রাষ্ট্রসঙ্ঘ পাকিস্তানে, আফগানিস্তানে ও অন্যান্য দেশে আমেরিকার পাইলট বিহীণ বিমান থেকে হানা আঘাতের পরিনাম নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে. এই বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট দিয়েছেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের অ্যাডভোকেট বেন এম্মেরসন এক প্রকাশিত প্রবন্ধে. তাঁর উপরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিশ্লেষণের দলের নেতৃত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখার ও হেমন্তে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় তার ফলাফল জানানোর. এই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বেশ কিছু দেশ, তার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য দেশ, বলে খবর দিয়েছে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা. বিষয় নিয়ে বিশদ করে বর্ণনা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

বেন এম্মেরসন এবারে অংশতঃ, পাইলট বিহীণ বোমারু বিমান থেকে আঘাতের বিষয়ে তদন্ত করে দেখবেন, কজন শান্তিপ্রিয় মানুষ এর আঘাতে নিহত হয়েছেন, তাদের সংখ্যা নির্ণয় করবেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে বিরোধের কেন্দ্র রয়েছে বলে কোন রকমের বিশেষ সিদ্ধান্ত ছাড়াই সঠিক সামরিক লক্ষ্য নির্ণয় করা ও তার উপরে আঘাত হানার অধিকার কোথা থেকে পাওয়া গিয়েছে, সেই বিষয়েও তদন্ত করবেন. এখানে একটি প্রধান প্রশ্ন হল যে, বিরোধের সময়ে ড্রোনের সাহায্যে আকাশ থেকে লক্ষ্য স্থির করা কতটা গ্রহণযোগ্য. পাকিস্তানের এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে আঘাত হানার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভুলের ঝুঁকি খুবই বেশী. পাইলট বিহীণ বিমানের দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা চালকেরা প্রায়ই একদল লোককে সন্ত্রাসবাদী বলে ধরে নিয়ে থাকে, যারা হয়ত, চেঁচামেচি করতে করতে আকাশে গুলি ছুঁড়ছিল, কোন সামাজিক অনুষ্ঠানের সময়ে, যেমন বিয়ে অথবা বাজার ও সিনেমার সামনে ভীড়ের মধ্যে.

এখন অবধি পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৪ সালের জুন থেকে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাস অবধি আকাশ থেকে করা এই ধরনের আঘাতের ফলে শুধু পাকিস্তানেই নিহত হয়েছেন তিন হাজারেরও বেশী লোক, তার মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশী শান্তিপ্রিয় নাগরিক ও প্রায় ২০০ শিশু. বিশেষ করে বারাক ওবামা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে আমেরিকার ড্রোন বিমানের আঘাতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে. আফগানিস্তানে, ইয়েমেনে, সোমালি ও বিশেষ করে পাকিস্তানে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর কাজকর্মের মধ্যে প্রতিদিনই এই ধরনের ড্রোন বিমান ব্যবহার করে হত্যা প্রায় একটা প্রধান অপারেশন হয়ে দাঁড়িয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার জন্য এটা একটা প্রধান কারণ হয়েছে. মস্কো শহরে সামরিক বিজ্ঞান একাডেমীর প্রফেসর ভাদিম কজিউলিন বলেছেন যে, এটা এখন ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ স্তরের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, দেখাই যাচ্ছে আজ তা মোটেও ভাল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে না. পাকিস্তানে তাদের দেশের এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করা ও তার পরেও শাস্তি না হওয়াতে অসন্তোষ বৃদ্ধিই পাচ্ছে, অংশতঃ, সেই সমস্ত জায়গায়, যেখানে বিভিন্ন উপজাতির বসবাস”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে পাকিস্তানের এলাকায় ড্রোন বিমানের আঘাত, আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী, এই কথা বলেছেন রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, রাশিয়ার সাংবাদিকদের, এক সাংবাদিক সম্মেলনে ও এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বারাক ওবামার আবার নির্বাচিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই. আর অনেক মানবাধিকার রক্ষা কর্মীই সার্বভৌম দেশে এই রকমের ড্রোন বিমান আঘাতকে মনে করেন সামরিক অপরাধ বলেই. এই ধরনের মত পোষণ মনে হয়েছে বেন এম্মেরসন করে থাকেন, অন্তত তাঁর কিছু বক্তব্য শুনে এই রকমই মনে হয়েছে.

0এবারে যখন পাকিস্তানের উদ্যোগে ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য দেশের সমর্থনে এই ধরনের পাইলট বিহীণ যন্ত্র ব্যবহার করে বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করা শুরু করা হয়েছে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নের উদয় হয় যে, এটা নিয়ে বেন এম্মেরসন কতদূর অবধি নিজের তদন্তের ক্ষেত্রে যেতে পারবেন. অপরাধীদের বিচারের জন্য কোনও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল কি তৈরী করা হবে, নাকি আন্তর্জাতিক বাস্তব ঘটনায় যা খুব একটা কম হয় না, সেই রকম ভাবেই এই সমস্যা নিয়ে কথা বলা হবে, তার পরে সত্বর ভুলে যাওয়াও হবে? দেখাই যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাবে যে, এই তদন্ত যাতে খুবই স্বল্প পরিসরের মধ্যে দ্রুত শেষ করে একটি “রাজনৈতিক ভাবে সঠিক” ও দোষ কমানো যায় এই রকমের রিপোর্ট পেশ করানোর জন্য. তারপরে তারা চেষ্টা করবে, সব কিছুকেই ধীরে বন্ধ করে দেওয়ার.