মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতি পদে শপথ গ্রহণের আগে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগের নতুন ঘটনা ঘটেছে. পাঁচজন নিহত হয়েছে, তত জনই আহত. ওবামা ১৭ই জানুয়ারী আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রীর বিষয়ে বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন. আর তারই সঙ্গে ঘোষণা করেছেন বেআইনি অস্ত্র কারবার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে. এই ধরনের আইন নেওয়াকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের একটি অন্যতম লক্ষ্য হিসাবে নির্দিষ্ট করেছেন. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এটা করা খুবই কঠিন হবে – এমনকি ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও ওবামার জন্য সম্পূর্ণ সমর্থন নেই.

এক পনেরো বছরের কিশোর কেন তার বাবা, মা, ভাই আর দুই বোনকে গুলি করে হত্যা করেছে তার কারণ এখনও জানা যায় নি. এই রকমের একটি ঘটনা ঘটেছে রবিবারের ভোর রাতে নিউ মেক্সিকো রাজ্যের আলবুকার্ক শহরের উপকণ্ঠে. স্থানীয় পুলিশ জোর দিয়ে বলছে যে, এটা কোন দুর্ঘটনা নয়, বরং এক “ভয়ঙ্কর নাটক”: নিহতদের শরীরে বহু সংখ্যক গুলির ক্ষত রয়েছে. এর ঠিক একদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরও কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে. আহত হয়েছেন পাঁচজন মানুষ.

ঘটে যাওয়া এই সব ঘটনা আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সারা দেশ জুড়ে আলোচনার কারণ হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে. গত সপ্তাহে বারাক ওবামা আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাঁর দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি মেয়াদের সময়ে এই প্রশ্নে একটি ইতি করা সম্ভব হবে. তিনি দেশের কংগ্রেসকে আইনের খসড়া সমর্থন করতে আহ্বান করেছেন, যা দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারের উপরে নিয়মকে বেশী করে কঠোর করবে.

ওবামার পক্ষ থেকে সমর্থন করা ব্যবস্থা গুলির মধ্যে - মানসিক ভাবে অসুস্থ নাগরিকদের উপরে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির কথা রয়েছে, যারা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে. এরই মধ্যে আরও বেশী করেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, কাজ করার দরকার রয়েছে একই সাথে সব দিকেই – শুধু লোকের উপরে নজর রেখেই কিছু করা যাবে না, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ মিখাইল ত্রইতস্কি বলেছেন:

“আমেরিকার লোকরা অনেক দিন ধরেই জেনেশুনেই মনে করেছেন যে, এই ধরনের বাড়তি ব্যাপার, যেমন সম্পূর্ণ ভাবে মানসিক ভাবে সুস্থ নয়, এমন সব লোকদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ব্যক্তিগত ভাবে অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়. ঠিক যেমন বিমান দুর্ঘটনা হয়ে থাকে বলে বিমান চলাচল বন্ধ করা যায় না. একটা বিতর্কের রাজনীতি রয়েছে এই সব নিয়ে. এমন সব লোকও রয়েছেন, যাঁরা বর্তমানের এই সব ঘটনার নেপথ্যে জন সাধারণের জন্য মানসিক চিকিত্সার ব্যবস্থায় গলদ দেখতে পেতে চাইছেন. এটাও সত্যি যে, গত শতকের আশির দশকে রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগানের সময়ে বহু মানসিক চিকিত্সালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল. অনেক পর্যবেক্ষকই এতে দেখতে পেয়েছেন আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত ঘটনার কারণ”.

প্রসঙ্গতঃ, ওবামা যেসব ব্যবস্থার পত্তন করতে চাইছেন, তার বিরুদ্ধে খুবই কঠোর সমালোচনা সেই রিপাব্লিকান দলের লোকরাই করছেন. তাঁরা রাষ্ট্রপতির নামে দোষ দিচ্ছেন যে, তিনি নাগরিক অধিকারে আরও বেশী করেই হস্তক্ষেপ করেছেন.এই ক্ষেত্রে আবার এক গবেষণার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রমাণ করে দিয়েছে: ১৯৯৪ সালে জোর করে ঢুকে পড়ার মতো অর্ধেক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বিক্রী করে দেওয়ার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাধারন আগ্নেয়াস্ত্র প্রয়োগ করে অপরাধের সংখ্যা খালি বেড়েই গিয়েছে. এই আইনের খসড়ার ভবিষ্যত এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ বিপক্ষে বেশ কিছু কংগ্রেস সদস্য বক্তৃতা দিয়েছেন. যখন আইন প্রণেতারা তর্ক করছেন, নতুন সমস্ত ট্র্যাজেডি শুধু সমাজের পরবর্তী কালে ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বাড়িয়ে দিয়েছে, এটাই বিশ্লেষকরা লক্ষ্য করেছেন.