রাশিয়া বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্ব পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থানকে এক প্রধান প্রভাব ও শক্তি কেন্দ্র হিসাবে মজবুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে. রাশিয়ার রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণতম দিক হয়েছে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশ এলাকার রাষ্ট্র সমূহের মধ্যে সমাকলনের কাজ আরও গভীরে করা. এই বিষয়ে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাত্সরিক কাজকর্মের ফলাফল নিয়ে আয়োজিত এক বড় সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন রুশ পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ.

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে রুশ দেশের বিদেশ মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষ একেবারেই সশস্ত্র যুদ্ধের পথ ত্যাগ করতে চাইছে না, আর পশ্চিমের দেশ গুলি এটাতেই উস্কানি দিচ্ছে. রাশিয়ার সহকর্মী দেশ গুলি, একমাত্র চিন বাদে, কেউই চেষ্টা করছে না দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য, তাই সম্পূর্ণ দায়িত্ব রয়ে যাচ্ছে পশ্চিমে দেশ গুলির উপরেই, যারা বাশার আসাদের প্রশাসনের সঙ্গে কোন রকমের সমঝোতা না করে যুদ্ধের বিষয়ে বিরোধী পক্ষকে সহায়তা করছে. এই বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন:

“আমরা সিরিয়ার সমস্ত পক্ষের সঙ্গেই দেখা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, আর আমরা আমাদের কাজের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও সমস্ত বিরোধী পক্ষের সঙ্গে একই অবস্থানে থেকে কথা বলছি. কিন্তু, দুঃখের বিষয় হল যে, জেনেভাতে যে অন্য কাজকর্মের গোষ্ঠী তৈরী করা হয়েছিল, তারাও বিরোধী পক্ষের কাছে যোগাযোগের সময়ে ভুল সঙ্কেত পাঠাচ্ছে আর সেই দেশের প্রশাসনের সঙ্গে একেবারেই যোগাযোগ করছে না. সুতরাং দেখাই যাচ্ছে পক্ষদের আলোচনার টেবিলে বসানোর কোন চেষ্টা হচ্ছে না. শুধু আমরা এটা করার চেষ্টা করেছি, আর আমাদের চিনের সহকর্মীরা, আর তারই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নান করেছিলেন ও তাঁর জায়গায় যিনি এখন রয়েছেন, সেই লাখদার ব্রাহিমি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও তীক্ষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রাশিয়াকেও উদ্বিগ্ন করেছে ও মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিকেও করেছে. ২০১২ সালে মস্কো শহরে যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার বৈঠকে এই বিষয়ে আলাদা করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন. কিন্তু মস্কো পরিকল্পনা করে নি ২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা সেনা বাহিনী চলে যাওয়ার পরে এই এলাকায় কোনও বাড়তি শক্তি ও মাধ্যম নিয়ে যাওয়ার. আপাততঃ যথেষ্ট হয়েছে তাজিকিস্তানে রুশ সামরিক ঘাঁটি থাকা. “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধির পক্ষ থেকে করা প্রশ্নের উত্তরে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী এই কথাই বলেছেন.

ইরানের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্র প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া এই সমস্যার সমাধানে শক্তি প্রয়োগের চরম বিরোধী. এই ধারণাকে মস্কো শহরে মনে করা হয় খুবই বিপজ্জনক বলে. রাশিয়া শুধু আশা করেছে যে, ইরানের সঙ্গে ছয় পক্ষের আলোচনা শীঘ্রই নতুন করে শুরু হবে.

ইরান – এই এলাকার এক গুরুত্বপূর্ণতম দেশ. তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া সেখানের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়. এই ক্ষেত্রে মস্কো মনে করে যে, খুবই বড় ভুল হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের লোকদের বৈঠকে আহ্বান না করা, যা সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণের জন্য করা হচ্ছে. মন্ত্রী তাঁর পক্ষ থেকে বিশ্বাস বলে উল্লেখ করেছেন যে, খুব শীঘ্রই তথাকথিত আন্তর্জাতিক ছয় পক্ষ (রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানী) ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হবে.

আফ্রিকার পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে ফ্রান্সের সেনা বাহিনীকে মালিতে সেই সব লোকের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে, যারা কিছুদিন আগে পশ্চিমের প্রশ্রয় পেয়ে লিবিয়াতে গাদ্দাফির প্রশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল. প্রসঙ্গতঃ, এক সময়ে এই জঙ্গীরা অস্ত্র পেয়েছিল পশ্চিম থেকেই. এই সম্পর্কে মন্ত্রী বিশেষ করে বলেছেন যে, ইউরোপের লোকদের উচিত্ হবে এই “বৃহত্ নিকটপ্রাচ্য” অঞ্চলের জন্য বড় করে পৃথিবীর অনুপাতে ধারণা তৈরী করার, যেখানে সব কিছুই একে অপরের সঙ্গে জড়িত.

সের্গেই লাভরভ আহ্বান করেছেন ঐস্লামিক দেশ গুলিকে এক সহমত প্রদর্শনের জন্য ও বিশ্বের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম মতের মধ্যেই বিরোধের ফলে ভাগ হতে না দিতে. “রাশিয়া খুবই গুরুতর ভাবে ইসলামের নানা ধরনের প্রবাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন, - সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন মন্ত্রী. এটা খুবই বিস্ফোরণের উপযুক্ত ক্ষমতা, যা জমা হচ্ছে, আর এর সঙ্গে কিছু একটা করা উচিত্, প্রাথমিক ভাবেই আরব লীগ ও ঐস্লামিক রাষ্ট্র গুলির জোটের তরফ থেকেই”.

“বড় কুড়ি”, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকস গোষ্ঠীতে রাশিয়া নিজেদের সভাপতিত্বের সময়কে কাজে লাগাতে চায় পরবর্তী কালে জোট গুলির প্রগতি ও গঠন মূলক কাজ কর্মের জন্য. লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়া এই সমস্ত গঠনে সভাপতিত্ব করবে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে. “এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় আমাদের উপস্থিতিকে মজবুত করা - এক খুবই গুরুত্বপূর্ণ মৌল, যা রাশিয়ার অবস্থানকেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সবল করবে”, বলেছেন মন্ত্রী. তিনি সমস্ত সহকর্মীদেরই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নিরাপত্তার ধারণা নির্ণয়ের কাজে সহযোগিতা করতে আহ্বান করেছেন.