সারা বিশ্বের মুদ্রা সংগ্রহকারীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে. রাশিয়ার ব্যাঙ্ক ১২ই মার্চ সোচিতে নতুন ১০০ রুবলের নোট বের করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা উত্সর্গ করা হবে অলিম্পিকের প্রতি. কি পরিমানে ও কোন ডিজাইনের নোট ছাপানো হবে – সেটা গোপন রাখা হয়েছে. তবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সহ-সভাপতি গেওর্গি লুনতোভস্কি বলেছেন, যে নোটটি দেখতে হবে ‘সুন্দর’. স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে অলিম্পিকের প্রতি উত্সর্গীকৃত প্রথম নোট ছাপানো হয়েছিল ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকের প্রাক্কালে. রাশিয়া এই ঐতিহ্য বজায় রাখতে চায়. আরও উল্লেখ করা দরকার, যে বিভিন্ন মূল্যধারী ও বিভিন্ন আকৃতির মুদ্রাও ছাপানো হবে.

অন্যদিকে রুশবাসীদের সময়ের সাথে সাথে এক ও পাঁচ কোপেকের মুদ্রাকে বিদায় জানাতে হবে. কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়ে দিয়েছে, যে ঐসব মূল্যের মুদ্রা আর ছাপাবে না, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার. সরকারীভাবে এক ও পাঁচ কোপেক মুদ্রা বর্জন করার কারন – বাণিজ্যিক ও আর্থিক সংস্থাগুলিতে ওগুলির চাহিদা নেই, তাছাড়া পরতায় পোষায় না. একটা এক কোপেক মুদ্রা বানানোর খরচা ৪৭ কোপেক, পাঁচ কোপেক মুদ্রা বানানোর খরচ ৬৯ কোপেক. উত্পাদন ছাড়াও সংরক্ষন ও পরিবহনের পেছনে আরও বাড়তি খরচা আছে.

আধুনিক ইতিহাসে দুইবার ঐ মুদ্রাগুলিকে পরিত্যাগ করা হয়েছিল – গৃহযুদ্ধ চলার সময় ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে. ১৯৯১ সালে সবচেয়ে কম মূল্যের মুদ্রা হয়ে দাঁড়ায় দশ কোপেক, তবে ছোট মুদ্রাদের বর্জন করা সেসময় টেরই পাওয়া যায়নি – মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ২৬০০%. যদিও ১৯৬১ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ছাপানো কোপেকের চল ছিল, কিন্তু ব্যবহৃত হতো সেগুলি শুধুমাত্র স্মারক হিসাবে. ১৯৯৮ সালে রুবলের দাম ১ হাজার গুন বাড়ানোর পরে ঐ কোপেকগুলো আবার আবর্তনে আসে.

মানতে হবে, যে যদিও রুশবাসীরা কোপেকের বিরুদ্ধে মত দিয়েছে, কিন্তু ‘সত্যিকারের রুশী মুদ্রা’ বর্জন জনসাধারনের একাংশের অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে. বিদেশেও খুচরো পয়সাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না. ফিনল্যান্ড দশ বছরেরও বেশি আগে ১ ও ২ সেন্টের মুদ্রা বর্জন করেছে. নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়াও খুচরো বর্জন করেছে. জাপানে ১ ইয়েন দিয়ে কিছুই কেনা না গেলেও, সেগুলি আবর্তনে আছে. আর আমেরিকায়, উল্টে নতুন আন্দোলন শুরু হয়েছে – আমেরিকাবাসীরা সাধারন সেন্টের পক্ষে. তারা মুদ্রা তুলে দেওয়ার বিরোধী.

কোপেকের জন্মদিন হিসাবে ধরা হয় ১৫৩৫ সালের ২০শে মার্চকে. তখন জার ইভান দ্য টেরিবলের মাতৃদেবী ইলেনা গ্লিনস্কায়া আর্থিক সংস্কার করেছিলেন. ১৭০৪ সালে রাশিয়া পৃথিবীতে সর্বপ্রথম দশমিকীকরন করে – রুবলকে ১০০ কোপেকের সমান বলে গণ্য করা শুরু হয়. শুধুমাত্র তার ৯১ বছর পরে ফ্রান্স ঐ পথ অনুসরন করে, দশ ফ্রাঙ্কের প্রবর্তন করে. আর তারপরে অন্যান্য দেশেরা ঐ পথের অনুগামী হয়.

আগ্রহোদ্দীপক, যে সবচেয়ে ভারী তামার মুদ্রা চালু করা হয়েছিল ১৭৫৫-১৭৫৭ সালে পিটার দ্য গ্রেটের কন্যা এলিজাবেথের রাজত্বকালে. সব মুদ্রার ওজন তখন ছিল ২০,৪৮ গ্রাম. তুলনা করতে গেলে, এখনকার এক কোপেকের ওজন মাত্র দেড় গ্রাম. মুদ্রা সংগ্রহকারীরা প্রায়ই ওটাকে বলে ‘মেঘের কোপেক’ তার হেড ও টেলের প্রচ্ছদের জন্য. রাশিয়ায় এক ও পাঁচ কোপেকের কয়েকটি স্মৃতিফলক আছে – মস্কোয়, মস্কোর শহরতলীতে কারালোভ টাউনশীপে ও নিঝনি নোভগোরদে.