আলজেরিয়ায় জঙ্গীদের অপহরণ কার্যক্রম যা প্বার্শবর্তী দেশ মালিতে পরিচালিত ফরসি সামরিক অভিযানকে দুর্বল বলে প্রমান করেছে. বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের ভবিষ্যতদ্বানী ইতোমধ্যে দিয়েছেন. তাঁরা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মালির উত্তরাঞ্চলে চলমান ঘটনা তা শুধুমাত্র জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক সংকট চরিত্র বহন করছে না বরং তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রুপ নিয়েছে.

বিশ্লেষক আন্দ্রেই গ্রোজিন জানান, এখন শুধু মালি বা আলজেরিয়াই নয় বরং পুরো ওই অঞ্চল সাবেক ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিকোলাই সারকাজির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে যাচ্ছে. কিন্তু এলিস প্রাসাদের নতুন মালিক সেই সুযোগ হয়ত দিচ্ছেন না.

রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলছেন, “কয়েক মাস আগে ফ্রান্সোয়া ওলাঁন্দ বলেছিলেন, আফ্রিকায় ফ্রান্স আর কখনও সামরিক অভিযান চালাবে না. এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল সারকাজির সময়ও. কিন্তু, প্রেসিডেন্ট এখন ১৮০ ডিগ্রী কোনে ঘুরে গেছেন. এর কারণ হচ্ছে, ফ্রান্সে ওলান্দের জনপ্রিয়তা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় তিনি ওই ছোটখাটো যুদ্ধে জয়ী হয়ে কিছুটা হলেও তা ঘোঁচাতে চান. তবে অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক বিষয়টিও এর সাথে জড়িত. মালিতে অভিযান চালিয়ে ফ্রান্স পুনরায় আফ্রিকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করবে”.

হয়তবা প্যারিস পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোকে কিছুটা চাপের মধ্যেও রাখছে. পশ্চিম আফ্রিকা সেই যুগে ফিরে যেতে পারে যখন ফ্রান্সের সাথে কোন আলোচনা ছাড়া একটি শব্দও উচ্চারণ করতো না. সত্য হলেও এলিয়েস প্রাসাদের এ কাজ করার দরকার কি আছে.

মালিতে ফ্রান্সের সামরিক অভিযান যা আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে স্মরণ করেই দিচ্ছে. তবে, ফলাফল হতে পারে ঠিক এর উল্টো. প্যারিস দীর্ঘ মেয়াদে মালিতে সেনা মোতায়েন করতে পারবে না.

তবে এখন মালি ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তবর্তী এলাকায় যে যুদ্ধ চলছে তার জন্য স্থায়ী মেয়াদে প্রস্তুত হতে হবে. অন্যদিকে আফগানিস্তানে যে পরিস্থিতি রয়েছে তাতে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন ইভগেনি এরমালোয়েভ. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন,

“মালির উত্তরাঞ্চল যা নিজেকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছে তা ঠিক আফগানিস্তানের চিত্রপটের সাথে মিলে যায়, যখন আফগানিস্তানে তালেবানদের আধিপত্যের বিস্তার ঘটে ও উগ্রবাদী ইসলামিক জঙ্গীদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়. কাবুলে নিয়ন্ত্রণ নিতে তালেবানদের মিছিলে পশ্চিমারা বিরোধীতা করেছিল, কিন্তু মালির উত্তরাঞ্চলে যে সব বিদ্রোহীরা সরকারি সেনাদের ওপর হামলা করছে তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমারা খোলামেলা অবস্থান নিয়েছে. দেড় বছর পূর্বে প্যারিস লিবিয়ার স্থানীয় আন্তর্জাতিক জিহাদ সংগঠন মিলে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলেছিল”.

গাদ্দাফির অধ্যায় শেষ হয়েছে. আর এখন আফ্রিকার জনগন নিজেদের সমস্যা নিয়ে আফ্রিকান ইউনিয়নের দিকে যাচ্ছে আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন হয়ত অর্থকরি দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব পালন করবে. সর্বশেষ যা হবে তাহল, আফ্রিকার সমস্যাবলী নিয়ে ইউরোপীয় জেনারেলরাই সমাধানের চেষ্টা করবেন. আর তাদের কাজও অবশ্য কম হবে না.