জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ রাজ্যের অধিবাসীদের সতর্ক করে দিয়েছে সম্ভাব্য পারমানবিক যুদ্ধের সম্বন্ধে. পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে নিজেদের বাড়ীর নীচে বাঙ্কার বানানোর জন্য ও তাতে কম করে হলেও দু সপ্তাহের মতো জল ও খাবারের ব্যবস্থা করতে. একটি স্থানীয় ইংরাজী সংবাদপত্রে এই সাবধান বাণী ছাপা হয়েছে. একই সময়ে সেখানেই প্রকাশিত হয়েছে খুবই বিস্তৃত ভাবে শত্রু পক্ষ থেকে পারমানবিক, রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র প্রয়োগের ক্ষেত্রে কি ভাবে আত্মরক্ষা করা উচিত্, তা নিয়ে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

কাশ্মীরে পারমানবিক যুদ্ধের সম্বন্ধে সাবধান বাণী ও আত্মরক্ষার উপায় নির্দেশ, যা স্থানীয় সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে, তা অনেকেই ভারতে মনে করেছেন জায়গা মতো হয় নি. পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাত্সরিক নাগরিক আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ বলেই ও এমনকি পুলিশের প্রতিনিধি আহ্বান করেছেন এই প্রকাশনাকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কয়েকদিন আগের ঘটনার সঙ্গে না জড়াতে, যা ভারত- পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে এক তীক্ষ্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে. দিল্লী শহরে বিরোধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউটের কার্যকরী অধ্যক্ষ ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মোকাবিলার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অজয় সাহানি বলেছেন যে, এই ধরনের প্রকাশনা অর্থহীণ, যা পরবর্তী কালে এই এলাকার পরিস্থিতিকে আরও তীক্ষ্ণ করতে সক্ষম. এই ভাবে এমনকি ভঙ্গুর শান্তিকেও নষ্ট করা যেতে পারে, যা কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর রয়েছে, - তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন.

মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ এই দৃষ্টিকোণের সঙ্গে একমত. তিনি মনে করেন যে, এই সংবাদপত্রে প্রকাশনার পিছনে সেই রকমের শক্তিও থাকতে পারে, যাদের স্বার্থ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ চালিয়ে যাওয়া. তাই তিনি বলেছেন:

“ভারত ও পাকিস্তানে এই ধরনের শক্তি রয়েছে কি না, যাদের জন্য লাভজনক হল উত্তেজনা বৃদ্ধি, যা এমনিতেই পারমানবিক যুদ্ধের কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, সেই প্রশ্নে আমার উত্তর হবে হ্যাঁ রয়েছে. এই ধরনের শক্তি দুই দেশেই রয়েছে. প্রাথমিক ভাবে তাদের পক্ষে রয়েছে সামরিক শিল্প ক্ষেত্র ও সব মিলিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী দুটি. বিশাল বাজেট বরাদ্দ, যা এই দুই সামরিক বাহিনী পাচ্ছে, তা লক্ষ্যহীণ. তাই তারা এটা যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে যুক্তি দিতে চাইছে: পাকিস্তানের ক্ষেত্রে ভারতের তরফ থেকে, আর ভারতে পাকিস্তানের তরফ থেকে. আর দ্বিতীয়তঃ, কিছু রাজনৈতিক শক্তিও রয়েছে, যারা পরিস্থিতি টানটান হওয়াকে ব্যবহার করছে নিজেদের দলীয় স্বার্থে. এই ধরনের বিরোধ অনন্তকাল চলতেই পারে. বিরোধী দল গুলি ক্ষমতাসীন সরকার ও দল দের প্রতি অভিযোগ করছে, যে তারা নরম, শত্রুকে জায়গা মতো বসিয়ে দিতে পারছে না. বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে আলাদা করে উল্লেখ যোগ্য হয়েছে চরমপন্থী মুসলিম ও হিন্দু গোষ্ঠী ও দল গুলিই”.

তা স্বত্ত্বেও, ভারত ও পাকিস্তান শান্তি আলোচনা থেকে নিরস্ত হয় নি. এই বছরের শুরুতে, আগের মতই দুই দেশ একে অপরকে নিজেদের পারমানবিক ক্ষেত্র গুলি নিয়ে রিপোর্ট পাঠিয়েছে.