বলিউড – বিশ্বে সবচেয়ে বড় সিনেমা বানানোর কারখানা. রুশবাসীদের বরাবর ওখানে উত্পাদিত বস্তুর প্রতি বিপুল আগ্রহ. তাদের আকর্ষণ করে শুধু কৌতূহলোদ্দীপক চিত্রনাট্যই নয়, আরও মনমাতানো ভারতীয় নাচ, গান, গায়ক ও নৃত্যশিল্পীদের মুন্সীয়ানা, তাদের রংচঙয়ে পোষাক-আষাক. এবার রুশবাসীদের স্বচক্ষে বলিউডকে দেখার সুযোগ এসেছে. মুম্বাই থেকে এই প্রথম মস্কোয় এসেছে ‘বলিউডের টিকিট’ নামক ট্রুপ. তাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিষদে আমাদের সংবাদদাতাকে গল্প করলেন ট্রুপটির কর্ণধার শুভ্রা ভরদ্বাজ. –

আমাদের শোয়ে আপনারা যা দেখতে পেলেন – তা ভারতবর্ষকেই প্রতিফলিত করে. আমাদের জন্য বলিউড – এটা জীবনযাত্রার আঙ্গিক. দর্শকদের বাস্তবিকই ভালো লাগে আবেগ, যা আমাদের অনুষ্ঠানে উপচে পড়ে. এই শো আমি সৃষ্টি করেছিলাম ২০১০ সালে শাংহাইয়ে বিশ্ব মেলায়. আমাদের অনুষ্ঠান বলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মতো. আমাদের ট্রুপে মোট ৪০ জন নর্তক - যেমন পুরুষ, তেমনই মহিলা. ওরাই উত্সবের পরিবেশ গড়ে তোলে. আজকের জলসায় উপস্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ঘরানার নৃত্যঃ ধ্রুপদী, উত্সবের ও বিবাহের সময়কার নাচ. ‘বলিউডের টিকিট’ আপনাদের চোখ ও শ্রবনের মাধ্যমে বিভিন্ন আঙ্গিকের নাচ ও গানের মধ্যে দিয়ে টেনে নিয়ে যাবে অন্য জগতে, যা বলিউডের আসল সুস্বাদু পদ. বাস্তবিকই এটা খুব বলিষ্ঠ নাচের শো.

এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে ট্রুপটি পৃথিবীর বহু দেশ সফর করেছে এবং সর্বত্র সাড়া ফেলে দিয়েছে. ঝলমলে রঙ, মনমাতানো সঙ্গীত, উদ্দাম নৃত্য – এসবই বলিউডের ফিল্মের অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ. দর্শকদের মনে তারা উত্সবের উপভোগ্যতার জন্ম দেয়. আমাদের ট্রুপের পারফরমেন্সও অনুরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে. রাশিয়ার দর্শকদের সম্পর্কে নিজস্ব প্রত্যাশা আমাদের কাছে ব্যক্ত করলেন ট্রুপের ম্যানেজার দিব্যা কামাথ. –

আমরা আশা করছি, রাশিয়ার দর্শকদের পছন্দ হয়েছে আমাদের অনুষ্ঠান. তুমুল করতালি পেযেছি আমরা. আমাদের ট্রুপে যেমন ধ্রুপদী নৃত্যের, তেমনই বলিউডের নাচের শিল্পীরা আছে. আমরা চেষ্টা করেছি ধ্রুপদী নৃত্যের সাথে আধুনিক নাচের মেলবন্ধন ঘটানোর. ভারতে নবীন প্রজন্মের মধ্যে বলিউডের নাচের জনপ্রিয়তা বেশি. রাশিয়ার দর্শকদের সুযোগ আছে কোন ধারার নাচকে তারা অগ্রাধিকার দেবেন, তা নিজেদেরই ঠিক করার.

ভারতীয় নৃত্যের রুশী নৃত্যশিল্পী মারিয়া ক্রোখালোভা অনুষ্ঠানটি দেখেছেন পেশাদারের দৃষ্টি দিয়ে. –

আমি চারবছর ধরে ভারতীয় নৃত্য চর্চা করেছি ও আমাদের ট্রুপ চারবার সর্বরাশিয়া নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিল. আমার পক্ষে আগ্রহোদ্দীপক, পেশাদারের চোখ দিয়ে অনুষ্ঠান দেখা. আজকের অনুষ্ঠানে আমার মনে ধরেছে শিল্পীদের মুন্সীয়ানা. কত্থক নাচ ছিল জীবন্ত ও গতিশীল. ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশি ভালো লাগে লোকনৃত্য, কারন সেখানে প্রতিফলিত হয় হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য.

রুশবাসী দর্শকদের মধ্যে কেউ নির্বিকার ছিল না. দেখা গেল তাদের অনেকেই বলিউডের ফিল্মের ভক্ত. আমাদের সংবাদদাতাকে অনুষ্ঠানের শেষে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানালেন তেমনই একজন, ইয়েভগেনি লাশকোভ. –

পারফরমেন্সের উজ্জলতা পুরোপুরি প্রাচ্যের. ভারতীয় সিনেমার গুনগ্রাহীরা সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে আছে, আমিও ব্যতিক্রম নই. আমি বরাবর চেয়েছিলাম উঁচুমানের পেশাদারদের পরিবেশনায় ভারতীয় নাচ দেখার. আজ আমি সেই সুযোগ পেলাম. ভবিষ্যতে বারবার এই ট্রুপের পারফরম্যান্স উপভোগ করার ইচ্ছা রইল.

অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে ভারতীয় স্যুভেনিরের মেলা বসেছিল ও ভারতীয় ফুড ফেস্টিভ্যাল হল. নিঃসন্দেহে এই অনুষ্ঠান বহুদিন মানুষের স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে.