ইজিপ্টে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়েছে. সেখানে মুসলমান ভাইদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবারে বিশাল আকার ধারণ করেছে. পরিস্থিতি এতই গুরুতর যে, রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি আজ ২৭শে জানুয়ারী তাঁর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা শহরে আফ্রিকা সঙ্ঘের শীর্ষ সম্মেলনে যাওয়া বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন. মুর্সি একই সঙ্গে দাভোস শহর থেকে অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্ডিলকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ছেড়ে চলে আসতে নির্দেশ দিয়েছেন.

মুহাম্মেদ মুর্সি ইজিপ্টের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী অধিবেশন পরিচালনা করেছেন. রাষ্ট্রপতির অধীনে এই বিভাগে দেশের আইন শৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সমস্ত মন্ত্রীই রয়েছেন, আরও আছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব. জাতীয় প্রতিরক্ষা সভা ঘোষণা করেছে যে, দেশের প্রধান সংঘর্ষ ক্লিষ্ট এলাকা গুলিতে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতেই পারেন. রবিবারের ভোর রাতে কায়রো, সুয়েজ, আলেকজান্দ্রিয়াতে, পোর্ট সঈদে গণ বিক্ষোভ হয়েছে. দশের বেশী লোক নিহত হয়েছেন, বহু শত আহত এবং আরও অনেক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে. মুসলমান ভাইদের দল সাবধান করে দিয়েছে যে, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অধিকার আছে বিরোধীদের উপরে গুলি চালনা করার, যদি তাদের কাজকর্মের ফলে দেশের জন্য স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়.

ইজিপ্টে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সঙ্গে গণ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে ২৫শে জানুয়ারী রাষ্ট্র বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর উত্সবের দিনেই. ২০১১ সালে এই দিনটিতে শুরু হওয়া গণ অভ্যুত্থানের ফলে হোসনি মুবারকের প্রশাসনের পতন হয়েছিল. তখন প্রধান বিরোধের কেন্দ্র ছিল কায়রোর তহরির চক, আজও সেই জায়গাই কেন্দ্র হয়েছে.

নতুন বিপ্লবের দাবী সব জায়গাতেই এক: ইজিপ্টের বিপ্লব, যা মুসলমান ভাইয়েরা চুরি করেছে, তা ফিরিয়ে দেওয়ার. এই প্রসঙ্গে কিছু বিরোধীরা যা বলেছেন, তা হল:

“আমরা নতুন করে বিপ্লবের ডাক দিয়েছি, কারণ মুসলমান ভাইয়েরা ও মুর্সি ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে অন্যায় ভাবে. তারা মুবারকের সঙ্গে কি অংশে আলাদা? শুধু সেই টুকুতেই যে, এখন বেঁচে থাকার লড়াই আরও কঠিন হয়েছে!

আমরা আজ দুই বছর ধরে একে অপরকে হত্যা করে চলেছি. আমি আবারও দেখতে পেয়েছি অনেক আহত মানুষদের. আমরা আমাদের দেশের জন্য এই রকমের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিনি”.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, মুর্সির জন্য পরীক্ষা শুধুই শুরু হয়েছে. ইজিপ্ট সমস্ত রকমের বৈপ্লবিক ঝঞ্ঝার পরে একেবারে অর্থনৈতিক ভাবে পতনের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাই বিখ্যাত রুশ প্রাচ্য বিশারদ লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন:

“খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে এই দেশ এক ঋণ গ্রস্ত দেশে পরিণত হতে চলেছে, কারণ কায়রো বাধ্য হবে অন্যান্য দেশ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ করতে. তার সঙ্গে যুক্ত হবে সেই বাস্তবও যে, কায়রো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মঞ্চে তাদের পুরনো প্রভাব হারিয়েছে. হোসনি মুবারকের সময়ে তা অনেকটাই নির্দিষ্ট করে দিত নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কি রকমের হবে এবং উত্তর আফ্রিকাতে কি হবে. এবারে তারাই বাস্তবে কোন কিছুরই সমাধান করতে সক্ষম নয়. সেই ভাবে বলা যেতে পারে যে, সমস্ত দিকেই ইজিপ্ট বর্তমানে শুধু হারিয়েই চলেছে”.

আজকের দিনে দেশ, বাস্তবে, ভাগ হয়ে গিয়েছে দুই ভাগে, একদল যারা মুর্সির পক্ষে, অন্য দল যারা তাঁর বিরুদ্ধে. প্রধান বিরোধী কাঠামো জাতীয় ত্রাণের ফ্রন্ট দাবী করেছে সমস্ত রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সহমত হয়ে সংযুক্ত প্রশাসন তৈরী করার, জাতিরই ত্রাণের উদ্দেশ্যে.