রাশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার বাড়ানোর পদ্ধতি নিয়ে মতবিনিময় চলছে. প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট মন্ত্রীসভার কাছে দাবী করেছেন, যে প্রতিবছর অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার যেন ৫ শতাংশের কম না হয়. সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের ভাইস-চেয়ারম্যান আলেক্সেই উল্যুকায়েভের মতে প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির কাছ থেকে অবাস্তব দাবী করছেন. একসারি বিশেষজ্ঞের মতে বর্তমানের ৩,৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার – এটা উর্দ্ধ সীমারেখা.

মত বিনিময় হয়েছে ‘রাশিয়া ও বিশ্ব’ নামক বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে. সেখানে অর্থনীতিবিদ ও আমলাদের সামনে বক্তৃতা দিয়ে দমিত্রি মেদভেদেভ জাতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার বাড়ানোর আদেশ দিয়েছেন মন্ত্রীসভার সদস্যদের. –

নিকট ভবিষ্যতে রুশ ফেডারেশন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হবে – দীর্ঘকালীন স্থিতিশীল বৃদ্ধির হার সুনিশ্চিত করা. অন্ততঃপক্ষে ৫ শতাংশের কম নয়. এই অভিমুখে এগোতে হবে এবং এই লক্ষ্য সাধন করলেই রাশিয়ার নাগরিকদের সুখসমৃদ্ধি দেওয়া সম্ভব হবে – বলেছেন মেদভেদেভ.

সম্মেলন চলাকালে রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন দপ্তরের উপমন্ত্রী আন্দ্রেই ক্লেপাচ সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা করে বলেছেন – যে এ জন্য বাজেট তৈরি করার ও আর্থিক ঋণদানের নীতি খানিকটা শিথিল করা আবশ্যক. অন্যদিকে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের ভাইস-চেয়ারম্যান উল্যুকায়েভ এই দৃষ্টিভঙ্গীর সাথে একমত নয়. তিনি এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন, যে তাহলে শুধু শুধু সাবানের ফেনা বানানো হবে. –

বর্তমানের ৩,৫ শতাংশ – এটা আমাদের বাস্তবিক সামর্থ্যের পক্ষে মানানসই. আর তাই আর্থিক নীতিকে শিথিল করলে তার ফল হবে উল্টো – ঝুঁকি ও ভারসাম্যহীনতা বেড়ে যাবে, বলে উল্যুকায়েভের ধারনা. তার মতে ততখানি আর্থিক নীতি নয়, দরকার অর্থনীতির গুরুতর পরিবর্তন সাধন করার. খনিজ পদার্থের বিক্রির উপর নির্ভরতা কমাতে হবে ও জাতীয় অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভাগ কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে সবুজ সংকেত দিতে হবে. এটা সরকারের কর্তব্য, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের নয়.

প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি মেদভেদেভ এটা বুঝতে পারেন. সরকারও এই অভিমুখে কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে. কিন্তু দেশের বিরোধীপক্ষের অর্থনীতিবিদদের মতে এইসব ব্যবস্থা যথেষ্ট নয় ও তারা সরকারের কড়া সমালোচনা করছে.

বিদেশী অর্থনীতিবিদরা কিন্তু রাশিয়ার সরকার গৃহীত ব্যবস্থাপনায় আশাবাদী. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীল ফার্গুসনের মতে, এই ক্ষেত্রে মস্কোর সফল হওয়ার সম্ভাবনা আছে. তিনি বিভিন্ন দেশে ব্যবসা চালু করতে কতকাল লাগে তার একটা গড় হিসাব জানিয়েছেন. রাশিয়াতে বর্তমানে ব্যবসা চালু করতে মোটামুটি ৭৪০ দিন লাগে – নির্মান কার্যের অনুমতি পেতে, মালিকানা কায়েম করতে, ট্যাক্স দিতে. উদাহরনস্বরূপ আমেরিকায় এর পেছনে গড়ে ৪৩৪ দিন ব্যয় হয়. তবে ফার্গুসন গতিবিধির দিকে নজর দিতে বলছেন. ২০০৬ সাল থেকে আমেরিকায় এই কাজকর্মের পেছনে খরচ হওয়া সময় ১৮% বেড়েছে, আর রাশিয়ায় উল্টে ৩১% কমেছে. সুতরাং তার মতে রাশিয়ায় ব্যবসা করার আবহাওয়ার উন্নতি ঘটেছে.

অতঃপর সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার উপর. আপাততঃ জাতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার সুনিশ্চিত করার জন্য কোন কোন কলকাঠি নাড়ানো দরকার – সে বিষয়ে অর্থনীতিবিদদের মতৈক্য নেই.