হোসনি মুবারকের প্রশাসনের পতন সম্ভব করে দেওয়া রাষ্ট্র বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর উত্সবের পরে শুক্রবারে সারা দেশ জুড়ে এক নতুন হিংসা ও উত্তেজনার ঢেউ ডেকে এনেছে পোর্ট সঈদের ট্র্যাজেডির সঙ্গে যুক্ত ২১ জন অভিযুক্তের সম্বন্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ. এর আগে পোর্ট সঈদে স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেঁধে ছিল, যেখানে উভয় পক্ষ থেকেই গুলি চালনা করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে. এই গোলমালে নিহত হয়েছেন ৩৬ জন মানুষ, ২০০ জনেরও বেশী আহত হয়েছেন. দেশের অন্যান্য শহরেও শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে জনতার লড়াই চলছে. বিরোধী পক্ষ নতুন করে বিপ্লবের ডাক দিয়েছে ও রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সিকে কিছুদিন আগে গৃহীত সংবিধানের কাজ বন্ধ করতে আহ্বান করেছে এবং জাতীয় ঐক্য সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা গঠন করতে বলেছে. এই পরিস্থিতিতে দেশের রাষ্ট্রপতি টুইটার সাইটের মাধ্যমে মিছিলের লোকদের হিংসা থেকে বিরত হতে আহ্বান করেছেন. এর আগে দেশের প্রধান নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠক পরিচালনা করেছেন, যেখান বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্র বিশৃঙ্খল এলাকা গুলিতে জরুরী অবস্থা ঘোষণার অধিকার রাখে. সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্ডিলকে দ্রুত ফিরে আসতে বলা হয়েছে, যেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ইজিপ্টের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ঋণের জন্য আলোচনা করছিলেন. আর মুর্সি নিজে শেষ মুহূর্তে রবিবারে পরিকল্পিত আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের আদ্দিস আবাবা শহরের শীর্ষ সম্মেলনের যাওয়ার সফর মুলতুবি রেখেছেন.

২০১২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পোর্ট সঈদে দুটি মিশরের ফুটবল দলের মধ্যে খেলার শেষে এক গণ মারামারিতে ও ষ্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার পথে পদপিষ্ট হয়ে ৭২ জন লোকের মৃত্যু হয়েছিল, বহু শত মানুষ আহতও হয়েছিলেন.