জনসমীক্ষার ফলাফল অধ্যয়ন করে দেখা গেছে, যে রাশিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রীয় দপ্তর হচ্ছে – জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়. তার কাজ ফলপ্রসূ ও সবার চোখের সামনে. রাশিয়ার উদ্ধারকার্য কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ও লঘু কাজের কোনো ভেদাভেদ করেন না. কারন কখনো কখনো শুধু ভূমিকম্প বা ত্সুনামিই নয়, আচমকা চাবি ছাড়া দরজা বন্ধ করে ফেললে মানুষের বাঁচামরার প্রশ্ন উঠে যেতে পারে. ঐ মন্ত্রণালয়ের উদ্ধারকার্য কর্মীরা যে কোনো সাহায্যের জন্য ডাকে অবিলম্বে সাড়া দেয়, এমনকি একটা ঘরছাড়া বিড়ালবাচ্চাকে উদ্ধার করার কাজেও.

আজ জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় – একটি মজবুত দপ্তর, যাদের কাছে আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও এই বিভাগে তারা বিশ্বে সবচেয়ে জোরদার দপ্তর. আর সবকিছু শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে একটি অনতিবৃহত স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকারীদের ব্রিগেড দিয়ে. ১৯৯৪ সালে ব্রিগেডটিকে রুশ ফেডারেশনের ক্যাবিনেট মন্ত্রণালয়ে পরিণত করা হয়. কিভাবে গড়ে উঠেছিল রাশিয়ার অসামরিক প্রতিরক্ষা, আপদকালীন ত্রাণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলা করার দপ্তর – সে বিষয়ে জানাচ্ছেন সংকটজনক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে দপ্তরটির ভাইস-ডিরেক্টর আন্দ্রেই লেগোশিন.—

খুব সম্ভবতঃ রাশিয়ায় এই দপ্তর প্রতিষ্ঠা করার পেছনে ছিল ইতিপূর্বে ঘটা দুটি বিপর্যয় – ১৯৮৬ সালে চেরনোবিলে পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্রে বীভত্স দুর্ঘটনা ও ১৯৮৮ সালে আর্মেনিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প. ততদিনে পৃথিবীর অনেক দেশেই এরকম রাষ্ট্রীয় উদ্ধারকারী দপ্তর কাজ করছিল, যারা জনগণকে উদ্ধার করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে. সোভিয়েত ইউনিয়নে কিন্তু সেরকম অভিন্ন কোনো দপ্তর ছিল না.

যারা প্রথম রুশী উদ্ধারকারী ব্রিগেডে যোগ দিয়েছিল আন্দ্রেই লেগোশিন ও তার ভাই ছিলেন তাদের অন্যতম. যমজ ভাইয়েরা সব কাজ বরাবর একসাথে করতো – রেডিও ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করেছিল একসাথে, পর্বতারোহন ছিল তাদের নেশা ও উদ্ধারকাজ করার অধিকার দেওয়া সার্টিফিকেটও তারা পেয়েছিল একসাথে. তারপর তারা উদ্ধারকার্য ব্রিগেডে যোগ দেন ও সেই থেকে তাদের বৃত্তি – মানুষকে উদ্ধার করা. আর্মেনিয়াতেই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধ্বংস ঘরবাড়ি খেকে লোকজনকে উদ্ধার করার সময়ে ভাইয়েরা বুঝতে পেরেছিল – অপরের বিপদ বলে কিছু নেই ও মানুষকে বাঁচানো – অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পেশা. শীঘ্রই লেগোশিন ভাইদের সাথী হল একটি দারুন কুকুর – স্প্যানিয়েল লোয়, যে ভাইদের সাথে উদ্ধারকাজ করার সময় যন্ত্রপাতির চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি ধ্বংসস্তুপের নীচে থেকে জীবন্ত মানুষদের খুঁজে বের করে উদ্ধার করতো. ব্রিগেডে কুকুরদের একটা সাবব্রিগেড খোলা হল. সেই সময় থেকে সর্বদাই বিপর্যস্ত এলাকায় দুর্গত মানুষদের বাঁচাতে রওনা দেয় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুররাও মানুষের সাথে.

