বৃহস্পতিবারে ভারতের প্রধান বিরোধী শক্তি – ভারতীয় জনতা পার্টি – এক দেশ জোড়া প্রতিবাদ মিছিল আয়োজন করেছে, যা করা হচ্ছে কিছু আগে করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডের বক্তব্যের প্রতিবাদে. তিনি বিজেপি দলকে ও অন্যান্য কিছু হিন্দু সংস্থাকে – অংশতঃ রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযুক্ত করেছেন. এই বিপুল জন সমাবেশ ও গণ প্রতিবাদ মিছিল বিজেপি দলের এক দিন আগে সদ্য নির্বাচিত সভাপতি রাজনাথ সিংহের জন্য একটি বৃহত্ অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে. কিন্তু এখানে সবচেয়ে মুখ্য হল – উদ্ভূত পরিস্থিতি আরও একবার সেই প্রশ্নেরই প্রসঙ্গ টেনে এনেছে যে, কতদূর সাবধান থাকা উচিত্ রাজনীতিবিদদের, যাঁরা যে কোন ধর্মের নামকেই সন্ত্রাসবাদের সাথে এক সারিতে নিয়ে আসার ভুল করে থাকেন, তাঁদের প্রকাশ্য ভাষণের সময়ে.

এই স্ক্যান্ডাল শুরু হয়েছিল রবিবারে, যখন শ্রী শিন্ডে, সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস পরিষদের (বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান নিয়ন্ত্রক কাঠামো) অধিবেশনে ঘোষণা করেছেন যে, বিজেপি অথবা আরএসএস, তা সে যারাই হোক না কেন, তাদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হিন্দু সন্ত্রাসবাদেরই উস্কানি দিচ্ছে.

এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সচিব রাজ কুমার সিংহ, যিনি আবার ঘোষণা করেছেন যে, দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে কম করে হলেও দশ জনের নাম রয়েছে, যারা কোন না কোন ভাবে আরএসএস দলের সঙ্গে জড়িত ও বিগত বছর গুলিতে ঘটা বেশ কিছু অনুরণন তোলা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত.

যদিও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব খুবই দ্রুত চেষ্টা করেছে “সন্ত্রাসবাদ” ও “হিন্দুত্ব” শব্দ দুটিকে জুড়ে দেওয়া এড়ানোর জন্য, এই বলে যে, এটা মন্ত্রীর আচমকা মন্তব্য, তবুও শ্রী শিন্ডের মন্তব্য সত্যিকারের ঝড়ই তুলেছে.

এই আগুনে আবার ঘি ঢেলেছে সেই পরিস্থিতিও যে, পাকিস্তানেও এই মন্তব্য আঁকড়ে ধরেছে চরমপন্থী ঐস্লামিক শক্তি গুলি. পাকিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর- এ- তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সৈদ, যাকে ভারতে মনে করা হয়ে থাকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে মুম্বাই শহরের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের এক উদ্যোক্তা ও আয়োজক, সে ঘোষণা করেছে যে, এই ঘোষণার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে ভারতীয় প্রচারের সমস্ত মিথ্যা আত্ম পরিচয়, যা শুধু মুসলমানদের দিকেই সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অঙ্গুলি নির্দেশ করে থাকে. সে আবার পাকিস্তানের নেতৃত্বকে আহ্বান করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতকে সন্ত্রাসবাদী দেশ বলে ঘোষণা করানোর উদ্যোগ নিতে.

এই সব ঘটে যাওয়া ঘটনা আবার করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, প্রকাশ্য রাজনীতিবিদদের কত বেশী সাবধান হওয়া দরকার, যখন তাঁরা “সন্ত্রাসবাদ” শব্দটির সঙ্গে কোন একটি ধর্মের নামকে পাশাপাশি রেখে ফেলেন, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“অনেকদিন আগেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদীদের কোন রকমের ধর্ম নেই, আর যদি তারা কোন ধর্মের বেশবাস পরে উপস্থিতও হয় তবে, মনে করতে হবে যে, তারা আসলে নিজেদের কুকীর্তির প্রতিবাদকে ধর্মের বিরুদ্ধে করা নিগ্রহ বলেই প্রমাণ করতে চায়. বিশেষ করে সাবধান থাকা দরকার সেই সমস্ত সময়ে, যখন প্রাক্ নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়তেই থাকে. আর যদিও ভারতের আগামী সর্বজনীন নির্বাচন এখনও আরও এক বছর পরের আগে হওয়ার কথা নয়, তবুও প্রাক্ নির্বাচনী লড়াই চলছে পুরোদমে ও তা প্রত্যেক দিনের সঙ্গেই আরও তীক্ষ্ণ হচ্ছে”.

খুবই স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিজেপি দলকে সমালোচনা করে, যাদের আজ আগামী নির্বাচনের সময়ে সবচেয়ে ফেভারিট দল বলেই ভাবা হচ্ছে, মন্ত্রী শ্রী শিন্ডে এই দলের ছবিকেই কালিমা লিপ্ত করতে চেয়েছেন. কিন্তু এর প্রভাব হয়েছে একেবারেই বিপরীত.

ফলে শুধু তিনি নিজেই নিজের হাল খারাপ করেন নি, বরং নিজের দলের নেতৃত্বকেই বাধ্য করেছেন আত্মরক্ষা মূলক অবস্থান নিতে. আর এটা খুব একটা সুবিধার নয়, এমন এক পরিস্থিতিতেই, যখন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস খুব একটা সহজ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে না, আর দলের জনপ্রিয়তা ও তাদের নেতৃত্বে তৈরী মন্ত্রীসভার প্রতি লোকের আস্থা রয়েছে খুবই নীচু স্তরে.

0তার ওপরে, তিনি বাস্তবে বিজেপি দলের নতুন নেতাকে তাঁর পদে নির্বাচিত হওয়ার পরের দিনই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন খুবই উজ্জ্বল ভাবে আত্ম পরিচয় দেওয়ার. আর শ্রী শিন্ডের কথা “হিন্দু সন্ত্রাসবাদ”, তা আচমকা বলে ফেলা বা ইচ্ছাকৃত প্রচারের কায়দা, সে যাই হোক না কেন – তারই জন্য ও তার দলের জন্যও খুবই দামী হয়ে গেল.