ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাশিয়া স্থিত ভারতীয় দূতাবাসে ভারতের সম্পূর্ণ মর্যাদা ও দায়িত্ব প্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকা নাতালিয়া বেনিউখকে এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন. সাক্ষাত্কারটি দেওয়া হল.

“সম্মানীয় রাষ্ট্রদূত, আমরা আপনাকে অনুরোধ করবো অনুগ্রহ করে আমাদের “রেডিও রাশিয়ার” পক্ষ থেকে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে ও মনে করিয়ে দিতে চাই যে, আমরা রুশ- ভারত সহযোগিতার ক্ষেত্রে যথাসাধ্য প্রসারিত ভাবেই সম্প্রচার করে যাচ্ছি”.

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“নাতাশা আপনার শুভেচ্ছার জন্য অনেক ধন্যবাদ! আপনাদের এই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও শুভ কামনার প্রবৃদ্ধি বিষয়ে সক্রিয় কাজকর্মের জন্যও ধন্যবাদ”.

প্রশ্ন ছিল: “গত বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ডিসেম্বর মাসে ভারতে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সফর. আপনি কি এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সম্বন্ধে ও তার বিশেষত্ব নিয়ে বলতে পারেন”?

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“আমরা রুশ রাষ্ট্রপতি পুতিনকে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লী শহরে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত হয়েছি ত্রয়োদশ রুশ ভারত বাত্সরিক শীর্ষ সম্মেলনের আওতায়, যা এখানে হয়েছিল ২৪শে ডিসেম্বর. ২০১২ সালে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সমস্ত অনুষ্ঠানের মধ্যে এটিই ছিল সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠান. প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ও রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল খুবই উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে, যা আপনারা দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু যখন দেখা করে, তখনই শুধু আশা করতে পারেন. এই শীর্ষ সম্মেলন খুবই সফল ছিল. দুই পক্ষই এর ফলে সন্তুষ্ট হয়েছেন ও রুশ- ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহু প্রসারিত ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও লক্ষ্য করতে পারা গিয়েছে.

একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া ছাড়া, বৈদেশিক দপ্তর গুলির মধ্যে পরামর্শ সংক্রান্ত দলিল, একটি সংস্কৃতি বিনিময় প্রকল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ে সমঝোতা, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিষয়ে সহযোগিতা, দুই দেশে যৌথ প্রকল্প গুলিতে বিনিয়োগের জন্য একটি তহবিল গঠন ইত্যাদি এই শীর্ষ সম্মেলনে করা হয়েছে”.

প্রশ্ন ছিল: “আপনি কি সেই সমস্ত চুক্তি, যাকে বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন, সেই গুলি সম্পর্কে একটু বেশী করে খুঁটিয়ে বলতে পারেন”?

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“আচ্ছা, যেমন ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্ক ও রাশিয়ার সরাসরি বিনিয়োগ তহবিলের মধ্যে ইচ্ছাপত্র, একটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার, যেহেতু এটি দুশো কোটি আমেরিকান ডলারের সমান অর্থ দুই দেশেই দীর্ঘ দিনের বিনিয়োগের বিষয়ে করা হয়েছে.

দুটি সংজ্ঞাবহ ব্যক্তিগত মালিকানার যৌথ প্রকল্পের জন্য চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে. একটি সান গ্রুপের এলকন সিস্টেম্স প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে রাশিয়ার হেলিকপ্টার কোম্পানীর, যা করা হয়েছে ভারতে কামভ ও মি ব্র্যান্ডের হেলিকপ্টার নির্মাণের জন্য. আরও একটি যৌথ প্রকল্প করা হয়েছে মুম্বাই শহরের এলডার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সঙ্গে রাশিয়ার ফার্মএকো সংস্থার মধ্যে, যেখানে ১০ কোটি ডলারের সমান অর্থ বিনিয়োগ করে ভারতীয় ওষুধ রাশিয়ার জন্য তৈরী ও বাণিজ্য করা হতে চলেছে.

