রাশিয়ার এফএসবি নতুন অদৃশ্য ফ্রন্ট খুলতে যাচ্ছে. রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা অনুসারে এফএসবি তৈরি করবে নির্ণয়, সতর্কীকরন ও নির্মূল করার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা. আজ দেশের তথ্য রসদের উপর কম্পিউটার হামলার আশঙ্কা কতখানি গুরুতর, সে বিষয়ে ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা.

ভারচ্যুয়াল পরিমন্ডলে যুদ্ধ আর কল্পকাহিনী নয়. তার প্রকৃষ্ট উদাহরন হল কাসপেরস্কি ল্যাবরেটরি আবিস্কৃত গুপ্তচর ভাইরাস ‘রেড অক্টোবর’, যা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে পৃথিবীর বহু দেশের সরকারী দপ্তরগুলির ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রগুলির নেটওয়ার্ক ভেঙে ঢুকে পড়েছিল. এখনো নির্ণয় করা যায়নি, কে বা কারা এর হোতা, কিন্তু ভাইরাসের বিস্তীর্ণ কার্যকলাপ বুঝিয়ে দেয়, যে গুপ্তচরদের ব্যাপক আকারের কর্মপরিধি. এই পরিস্থিতিতে নতুন ব্যবস্থা গড়ে রাশিয়ার তথ্য রসদের জন্য প্রতিরক্ষা দেওয়ার একান্ত ইচ্ছা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক – বলছেন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র এ্যাডভাইসার দমিত্রি ত্রোশিনঃ

আজ একদিকে টেলি কমিউনিকেশন, ইলেকট্রনিক্সের বিকাশের স্তর, দেশের পরিকাঠামোর জন্য তাদের ভূমিকা ও অন্যদিকে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম বানানোর সব কলকাঠির উদ্ভাবন বাধ্য করছে তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতর স্তরে উত্তীর্ণ করতে. অবশ্যই এটা সাইবার অন্তর্ঘাত, সাইবার সন্ত্রাস ও শেষপর্যন্ত সাইবারনেটিক যুদ্ধের বিরূদ্ধে প্রস্তুতি.

এটা গোপন কথা নয়, যে রাশিয়ায় আছে তথ্য নিরাপত্তা ও ভারচ্যুয়াল পরিমন্ডলে আক্রমণ প্রতিহত করার বিভাগ. এমন সব বিভাগ আছে যেমন এফএসবি, তেমনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে, তদুপরি তারা মিলেমিশে কাজ করে. তবে আলাদা বিভাগ গড়া – বিকল্পহীন সঠিক সিদ্ধান্ত. নতুন বিভাগকে সত্যিকারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ করার জন্য ভারচ্যুয়াল আক্রমণ প্রতিহত করার কাজ করতে হবে – এই মত পোষন করছেন সমাজ-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভ্লাদিমির এভসিয়েভ.

সন্ত্রাসবাদের নতুন রূপ – সাইবারনেটিক সন্ত্রাস. এবং তা বাস্তবে লোকক্ষয় ঘটাতে সক্ষম. এই সম্পর্কেই মুলতঃ কথা হচ্ছে. রাশিয়া সেইসব সাইবার আক্রমণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যাদের লক্ষ্য উত্তর ককেশাস বা অন্য কোনো এলাকা. সমস্ত রকম পরিবহন, বিশেষ করে বিমান চলাচল পরিচালন ব্যবস্থার জন্য দরকার বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা. এটা কাজ করবে রাষ্ট্রীয় ও সশস্ত্র শক্তির অধীন অনুরুপ ব্যবস্থার পাশাপাশি. এর অপরিহার্যতা ক্রমশঃই বাড়ছে.

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যে সাইবারনেটিক সংঘাতের পরিমান ও তীক্ষ্ণতা ভবিষ্যতে বাড়তেই থাকবে, তাই রাশিয়ায় এরকম বিভাগের পত্তন – স্বাভাবিক ব্যাপার. একে ছাড়া সাইবারনেটিক যুদ্ধে করুন হাল হতে পারে.