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়. তবে প্রায় সেইসংখ্যক লোকজনই ভরসা করে ‘অবহিত’ লোকেদের পরামর্শের উপর. এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানিয়েছে, যে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য পায় দূরদর্শনের অনুষ্ঠান থেকে. প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন – ইন্টারনেট থেকে.