রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার মহাদেশীয় খনিজ তেল ও গ্যাসের ভান্ডারের উপর গবেষণা সক্রিয়তর করার পক্ষে. সেই কাজে ভবিষ্যতে বেসরকারী কোম্পানীদেরও আকৃষ্ট করা হতে পারে.

সামুদ্রিক খনি আবিস্কার করার জন্য প্রচুর পরিমানে বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং এটা দীর্ঘমেয়াদী কাজ. এই কাজে বিনিয়োগ পেতে হলে দরকার দেশে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল আইনব্যবস্থা, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি মেদভেদেভ. মন্ত্রীসভায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে.-

বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত জরুরী হচ্ছে রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতি আস্থা. ইতিপূর্বে একসারি নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল. রাশিয়ার সরকারী কোম্পানীগুলি ও তাদের বিদেশী শরিকদের জন্য বিশেষ শুল্ক ও কর নীতি প্রনয়ন করা হয়েছে.

এই কাজে বেসরকারী কোম্পানীদের অংশ নিতে দেওয়া হবে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেওয়া হয়নি. প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী সের্গেই দনস্কোইয়ের মতে এর উত্তর হওয়া উচিত সদর্থক.

আজকের দিনে খনিজ তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও নিস্কাষন করার অধিকার দেওয়া হয় শুধু সেইসব কোম্পানীকে, যেখানে রাষ্ট্রের শেয়ার ৫০%-এর বেশি ও যাদের পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে. শুধুমাত্র ‘গ্যাসপ্রোম’ ও ‘রসনেফত’ই এই শর্তের সাথে মানানসই. তারা বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধানের কাজ করার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছে. আমলারা মনে করছে, যে তারা তাদের প্রয়োজনীয় সব অনুমতি লাভ করবে. সেক্ষেত্রে রাশিয়ার খনিজ ভান্ডারের প্রায় ৮০%ই তারা করায়ত্ত করে নেবে.

তাহলে বেসরকারী কোম্পানিদের ভাগ্যে কি জুটবে? তাদের এমন সব এলাকা দেওয়া যেতে পারে, য়েখানকার প্রতি রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলি আগ্রহ দেখায়নি. নীলাম করে দেশের খনিজ ভান্ডারের একাংশের মালিকানা বেসরকারী কোম্পানিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা রাষ্ট্রীয় কোম্পানিদ্বয়ের মনঃপুত নয়. গ্যাসপ্রোমের প্রধান আলেক্সেই মিলার খোলাখুলি বলেছেন, যে খনিজ ভান্ডার নিয়ে কাজে তার কনসার্ন অন্য কাউকে হাত দিতে দেবে না.

অন্যদিকে রসনেফতের প্রধান ইগর সেচিন স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে তার কনসার্ন আগামী ১০ বছরে খনিজ দ্রব্য ভান্ডারের ওপর গবেষণার খাতে প্রায় ৪০০০ কোটি ডলার খরচা করতে চলেছে. ছোটখাটো কোম্পানিদের সামর্থ্যে কুলাবে না এত অর্থ ব্যয় করার. রাষ্ট্রীয় দানবাকৃতির কোম্পানিগুলি তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দীদের পেশী ফুলিয়ে দেখাচ্ছে.