রাশিয়ার উদ্ধারকারী ব্রিগেডের কর্মকান্ড ক্রমশঃ বিস্তৃত হতে শুরু করলো. গত কয়েক দশকে বিশ্ববাসী নতুন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে – সন্ত্রাসবাদী হামলার. জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার, সেজন্য আছে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর. কিন্তু সন্ত্রাসের পরিণতি ঘোচানো তাদের দাযিত্বের মধ্যে পড়ে. –

সারা বিশ্বের একজোট হয়ে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করা দরকার, কারণ সন্ত্রাসবাদীরা এতদিনে সবরকম সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে, যার পরে আর ওদের মানুষ বলে ধরা যায় না. আন্দ্রেই লেগোশিনের দৃঢ় বিশ্বাস এই, যে সন্ত্রাসের কুমতলব করে জঘন্য সব মস্তিষ্ক, সাধারন মানুষের মাথায় কখনো সে রকম মতলব আসবে না. সাধারনতঃ সন্ত্রাসের ফলে বহু মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়, সেটা বিরাট একটা মানসিক শকও ভুক্তভোগীদের জন্য. এখানে দরকার চিকিত্সক. তাই জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের হেফাজতে জরুরী চিকিত্সা সাহায্য দেওয়ার ব্রিগেডও আছে.

জরুরী পরিস্থিতি দপ্তরের কর্মকান্ডের উত্কর্ষতা সাধনের কাজ চলছে প্রতিনিয়ত. সংকটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য ভূখন্ডগত ভাগ করা হয়েছে পরিকাঠামোর. জাতীয় স্তরে এরকম সংগঠন রাশিয়ার আবিষ্কার ও বিশ্বে তার কোনো তুলনা নেই. সদর-দপ্তর মস্কোয় অবস্থিত ও আঞ্চলিক শাখা কেন্দ্রগুলির সাথে তার অবিচ্ছিন্ন সংযোগ, তাদের মধ্যে নিরন্তর তথ্যাবলীর আদানপ্রদান হয়. জরুরী পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার কোনো আশংকা থাকলে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা তত্ক্ষণাত জনসাধারনকে হুঁশিয়ার করে দেয়.

জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রীদপ্তরের কার্যকালে রাশিয়ার উদ্ধারকারী ও দমকল কর্মীরা একশোরও বেশি বার বিদেশে সাহায্য যুগিয়েছে. লেগোশিন বলছেন –

যে ব্যক্তি আমাদের কাছে কাজ করতে আসে এই ভেবে, যে এই কাজ তার পছন্দ হবে, পরে অন্যথা ভাবে, তারা বেশিদিন এখানে টেঁকে না. আমাদের এখানে আচমকা কেউ কাজ করে না. উপরন্তু উদ্ধারকারীর পেশায় বেশিদিন কাজ করা যায় না, যদি না তোমার উপযুক্ত জ্ঞানগম্যি ও প্রস্তুতি থাকে.

জরুরী পরিস্থিতি মন্ত্রনালয়ের জন্য কর্মীদের বিশেষ মাধ্যমিক ও ঊচ্চ বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়. উদ্ধারকারীরা ছাড়াও দপ্তরে কাজ করে চিকিত্সকেরা, ইঞ্জিনীয়াররা, এ্যাকাউন্টেন্টরা, যোগানদারেরা – মানে বহুরকম ডিভিশন. মোটামুটি ১ জন উদ্ধারকর্মীর জন্য গড়ে ৫-৬ জন শিক্ষিত কর্মী. ফলপ্রসূ কাজ ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম করে. ফলপ্রসূতা হচ্ছে সেটাই, যখন সবাইকে বাঁচানো গেল, কেউ মারা যায় নি – বলছেন আন্দ্রেই লেগোশিন.