রাশিয়ার অর্থনীতি প্রাণ সঞ্চারের অপেক্ষায় রয়েছে. গত বছরে বার্ষিক গড় উত্পাদনের হার লক্ষ্যণীয় ভাবেই কম হয়েছে, তাও আবার সেই ক্ষেত্রে যে, দেশের উত্পাদন সক্ষম সমস্ত ক্ষমতাই সম্পূর্ণ ভাবে কাজে লাগানো হয়েছিল, আর বেকারত্ব ছিল সবচেয়ে কম স্তরেই. অর্থনৈতিক প্রশ্ন নিয়ে এক অধিবেশনে দেশের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে চাহিদা বৃদ্ধির জন্য অর্থ বিনিয়োগের কোনও মানে হয় না – এর ফলে শুধু জিনিষের মূল্য বৃদ্ধিই হবে. আর তিনি প্রস্তাব করেছেন এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পরিকাঠামো ক্ষেত্রেই বেশী সক্রিয় ভাবে বিনিয়োগের. এই পদক্ষেপের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত নিয়ে রেডিও রাশিয়ার বেতার তরঙ্গে দেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন.

বিশ্ব সঙ্কটের পরিস্থিতিতে আশা করা যে, কেউ দেশের পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করবে, তা কম করে হলেও খুবই অতিসরলীকরণ, এই রকম মনে করে আধুনিক উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইগর ইউরগেনস্ বলেছেন:

“আমি রাশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোয় কোন রকমের বড় প্রাণ সঞ্চারের লক্ষণ দেশের ভিতরের বিনিয়োগকারীদের তরফ থেকে দেখতে পাচ্ছি না. স্রেফ এই কারণেই যে, বাইরের হোক বা দেশের ভেতরেরই হোক, সব বিনিয়োগকারীই কিছু একটা ভাল খবরের আশায় রয়েছেন. বর্তমানে ইউরোপ থেকে যে সব খবর আসছে, তা খুবই সন্তর্পণে আশাব্যঞ্জক হতে চলেছে, কিন্তু একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় মন্দার সম্ভাবনা রয়েছে গ্রীস, স্পেন, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভাবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর সংক্রান্ত কিনারা নিয়েও একই কথা বলা যেতে পারে – সাময়িক সমাধান রয়েছে, কোন রকমের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা নেই. অর্থাত্ রাশিয়ার উত্পাদকদের জন্য, যাতে বিনিয়োগ করা যেতে পারে, যাতে নিজেদের ব্যবসা বৃদ্ধি করা যেতে পারে অথবা তার প্রসার বাড়ানো যেতে পারে, তার জন্য প্রয়োজন পড়বে আরও গুরুত্বপূর্ণ রকমের ইতিবাচক গতিবেগ দেওয়া. এখন আমরা সেই গুলিই পাচ্ছি না”.

এরই মধ্যে এই পর্যায়ে রাস্তা তৈরী করা নিয়ে বিনিয়োগ, যোগাযোগের ও গৃহ পালন বিষয়ে বিনিয়োগ প্রশাসনই করতে পারে. রাশিয়ার এর জন্য সম্ভাবনাও রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ইভগেনি গুরভিচ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, রাশিয়ার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত রসদ প্রচুর রয়েছে. এর উত্স হিসাবে জাতীয় সমৃদ্ধি তহবিল ও বার্ধক্য ভাতা তহবিল যুক্ত হতেই পারে. তাদের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পত্রে পরিণত করার মানে হয়, যেখানে আগে সেই গুলিকে পাঠানো হত ও পরিকাঠামোর প্রকল্পে দেওয়া যেতে পারে. কিন্তু শুধু বিনিয়োগের উত্স বিষয়েই সমস্যা নয়, বরং সমস্যা রয়েছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও বিশেষ সফল কোনও পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প না থাকার জন্য. তাই এই ধরনের প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা রাষ্ট্র উত্স ব্যবহার করে করার দরকার ধীরে”.

আর তারপরে রাষ্ট্রের উদ্যোগ দেখে ব্যক্তি মালিকানাও এগিয়ে আসবে বলে মনে করেছেন জাতীয় অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভিক্টর ইভান্তের. আধুনিক পরিকাঠামো তৈরী ও অংশতঃ, রাস্তা ঘাটের বহুল প্রসার শুধু অর্থনীতিতেই নতুন শক্তি যোগ করবে না, বরং দেশের রাজ্য গুলির উন্নয়নেও গতি এনে দেবে, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আগে থেকে করা হলে এটা ব্যক্তিগত মালিকানার পক্ষ থেকে কাজের সুযোগ পরে করে দেবে. বোঝাই যাচ্ছে যে, যদি রাস্তা থাকে, তবেই ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলি নিজেদের কল কারখানা তার পাশেই তৈরী করতে আসবে”.

মার্চ মাসে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা তাঁদের তৈরী রিপোর্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে দেবেন, যার নাম রাশিয়ার স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য বিশ্ব অস্থিতিশীলতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা সমূহ. এখানে মনে করতে হবে যে, পরিকাঠামো সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নেবে.