এই সপ্তাহে ইসলামাবাদে ছিল প্রবল উত্তেজনা, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের মার্চের সাথে মাঝে মধ্যেই পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছিল. আরব্য বসন্তের সূচনা হওয়ার রটনাও ছড়াচ্ছিল. কিন্তু শুক্রবার আন্দোলনকারীদের প্রধান নেতা তাহির কাদ্রি ঘোষনা করেছেন, যে দেশের শাসকরা তাদের সব দাবীদাওয়া মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে.

পাকিস্তানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আন্দোলনে সামিল হয়েছিল. তারা সরকারকে চরম শর্ত দিয়েছিলঃ শীর্ষ কর্তৃপক্ষের পদত্যাগ, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া ও দেশে বড়সড় সংস্কার সাধন. তাহির কাদ্রির মুখ থেকে মুখ্য অভিযোগ ধ্বনিত হচ্ছিল – পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের দুর্নীতি নিয়ে. তার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাথে সাথে. দেশের সুপ্রীম কোর্ট ঘুষ খাওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আস্রাফকে গ্রেপ্তার করার রায় দিয়েছে.

তবুও আট বছর পরে ক্যানাডা থেকে দেশে ফেরা কাদ্রি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ. ইসলামাবাদে মার্চের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বলেছিলেন, যে সেটা বিপ্লবের সূচনা মাত্র ও ঐ মার্চকে পাকিস্তানে ‘তাহরির চক’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন. কিছু কিছু মিল লক্ষ্য করা গেলেও রাশিয়ার বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির প্রাচ্যতত্ত্ব বিশারদ ভিচেস্লাভ বেলোক্রেনিতস্কির মতে ওখানে জল অতদূর গড়াবে না. –

পাকিস্তানে চলতি ঘটনাবলী অবশ্যই অন্যান্য মুসলিম দেশগুলির কথা মনে পড়িয়ে দেয়. কিন্তু আমার মনে হয় শাসকরা হাল ধরে রাখতে পারবে ও মিশর, লিবিয়া, টিউনিশিয়ার মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেবে না. পাকিস্তান স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাসম্পন্ন দেশ, যদিও মাঝে মধ্যে সেনানায়করা ক্ষমতা হস্তগত করেছে. এখনকার ঘটনাবলী পাকিস্তানকে নতুন নির্বাচনের অভিমুখে নিয়ে যাচ্ছে.

কোনো কোনো বিশ্লেষকের মতে, লাখে লাখে মানুষের মার্চের পেছনে মদত ছিল সেনানায়কদের, যারা বর্তমানের অসামরিক সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট নয়. তাদের মতে, ক্ষমতাশালী লবির মদত ছাড়া তাহির কাদ্রি এত অল্পসময়ে এতো মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাস্তায় নামাতে পারতো না. স্বয়ং কাদ্রি যদিও অস্বীকার করছে, যে সে সেনানায়কদের হাতের পুতুল ও বলছে, যে তার আন্দোলনের লক্ষ্য হচ্ছে চোর ও দুর্নীতিপরায়ন লোকেদের শাসন ক্ষমতা থেকে উত্খাত করা. তবে আপাততঃ অসামরিক লোকদেরই দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে, সেনাদের দুর্নীতি সম্পর্কে টুঁ শব্দটিও করা হচ্ছে না, যেন তারা সবাই সত্.

আপাততঃ কাদ্রি শাসকদের সাথে রফা করেছে যে পার্লামেন্টের নির্বাচন সময়মাফিক সংবিধান মেনেই অনুষ্ঠিত হবে. ভোট শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত দেশ শাসন করবে সব রাজনৈতিক শক্তি অনুমোদিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার. যদিও এই সব সিদ্ধান্ত মার্চ শুরু হওয়ার আগেই গৃহীত হয়েছিল, তবুও মানুষ সোল্লাসে স্বাগত জানিয়েছে ধ্বনিত সিদ্ধান্তকে. লক্ষ লক্ষ মানুষের মার্চ সমাপ্ত হয়েছে, বলে ঘোষনা করা হয়েছে.