আলজেরিয়ায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার একটি গ্যাসক্ষেত্রে বিদ্রোহীদের গুলিতে ২৩ জন বন্দী নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। এ কর্মকান্ডকে সন্ত্রাসীমূলক বলে নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তবে আলজেরিয়ার সরকারের রয়েছে নিজস্ব পরিকল্পনা। বন্দীদের উদ্ধারের অভিযানের চেয়ে দেশটির সরকার জঙ্গীদের ধ্বংস করার জন্যই বেশি তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বন্দীদের মুক্ত করে ফিরিয়ে আনার জন্য যে কোন অভিযানের ক্ষেত্রে নির্ভুল অনুশীলনের প্রয়োজন। জঙ্গীদের অবস্থান কোথায়, তাঁদের সংখ্যা কত এবং কোথায় তাঁরা বন্দীদের আটকে রেখেছে এসব তথ্য বিশেষ বিভাগের আগে থেকেই জানা থাকা দরকার। তবে আলজেরিয়ার সেনারা এভাবে অগ্রসর হতে পারে নি। এমনটি জানালেন রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি)জঙ্গদমন গ্রুপ “আলফা”র শীর্ষ কর্মকর্তা আলেক্সেই ফিলাতোভ। তিনি বলেন, “ওই ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর অভিজ্ঞতা আলজেরিয়ার সেনাদের নেই। আর এ কারণেই প্রাণহানির সংখ্যা বেশি হয়েছে। বন্দীদের মুক্ত করার জন্যই যে এ অভিযান ছিল তা বলে মনে হচ্ছে না। একে অনেকটা পাল্টা যুদ্ধ বলা যেতে পারে। সেখানে হেলিকপ্টার ও ভারী অস্থসহকারে হামলা করা হয়”।

রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একই কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আলেক্সান্দার মিখাইলোভ। তিনি বলেন, ওই অভিযান বিশ্লেষন করলে বোঝাই যাবে যে, তা বন্দীদের মুক্ত করে ফিরিয়ে আনার জন্য করা হয় নি বরং জনবসতিপূর্ণ এলাকাকে অস্ত্রধারী জঙ্গীদের কাছ থেকে উদ্ধার করার জন্যই পরিচালিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আল-কায়দার সাথে যুক্ত রয়েছে এমন ইসলামি উগ্রপন্থি একদলের জঙ্গিরা বুধবার আলজেরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় একটি গ্যাসক্ষেত্রে অন্তত ১০০ জন কর্মকর্তাকে বন্দী করে। মালিতে ফ্রান্সের সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবী জানায় ওই জঙ্গীরা। শুধু তাই নয়, আমেরিকার কারগারে বন্দী রয়েছে এমন কয়েকজন জঙ্গিদের ছেড়ে দেওয়ার বিনিময় ওই গ্যাসক্ষেত্রের কর্মীদের মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব জানানো হয়। আর যখনই ওই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং জঙ্গীরা স্বেচ্ছায় ধরা নি দিতে চাইলে আলজেরীয় সেনারা ভারী ট্যাংক ও যুদ্ধ হেলিকপ্টার নিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে।

শনিবার ভোর পর্যন্ত সেনারা ৭০ জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৬০০ জনেরও বেশি বন্দীকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ি ১২ জন জঙ্গী ওই অভিযানে নিহত হয়। অন্যদিকে, যে সব জঙ্গী ও বন্দীরা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যেতে পেরেছে তাঁরা একাধিক বেসামরিক মানুষের নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে। যখন সেনারা ওই গ্যাসক্ষেত্রে অভিযান শুরু করে তখন সেখানে কতজন কর্মকর্তা অবস্থান করছিল সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য কারো কাছেই নেই। তবে শুধু জানা গেছে যে, ওই গ্যাস ফিল্ডে আলজেরিয়া, তুরষ্ক, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, জাপান, রুমানিয়া, ফিলিপাইন ও মালেয়শিয়ার নাগরিকরা কাজ করত।