আরও সংজ্ঞাবহ হয়েছে রাশিয়ার নিস গ্লোনাসস ও ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডে ও মহানগর টেলিফোন নিগমের মধ্যে একটি শুরুর জন্য যৌথ প্রকল্প তৈরী করার চুক্তি, যাতে রাশিয়ার গ্লোনাসস দিক নির্দেশ ব্যবস্থা ভারতে বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণ, বুদ্ধিদীপ্ত পরিবহন, টেলিফোন যোগাযোগ এবং বহু দূর পর্যন্ত যোগাযোগের ব্যবস্থায় ব্যবহার করে দেখা হবে. নিস গ্লোনাসস একটি স্ট্র্যাটেজিক সমঝোতাতেও স্বাক্ষর করেছে ভারতের টাটা কনসালটেনসি সার্ভিসেসের সাথে, যারা প্রযুক্তি সহযোগিতা করে এই ব্যবস্থার জন্য সফটওয়্যার তৈরী করবে, সিস্টেম সমাকলন ও পণ্য প্রযুক্তি বিকাশের ক্ষেত্রেও কাজ করবে.

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিষয়ে ইচ্ছাপত্র স্বাক্ষর. এটি আমাদের দুই দেশের বিজ্ঞানীদের মৌল ও ফলিত গবেষণার বিষয়ে উত্সাহ দেবে, যাতে নতুন প্রযুক্তি, যন্ত্র ও পদার্থ তৈরী করা সম্ভব হয়. আপনাদের শ্রোতা ও পাঠকরা অবশ্যই মনে করতে পারবেন যে, ২০১২ সালে আমরা ভারত- রাশিয়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র মস্কো শহরে ও দিল্লী জাতীয় রাজধানী এলাকায় চালু করেছি, যাতে বাণিজ্যিক ভাবে নতুন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে শৃঙ্খলিত করা সম্ভব হয়.

আমরা বৈদেশিক দপ্তর গুলির মধ্যে পরামর্শের জন্য ও ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিস্তৃত ভাবে সাংস্কৃতিক বিনিময় অনুষ্ঠানের বিষয়েও দিন তারিখ বিষয়ে তালিকা তৈরী করতে পেরেছি”.

প্রশ্ন ছিল: “প্রতিরক্ষা সম্বন্ধে কি হয়েছে? আমরা শুনেছি যে, কিছু প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে”?

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“এটা সত্য যে, এই শীর্ষ সম্মেলনের দিনে আমরা দুটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছি যার অর্থমূল্য প্রায় চারশো কোটি ডলার. সেই গুলি রাশিয়া থেকে ভারতে ৭১টি মি – ১৭ ভি ৫ হেলিকপ্টার ও ৪২টি সু – ৩০ এমকাই যুদ্ধ বিমানের নির্মাণের অংশ সংক্রান্ত চুক্তি”.

প্রশ্ন ছিল: “বিগত বছর গুলিতে পারমানবিক শক্তি রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতার মধ্যে এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিতে পেরেছে. যদিও আমরা সকলেই মনে করতে পারি কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র চালু করা নিয়ে স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদের কথা. শোনা গিয়েছে, ভারত পরিকল্পনা করেছে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও কিছু পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার, এটা কি সত্যি”?

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“আমি বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগিতা অসামরিক পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে ও তার ভবিষ্যতও ভাল. কুদানকুলাম কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর তৈরী হয়ে গিয়েছে ও চালু হওয়ার কথা আগামী মাসে. দ্বিতীয় এক হাজার মেগাওয়াট রিয়্যাক্টরও নির্মাণ কাজ শেষের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে. আমরা আশা করছি এই বছরেই এটি তৈরী হয়ে যাবে. তারই মধ্যে আমরা কুদানকুলাম তিন ও চার নম্বর রিয়্যাক্টর নিয়েও এগিয়ে যাচ্ছি. রাষ্ট্রীয় ঋণের বিষয়ে এই দুটি রিয়্যাক্টর সংক্রান্ত প্রোটোকল ২০১২ সালের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত হয়েছে. দুই পক্ষই দ্রুত প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা শেষ করার বিষয়ে রাজী হয়েছে এই দুটি ইউনিটের জন্য.

আমরা ২০০৮ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে পারমানবিক শক্তি সহযোগিতা বিষয়ে চুক্তি ও ২০১০ সালের ভারতে রুশ দেশে নির্মিত পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র সংক্রান্ত গৃহীত পথ নির্দেশের বিষয়ে দৃঢ় মনোভাব নিয়েছি. আমরা আমাদের পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র গুলিতে সেরা প্রযুক্তি ও সবচেয়ে উঁচু মানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মাপ কাঠি ব্যবহার করব”.

