ভারতের ক্ষমতাসীন দল জাতীয় কংগ্রেসের সহ সভাপতি হয়েছেন রাহুল গান্ধী. শনিবারে তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের দ্বিতীয় প্রভাবশালী পদে নিযুক্ত হয়েছেন. এই সিদ্ধান্ত দলের কার্যকরী পরিষদ জয়পুর শহরে দলের অধিবেশনের পরে নিয়েছে. রাহুল গান্ধীকে এই পদের জন্য প্রস্তাব সরকারি ভাবে দলের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি করেছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

৪২ বছর বয়সী রাহুল গান্ধীর নতুন পদমর্যাদা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে যুব নির্বাচক সমাজের রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় যোগদানের বিষয়ে নীতিকেই স্পষ্ট করেছে. এই ধরনের পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বিশেষ করেই লক্ষ্যণীয় হয়েছে এই দলের রাজনৈতিক অবস্থান হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে. গত বছরে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে এই দলের হেরে যাওয়া ছিল দেখার মতো, বিশেষ করেই সংবেদনশীল হয়েছে ভারতের জনসংখ্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঘন ও বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশে.

আজ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস খুবই বড় রকমের রাজনৈতিক সঙ্কটের সামনে রয়েছে, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞানী ও ভারতবিদ্ ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন:

“এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দল ও তার সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এই সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন. কতটা এটা সম্ভব হবে, তা বলা কঠিন. ব্যাপার হল যে, ২০১৪ সালে ভারতে লোকসভা নির্বাচন হতে চলেছে, এখন হিসেব করা হয়েছে যে, রাহুল গান্ধী একজন অল্পবয়সী নেতা হয়ে এই সঙ্কটের কানাগলি থেকে দলকে উদ্ধার করবেন, যেখানে আজ দলের অবস্থান. কিন্তু এখানে বলার দরকার হবে যে, বিরোধীরাও ঘুমিয়ে নেই.”

রাহুল গান্ধী – ভারতীয় রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে নেহাতই যুবক রাজনীতিবিদ. বর্তমানের অনেক মন্ত্রীই পেনশন পাওয়ার মতো বয়সের নেতা. ২০০৪ সাল থেকে রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে যোগ দিয়েছেন. ২০০৭ সালে তিনি সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস পরিষদের নেতা নিযুক্ত হয়েছিলেন – যা এই দলের প্রধান প্রশাসনিক অঙ্গ. তিনি কংগ্রেস দলের যুব সঙ্ঘের কাজকর্মে নেতৃত্ব দিয়েছেন ও ভারতীয় যুব সমাজের সমস্যা নিয়েও যথেষ্ট ওয়াকিবহাল. এই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি নির্বাচকদের জন্য আগ্রহ সঞ্চার করতে পারেন. কারণ ভারতের বেশীর ভাগ বা অর্ধেকের বেশী নির্বাচকই যুব সমাজের লোক.

রাহুল গান্ধী ভারতের একটি প্রধান সমস্যা বলে মনে করেন যুব সমাজের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকাকে. ক্ষমতা শুধু তাদের কাছেই রয়েছে, যারা প্রশাসনের শীর্ষে রয়েছেন. খুবই গুরুতর পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়েছে. এটাই তাঁর নিয়োগ পরবর্তী বক্তৃতার মূল কথা. তিনি বলেছেন, “আমার অভিজ্ঞতা বিপুল, এই দল – এক মহান দল, আমরা এই দেশে পরিবর্তন করতেই পারি”. – এনডিটিভি টেলিভিশন চ্যানেল রাহুল গান্ধীর বক্তৃতা এই ভাবেই দেখিয়েছে. রাহুলের বক্তৃতা অনেককেই উদ্বুদ্ধ করেছে, বিশেষত যুব কংগ্রেসের লোকদের.

আগামী বছরে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক সংগ্রামের সময়ে রাহুল গান্ধী কংগ্রেস দলের প্রধান বাজী হতে চলেছেন.

কিন্তু এই হিসেব কতটা ঠিক করা হয়েছে? কোন গোপনীয় কথা নয় যে, আজ ভারতের অনেককেই রাহুল গান্ধীর নেহরু- গান্ধী পরিবারের লোক হওয়াটাই বিরক্ত করে. তারা কোন রকমের বংশ পরম্পরার বিরোধী. আর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সহ সভাপতি হিসাবে রাহুলের নিয়োগকে তাঁরা দেখছেন সেই ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাকেই বজায় রাখার চেষ্টা হিসাবে, যাকে অনেকেই বলে থাকেন আর্খাইক.

আজ ভারত আর সেই ধরনের নয়, যা কয়েক দশক আগেও ছিল. ভারতীয়রা এখন চাইছেন গণতান্ত্রিক বিন্যাস এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, উপযুক্ত কর্ম সংস্থান ও ভাল বেতন, বাড়ী ঘর সুন্দর করে রাখা আর দুর্নীতি ও হিংসার অবসান. গতানুগতিক ঐতিহ্যবাহী আদর্শগত নীতি, যা আগের কয়েক বছর কাজ করেছে মোটামুটি ভাল করেই, তা এবারে হয়তো কাজ করবেই না.