রাশিয়ার বিকাশ নিয়ে দাভোস শহরের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের উপস্থিত করা কল্পচিত্র মোটেও বাস্তব নয়, কারণ তার প্রত্যেকটিতেই প্রশাসন কোন রকমের ব্যবস্থাই নিচ্ছে না বলে দেখানো হয়েছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বুধবারে এই ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে. সুইজারল্যান্ড দেশে খুবই হাল ফ্যাশনের এই পাহাড়ী স্কি করার পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় ১০০টি দেশ ও সংস্থা থেকে আড়াই হাজারেরও বেশী প্রতিনিধি বিশ্বের অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করতে এসেছেন.

দাভোস শহরের রাশিয়ার বিকাশের পরম্পরা প্রস্তাব করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওলেগ ত্সীভিনস্কি, রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্কুলের সের্গেই গুরিয়েভ ও প্রাক্তন রুশ অর্থমন্ত্রী, যাঁকে এক সময়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজেই রাষ্ট্রপতি থাকাকালীণ বরখাস্ত করেছিলেন, সেই আলেক্সেই কুদরিন. বিশেষজ্ঞদের দেখানো তিনটি পথই হতাশাব্যাঞ্জক. প্রথমটিতে দেখানো হয়েছে যে, বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের দাম বাড়তেই থাকবে. রাশিয়াতে এই সময়ে উন্নয়ন হবে শুধু খনিজ তেল বয়ে নিয়ে যাওয়ার এলাকা গুলিতে, যা খুবই বেশী করে দেশের আভ্যন্তরীণ তুলনা সম্পর্ক নষ্ট কে দেবে. দ্বিতীয় কল্পচিত্র – খনিজ তেলের দাম বেশীই থাকবে, কিন্তু রাশিয়ার মন্ত্রীসভা খনিজ তেলের দাম থেকে পাওয়া বাড়তি অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণে খরচ করতে চায় না, তার ফলে সামাজিক অসন্তোষ বেড়ে যাবে. তৃতীয় কল্পচিত্র – বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের দাম ব্যারেল পিছু ষাট ডলারের চেয়ে কম হবে. ফলে সরকারের পক্ষে সমস্ত সামাজিক প্রকল্পের জন্য অর্থের যোগান খুবই অপ্রতুল হবে, আর দেশের অর্থনীতির বিকাশ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে. অর্থাত্ এক কথায় বিশ্লেষকরা আগে থেকেই পূর্বাভাস দিতে চাইছেন যে, বিশ্বের বাজারে খনিজ তেল ও কাঁচামালের দাম যে দিকেই যাক না কেন, রাশিয়ার জন্য সবটাই খারাপ হবে, তাই বিশ্বায়ন সমস্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মিখাইল দেলিয়াগিন বলেছেন:

“এই সব কটি কল্পচিত্র খুবই নেতিবাচক. যারা লিবারেল, তাঁদের জন্য রাশিয়ার বিকাশের কোনও ইতিবাচক সম্ভাবনাই নেই. সব মিলিয়ে এটা খুবই কার্য কারণ উপযুক্ত. এই কথা সত্য যে, রাশিয়াকে লিবারেল রাজনীতি উন্নত করতে পারে না, কারণ তা করা হয় শুধু পৃথিবী জোড়া বহুজাতিক ব্যবসায়ের স্বার্থেই. আর যখন আপনি দেশের বিকাশে বাধা দেন, তখন সত্যিই তার সমস্ত সম্ভাবনাকেই তীক্ষ্ণ ভাবে নেতিবাচক লাগে”.

দিমিত্রি মেদভেদেভ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সমস্ত প্রবন্ধ রচয়িতাদের বক্তব্যই শুনেছেন ও তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন হতাশার মানসিকতার জন্য. কারণ যদি এই সব পূর্বাভাস গুলি ইতিবাচক হত, তবে মন্ত্রীসভার শুধু বাকী থাকত আরাম করার, আর এটাই বিপজ্জনক. আর তাও রুশ মন্ত্রীসভার প্রধান এখানে দেখানো কল্পচিত্র গুলিকে বাতিল করেছেন. প্রাথমিক ভাবে সেই কারণে যে, প্রত্যেকটিতেই দেখানো হয়েছে যে, দেশের প্রশাসন সম্পূর্ণ ভাবে নির্বিকার, আর এটাই দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এক নয়. মেদভেদেভ স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতি এখনও কাঁচামাল রপ্তানীর বাস্তবের উপরে অনেকটাই নির্ভরশীল, কিন্তু দেশের বড় ভাবে দেখা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট রকমের ভারসাম্য রাখে এবং অর্থনৈতিক বিকাশের হার গত বছরেই ছিল শতকরা সাড়ে তিন ভাগ. দেশের বাইরের ঋণও স্বল্প – প্রায় দেশের বার্ষিক গড় উত্পাদনের মাত্র তিন শতাংশের মতো. তাছাড়া, বিগত সময়ে দেশে কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরী সম্ভব হয়েছে, যারা দেশে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে ভিত্তিমূলক ভাবেই শুরু করতে পেরেছে. দেশের আইন ব্যবস্থারও সংশোধন করা হচ্ছে, বিনিয়োগের আবহাওয়াও ভাল হচ্ছে.

রাশিয়াতে আভ্যন্তরীণ সংশোধনের জন্য তার বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনও প্রয়োজন নেই, এই কথাই স্পষ্ট করে উল্লেখ করে হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্স নামে জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কাজকর্মের বিষয়ে প্রধান ইভগেনি ইয়াসিন বলেছেন:

“বাস্তবে রাশিয়ার বিকাশের ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরম্পরা সম্ভাব্য. কিন্তু যখন আমরা বলি: খনিজ তেলের দাম বেশী, দাম কম, - এটা বাইরের পরিস্থিতির উপরে নির্ভরশীল হয়ে কাজ করা, যা আমাদের অপেক্ষা করে না. আর প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে যা বলা যেতে পারে, যা রাশিয়াতে প্রয়োজন, তা খনিজ তেলের দাম কি হবে তার উপরে নির্ভর করে না”.

নিজের ভাষণের সময়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, “সমস্ত রকমের শক্তি প্রয়োগ স্বত্ত্বেও, সঙ্কট কালীণ অবস্থার রোগের কারণ গুলির প্রত্যাবর্তন ও বিশ্ব জোড়া মন্দা সম্পূর্ণ ভাবেই সম্ভাব্য. কিন্তু রাশিয়ার জন্য প্রধান ঝুঁকি বাইরের কোন বিষয় নয়. আমাদের দেশের ভিতরেরই বাধাগুলি আজ প্রথম সারিতে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে, আর তার প্রধান বিপদ – এটা খুবই কম ও খুবই উল্লেখযোগ্য নয় এই রকমের প্রগতি এই সব সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে”.