প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরের একটি নদীর পার ধরে একেবারেই অসাধারণ হুড়োহুড়ি দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল প্রচুর আওয়াজ ও ঘন্টা ধ্বনির মতো শব্দ. এখানে যারা ছিলেন, এরা সবাই প্রতিভাশালী স্থপতি ও তারা এসেছিলেন “সাইবেরিয়ার জাদু বরফ” উত্সবে অংশ নিতে ও তারা কাজ করছিলেন বরফ ও তুষার নিয়ে. নানা রকমের স্থাপত্য তৈরী করতে গিয়ে. শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা এই কয়েক দিনে হয়েছিল দুই ধারে অনেক গুলি বরফের মূর্তি দিয়ে তৈরী এক পায়ে হাঁটার পথ.

এই সব দারুণ চকচকে গঠন গুলি একেবারেই কল্পনাকেও হার মানিয়ে দিয়েছিল. যাতে এই গুলি লোকে দেখতে পায়, তাই রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, কাজাখস্থান থেকে আসা ভাস্কর ও শিল্পীদের এখানে কেটে, ছেঁটে, গর্ত করে, জুড়ে এবং এমনকি ইস্তিরি দিয়ে গরম করে এই সব মূর্তি বানাতে হয়েছিল. তার ওপরে আবার এই সব দলের লোকরা বিভিন্ন রকমের কায়দা করে বরফ ও তুষার নিয়ে কাজ করেছে. যেমন চিনের কুশলীরা, তাদের মূর্তি তৈরী করার শেষ ধাপে ইস্তিরি ব্যবহার করেছে. রাশিয়ার ভাস্কররা আবার পছন্দ করেন একটু গরম করে নেওয়া অ্যালুমিনিয়ামের বেলচা, যা দিয়ে তারা মূর্তি গুলিকে পালিশ করেন. যার পরে বরফ আরও স্বচ্ছ হয়ে যায়.

বরফ দিয়ে কোনও মূর্তি তৈরীর কায়দা তুষার দিয়ে তৈরী করার চেয়ে একেবারেই আলাদা. বরফের মূর্তি তৈরীর ক্ষেত্রে ছোট ব্লক কেটে মূর্তির অঙ্গ বানানো হয়ে তাকে ও তার পরে জল দিয়ে জোড়া হয়ে থাকে. তুষার দিয়ে যারা মূর্তি তৈরী করেন, তারা অন্য রকম ভাবে কাজ করে থাকেন: আগে থেকে তৈরী করা বিশাল বড় তুষার চাপ দিয়ে জড়ো করে তৈরী করা ব্লক থেকে সমস্ত বাড়তি জিনিষ কেটে বাদ দিয়ে থাকেন.

এই ধরনের মূর্তি বানানোর জন্য দল গুলিকে সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র চার দিন. তাই তাদের কাজ করতে হয়েছিল দিনে ষোল ঘন্টা করে. প্রথমে এই কাজের ফল মূল্যায়ণ করেছেন ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরের অধিবাসীরা, যারা এই সব দিনই লক্ষ্য রেখেছেন কি করে শিল্প তৈরী হয়, তার ওপরে. তবে এটা সত্যি যে, দূর থেকেই. কাজ শেষ হওয়ার পরেই শুধু তারা এই স্থাপত্য গুলির কাছে আসতে পেরেছিলেন. এই সব কটিই ভাল করে খুঁটিয়ে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল, যদিও সেই গুলিকে জাল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল. এটা অবশ্যই কিছুটা খারাপ করে দিয়েছিল এই প্রদর্শনীর সম্বন্ধে ধারণাকে, কিন্তু কিছু কাজ ছিল এতই ভঙ্গুর ও সূক্ষ্ম, যে মনে হয়েছিল, সেই গুলি একেবারেই একটা হাল্কা ছোঁয়াতেই টুকরো হয়ে ভেঙে পড়বে.

এই উত্সবের উদ্বোধন হওয়ার পরে প্রথম ঘন্টাতেই তিরিশটিরও বেশী ভাস্কর্য সমেত এই হাঁটা পথে হাজারেরও বেশী দর্শকের সমাগম দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. অনেক শহুরে লোকই পরে আপশোষ করেছিলেন যে, ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরে শীত চলে গেলেই এই সুন্দর মূর্তি গুলি গলে যাবে. খুবই ইচ্ছা হয়েছিল এই সৌন্দর্য অনেক দিন ধরে উপভোগ করার জন্য! শীত কেউই বাড়িয়ে দিতে পারে না, কিন্তু প্রত্যেক বছরেই এই ধরনের উত্সব করা যেতেই পারে. ক্রাসনোইয়ারস্ক শহরের লোকদের এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, প্রতি বছরেই তাদের শহরে বরফ ও তুষারের অপূর্ব সব ভাস্কর্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে, যা তৈরী করে দেবেন সব প্রতিভাশালী শিল্পীরা.