প্রশ্ন ছিল: “ভারতীয় সংবাদপত্রে অনেক গুলি প্রবন্ধ দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যেখানে বলতে চাওয়া হয়েছে যে, রাশিয়া বর্তমানে ভারতকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে. কিন্তু সেখানে খুব কমই তথ্য দেওয়া হয়েছে রুশ – ভারত যৌথ প্রকল্প ব্রামোস রকেট সম্বন্ধে, যার পরীক্ষা সদ্যই ভারতে সম্পন্ন হয়েছে ও এই ধরনের আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা সফল হয়েছে. আপনি কি মনে করেন যে, এই ব্যাপারটি ভারতীয় সামরিক ক্ষেত্রে নতুন ধারা ও পরিস্থিতির প্রতিফলন করে ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলে”?

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“আমাদের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিরক্ষা বহু দিন ধরেই এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে রয়েছে. অন্যান্য দেশের অস্ত্র নির্মাতাদের সঙ্গে রুশ অস্ত্র নির্মাতারা আমাদের দেশে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে যে ধরনের কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীণ হচ্ছে, তা আজ প্রায় এক দশক ধরেই চলছে, আর আমাদের রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত যোগসূত্র তা স্বত্ত্বেও যথেষ্ট উন্নতি করেছে. রুশ অস্ত্র নির্মাতারা কিছু সদ্য হয়ে যাওয়া টেন্ডারে প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রকল্পে সফল হতে পারেন নি, কিন্তু সেটাও খুব একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়. একই রকম ভাবে, আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, যখন রুশ কোম্পানী গুলি প্রতিযোগিতা মূলক ও আমাদের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনের বিষয়ে মূল্যবান সহকর্মী হতে পেরেছে.

আমাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অস্তিত্ব বহুমুখী. যেমন এখন আমরা আমাদের দেশে রুশ সহযোগিতায় টি – ৯০ ট্যাঙ্ক, সু- ৩০ এমকাই যুদ্ধ বিমান, এবং অন্যান্য যন্ত্র ভারতে তৈরী করছি. ২০১২ সালের আগষ্ট মাসে আমরা ভারতে “স্মের্চ” রকেট তৈরী করার জন্য একটি ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করেছি. আমরা যৌথ ভাবে মহড়াও দিয়ে থাকি. আপনারা জানেন আমরা চতুর্থ “ইন্দ্র” মহড়া দিয়েছি ২০১২ সালের আগষ্ট মাসে বুরিয়াতিয়া রাজ্যে. তাছাড়া মুম্বাই উপকূলে ডিসেম্বরে হয়েছে যৌথ ভাবে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ “ইন্দ্র”. আমরা রাশিয়ার যন্ত্র ও অস্ত্র গুলিকেও সংযুক্ত করেছি. ২০১২ সালে মি- ১৭ ভি ৫ হেলিকপ্টার গুলি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগ করা হয়েছে, একই সঙ্গে আইএনএস চক্র, তেগ ও তারকাশ ফ্রিগেট যুক্ত হয়েছে আমাদের নৌবাহিনীতে. ঘটনাচক্রে শেষ দুটি ফ্রিগেট এখন ব্রামোস মিসাইল দিয়ে আরও ক্ষমতা সম্পন্ন করা হচ্ছে.

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, সাম্প্রতিক বছর গুলিতে আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আস্তে ধীরে স্রেফ ক্রেতা – বিক্রেতার সম্পর্ক থেকে যৌথ ভাবে গবেষণা, নির্মাণ ও উত্পাদনের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে, যা প্রয়োজন আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্যই. “ব্রামোস” মিসাইল প্রকল্প এই পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতা বিষয়েই একটি শুরুর দিকের ভিত্তি মূলক সরে যাওয়ারই উদাহরণ হতে পেরেছে. ২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বর আমরা চুক্তি করেছি সু – ৩০ এমকাই যুদ্ধ বিমানের জন্য “ব্রামোস” মিসাইলের একটি আকাশ থেকে নিক্ষেপ করার উপযুক্ত রূপ তৈরী করব. একবার এটা হয়ে গেলে, ব্রামোস ক্রুইজ মিসাইল ভূমি, সমুদ্র ও শূণ্য থেকে নিক্ষেপ করার উপযুক্ত একমাত্র মিসাইল হবে. ব্রামোস তার পনেরো তম বার্ষিকী পালন করছে এই বছরে ও এটা সংবাদ মাধ্যমের পক্ষে সুযোগ করে দেবে ভারত- রুশ যৌথ সহযোগিতার বিষয়ে আলোকপাত করার.

