মায়ানমার চিনকে মালাক্কা প্রণালীতে মার্কিন প্রবাল প্রাচীর গুলি এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে. বেজিং ঘোষণা করেছে যে, মে মাসের শেষে ভারত মহাসাগর থেকে মায়ানমার – চিন সীমান্ত অবধি খনিজ তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন ব্যবহারের উপযুক্ত করে তৈরী হয়ে যাবে. এই ঘোষণা করা হয়েছে মায়ানমারের রাজধানী নেইপিডো শহরে প্রথম রাউন্ডের দ্বিপাক্ষিক পরামর্শের পরে.

এই পরামর্শ করেছেন সামরিক বাহিনীর লোকরা. এই আলোচনা হয়েছে চিন – মায়ানমার সীমান্ত এলাকায় অশান্ত পরিস্থিতি সম্বন্ধেই. মায়ানমারের উত্তরে কাচিন প্রজাতির বসবাসের জায়গায় দেশের প্রশাসন শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছে. এক সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল, আর সামরিক বাহিনী গোলা বর্ষণ করেছিল. একটি গোলা চিন সীমান্তের কাছে ফেটেছিল, যার কারণেই এই রকমের দ্রুত সামরিক পর্যায়ে সাক্ষাত্কারের প্রয়োজন পড়েছিল.

এরই মধ্যে খুবই বোধগম্য হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সময়ে খনিজ তেল ও গ্যাসের বিষয়ে চিনের আগ্রহের কারণ. চিনের স্বার্থ এশিয়াতে আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সংঘাতে মগ্ন হয়েছে আরও অনেক বেশী করেই, এই রকম মনে করে সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নিজেদের প্রাথমিক কাজ হিসাবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাকেই নির্দিষ্ট করেছে. আর এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সরাসরি সংঘাত. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করছে সব রকম ভাবেই চিনকে মায়ানমার সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করে আটকে রাখার. আর তারই সঙ্গে ভারতের সঙ্গেও সহযোগিতা মজবুত করে. এছাড়া এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক ঘাঁটিও তৈরী করছে. অংশতঃ, অস্ট্রেলিয়াতে. তা থেকেই তাদের চিন বিরোধী লক্ষ্য একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে”.

এখানে কথা হচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডারউইনের কাছের ঘাঁটি চিনের রকেটের জন্য পৌঁছনোর অযোগ্য জায়গা. আবার একই সময়ে পেন্টাগন সেখান থেকে নিজেদের রকেট ও বিমান বহর দিয়ে মালাক্কা প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে. আর এর অর্থ হল নিকটপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে চিনের বয়ে আনা খনিজ তেল ও গ্যাসের ট্যাঙ্কার গুলি আমেরিকার সামরিক বাধার কাছে আটকে পড়তেই পারে. সেই কারণেই মায়ানমারের ভারত মহাসাগরের সমুদ্র তীরের কাছ থেকে তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন তাদের এলাকার মধ্য দিয়ে তৈরী করা - চিনের জন্য শুধু জ্বালানীর জন্যই নয়, বরং স্ট্র্যাটেজিক নিরাপত্তার প্রশ্নও বটে.

মায়ানমারে আগামী শেষ হয়ে আসা জ্বালানী প্রকল্প গুলি নিয়ে ঘোষণা করে চিন বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে, তারা এশিয়াতে নিজেদের স্বার্থের জন্য লড়াইতে ভাল ভাবেই তৈরী. মায়ানমার থেকে চিন পর্যন্ত পাইপ লাইনের ক্ষমতা বছরে ২কোটি ২০ লক্ষ টন খনিজ তেল ও ১২০কোটি কিউবিক মিটার খনিজ গ্যাস পরিবহনের উপযুক্ত. জুন মাস থেকেই এই পাইপ লাইন দিয়ে পাম্প করা শুরু হয়ে যাবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবারে কি উত্তর তৈরী করবে, যারা কিছু আগেই মায়ানমারের উপর থেকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বাধা নিষেধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে? সেখানে আমেরিকার সহযোগী দেশ গুলিই যেমন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কি করবে, যাদের নিজেদেরও মায়ানমারে স্বার্থ মজবুত করার প্রসঙ্গ রয়েছে? শেষমেষ, মায়ানমারে নিজেদের প্রভাব ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে ভারতই বা কি রকমের প্রতিক্রিয়া দেখাবে? দেখাই যাচ্ছে যে, এটা এশিয়াতে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে লড়াইয়ের মাঠ হয়েছে. চিন আপাততঃ এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে. প্রশ্ন হল তা কি অনেক দিনের জন্য?