রুশী বিজ্ঞানীরা পরিকল্পনা করেছেন, যে নিরীক্ষার মাধ্যমে হয় তারা প্রমাণ করবেন নতুবা খারিজ করবেন এই ধারনা, যে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল মহাজগতে. তাদের এ ব্যাপারে সাহায্য করবে ‘বিওন-এম১’ নামক স্যাটেলাইট.

বিওন সিরিজের স্যাটেলাইটগুলো বানানো হয়েছে ভরহীন পরিবেশে মহাজাগতিক জীববিজ্ঞানের বিষয়ে গবেষণা করার জন্য. এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৭৩ সালে. তখন প্লিতসেস্ক মহাকাশ বন্দর থেকে ‘কসমস-৬০৫’ নামক বায়োস্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল. ২২ দিন ধরে স্যাটেলাইটটির উড়ানকালে বিজ্ঞানীরা অধ্যয়ন করেছিলেন ভরহীন পরিবেশে দীর্ঘকাল থাকার সময় হাড় ও তন্তুর উপর তার প্রভাব. পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল ছুঁচো, কচ্ছপ, পোকামাকড় ইত্যাদি.

২০ বছরেরও বেশি সময়কালে ঐ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১টি স্যাটেলাইট মহাকাশে তখন পাঠানো হয়েছিল. তার আওতায় বায়ুশূন্য পরিবেশে পাঠানো হয়েছিল পাখি, ছুঁচো, বানর ও অন্যান্য জীবজন্তু. ফলশ্রুতিতে সংগৃহীত জ্ঞান ব্যবহার করা হতো অঙ্গ-প্রতঙ্গের উপর ভরহীন পরিবেশের প্রভাব বোঝার ও সেই অনুসারে সুপারিশ করার কাজে.

১৯৯৬ সালে প্রকল্পটির কাজ থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল. তবে সম্প্রতি সেটা আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. ২০১৪ সালের মধ্যে ৩টি স্যাটেলাইট পাঠানো হবে, তার মধ্যে একটা পাঠানো হবে ২০১৩ সালের বসন্তকালে.

ঠিক করা হয়েছে, যে মহাকাশে পাঠানো হবে মাছেদের, শামুকদের, গাছপালার বীজ, শ্যাওলা এবং ডিএনকে ও আরএনকের নমুনা. এই নিরীক্ষার ফারাক আগেকার বিওনের গবেষণার সাথে এই, যে এবারে বৈজ্ঞানিক পদার্থগুলি শুধুমাত্র স্যাটেলাইটের ভেতরেই থাকবে না, তার বাইরের গায়েও থাকবে.

স্যাটেলাইটটার বাইরের গায়ে লাগানো হবে কৃত্রিম উল্কাখন্ড, যার ফাঁকফোকরে থাকবে ব্যাকটেরিয়া. সেগুলি বায়ুমন্ডলের ঘন স্তর অতিক্রম করে যাবে, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস দুই হাজার সেলসিয়াস পর্যন্ত. তারপরেই বোঝা যাবে – জীবানু ঐ পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম কিনা. এইভাবেই বোঝা যাবে যে পৃথিবীতে অন্য কোনো গ্রহ থেকে জীবন উড়ে আসার সম্ভাবনা ছিল কিনা.

বিজ্ঞানীরা বিশেষ করে উল্লেখ করছেন, যে নতুন স্যাটেলাইটটির কাজ হবে আগেকারগুলির তুলনায় বেশি গভীর. এর সাহায্যে তারা বুঝতে চান অনু ও জিনের স্তরে মাধ্যাকর্ষনের কতখানি প্রভাব রয়েছে.

রাশিয়ার ও বিদেশের বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রস্তাবিত প্রায় ৮০টা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে. সবমিলিয়ে প্রকল্পটিতে অংশ নেবে ২০টি স্বদেশী ও ১৫টি বিদেশী বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র.