এখানে আমি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান প্রকল্প এবং বহুমুখী পরিবহন বিমান প্রকল্প নিয়ে আলোকপাত করতে চাই. এই গুলি সবচেয়ে আধুনিক উদাহরণ আমাদের দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে একেবারেই ভিত্তিমূলক ভাবে সরে যাওয়ার. আমরা বহুমুখী পরিবহন বিমান সম্পর্কে সাধারন চুক্তি স্বাক্ষর করেছি ২০১২ সালের মে মাসে এবং তার প্রাথমিক নির্মাণ অধ্যায় নিয়ে চুক্তি করা হয়েছে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে. ব্রামোস, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও বহুমুখী পরিবহন বিমান প্রকল্প গুলি আমাদের পারস্পরিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতার প্রমাণ, যা বিশ্বাস ও ভরসার উপরেই নির্ভর করে রয়েছে, তা ভাল করে উন্নতিও করছে. সব মিলিয়ে, আমাদের একটি গতিশীল ও উন্নতিশীল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা শুরু হয়েছে, যা মোটেও কমে আসছে না”.

প্রশ্ন ছিল: “ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সফল বিনিয়োগের একটি উদাহরণ হয়েছিল এ এফ কে সিস্টেমা. কিন্তু তার ভারতীয় অঙ্গ সিস্টেমা শ্যাম টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড, যারা এমটিএস ব্র্যান্ডে ভারতে পরিষেবা দিয়ে থাকে, ভারতের ৪০০ টি শহরে, তা গত বছরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. একটি ভারতীয় আদালতে এই বন্ধ করে দেওয়ার রায়কে ১৪ই ফেব্রুয়ারী অবধি আটকে রেখেছে. ভারতীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় রুশ বিনিয়োগকারী এ এফ কা সিস্টেমা একাধিকবার বলেছে যে, এই পরিস্থিতিতে ভারতের বাজার ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হতে পারে. কামাজ ও আরও অন্য কয়েকটি রুশ কোম্পানী ভারতে সমস্যায় পড়েছে. আপনি রাশিয়া ও ভারতের পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সত্যিকারের কি সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন?”

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“সুপ্রীম কোর্টের কাছে সিস্টেমা কোম্পানীর ছাড়পত্র সংক্রান্ত দাবী নিয়ে শুনানী খুব শীঘ্রই হতে চলেছে, আর আমরা এর জন্য চলুন একটু অপেক্ষা করি.

যদিও আমি এই ত্রয়োদশ শীর্ষ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত চুক্তি গুলিকে ভারত ও রাশিয়ার একে অপরের বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয়ই বলব. তার মধ্যে দুশো কোটি ডলার মূল্যের বিনিয়োগ তহবিল সৃষ্টিও রয়েছে.

রাশিয়ার হেলিকপ্টার ভারতে নির্মাণ ও ভারতের ওষুধ রাশিয়াতে তৈরী বিষয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় অঙ্ক দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. তার ওপরে নিস – গ্লোনাসস, যার শতকরা ৭০ ভাগ শেয়ার সিস্টেমা কোম্পানীর, তারাও দুটি ভবিষ্যত সম্ভাবনাময় দলিল স্বাক্ষর করেছে এই ত্রয়োদশ শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে, যার অর্থ হল দীর্ঘ দিনের জন্য ভারতের বাজারে উপস্থিত থাকার সক্রিয় ইচ্ছা.

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আমরা গত মাসের বাত্সরিক শীর্ষ সম্মেলনে ঠিক করেছি যে, একটি প্রাথমিক বিনিয়োগের বিষয়ে তালিকা প্রস্তুত করবো এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি পথ নির্দেশও তৈরী করবো. সব মিলিয়ে ভারতে রুশ বিনিয়োগ ও রাশিয়াতে ভারতীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুবই ভাল বলে মনে হয়”.

প্রশ্ন ছিল: “বাণিজ্য সংক্রান্ত সম্ভাবনা সম্বন্ধে কি বলতে পারেন”?

উত্তরে অজয় মলহোত্র বলেছেন: “আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা হল এটা নিয়ে নিয়মিত ভাবে দেখা হচ্ছে কি করে তার উন্নতি করা যেতে পারে. আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমান ২০০৯ সালে সাড়ে সাতশো কোটি ডলারের সমান, ২০১০ সালে সাড়ে আটশো, ২০১১ সালে ছিল আটশো নব্বই কোটি ডলারের সমান. আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এক প্রভাব ফেলার মতো উন্নতি করেছে ২০১২ সালের জানুয়ারী থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে ও ২০১১ সালের একই সময়ের তুলনায় শতকরা সাড়ে বত্রিশ ভাগ উন্নতি করতে পেরেছে. এই উল্লেখযোগ্য উন্নতি দুই পক্ষেরই প্রচেষ্টার ফসল. আমরা এক উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে ২০১২ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিয়েছিলাম. তৃতীয় রুশ – ভারত ব্যবসায়িক আলোচনা মস্কোতে আয়োজন করা হয়েছিল এই ফোরামের নেপথ্যে. বহু সংখ্যক ভারতীয় বাণিজ্য বিকাশ পর্ষদ, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংক্রান্ত বোর্ড ও অন্যান্য প্রতিনিধি দল রাশিয়াতে গত হেমন্তে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে চতুর্থ ভারত রাশিয়া ব্যবসায়িক আলোচনা করা হয়েছে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে, উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন এক বৃহত্ ব্যবসায়িক দল নিয়ে অষ্টাদশ ভারত রাশিয়া সরকারি বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক পরিষদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে গিয়েছিলেন. ষষ্ঠ ভারত – রাশিয়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ফোরাম এরই পাশাপাশি করা হয়েছিল. বিশেষ করে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল ভারত ও রাশিয়ার এলাকা গুলির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য. আমি নিজে ২০১২ সালে এই কারণেই যে সব জায়গায় ঘুরেছি, তার মধ্যে রয়েছে বাশকরতোস্তান, ইরকুত্সক, কুরস্ক, তাতারস্থান, লেনিনগ্রাদ ও স্ভেরদলোভস্ক এলাকা, প্রিমোরস্ক এলাকা ও চুভাশিয়া রাজ্য.

আমাদের ২০১২ সালে বাণিজ্যের বিষয়ে এই সুস্থ উন্নতি ইতিবাচক মানসিকতার জন্য এক ভাল ধরনের ভিত্তি হতে পারে. ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে কি তথ্য হতে চলেছে তার অপেক্ষা করা হচ্ছে. যাই হোক, ভারত – রাশিয়া বাণিজ্যের পরিমান ২০১২ সালে অবশ্যই হাজার কোটি ডলার পার করবে ও আমি আশা করছি, তা এক হাজার একশ কোটি হবে. এটা সাম্প্রতিক কালে আমাদের রুশ ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত বিকাশের বছর হবে. বিশেষত, বিশ্ব জোড়া অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে ও ভারতের সার্বিক রপ্তানীর ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় রকমের হ্রাসের ক্ষেত্রে এটা খুবই উল্লেখ যোগ্য ঘটনা. যদি এই বছরেও এই রকম দ্রুত উন্নতিকে ২০১৫ সাল অবধি ধরে রাখা সম্ভব হয়, তবে ২০১৫ সালের মধ্যে আশাবাদী দুই হাজার কোটি ডলারের সমান অর্থ পরিমানের বাণিজ্যও, যা আমরা আগেই ২০১৫ সালের জন্য লক্ষ্য হিসাবে রেখেছি, তা পূর্ণ হতে পারবে”.

“আরও একবার, আমি মহামান্য রাষ্ট্রদূতকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্র দিবসের জন্য অভিনন্দন জানাতে চাইব এবং আশা করব ভারত – রুশ বন্ধনকে উন্নতি করার. আমরা ভারতের সমস্ত মানুষেরই সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করছি”.

অজয় মলহোত্র বলেছেন:

“আপনাকে ধন্যবাদ নাতাশা. আমাদের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আপনার ভাল কথা ও শুভ কামনাকে খুবই গভীর ভাবে স্বাগত জানাই. আমার তরফ থেকে আপনাদের শ্রোতা ও দর্শকদের এক সুস্থ, সুখী ও সমৃদ্ধির ২০১৩ সালের কামনা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি.”