লেনিনগ্রাদ নগরী অবরোধের ৭০-তম বার্ষিকী পালন করা হচ্ছে. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখনকার সেন্ট-পিটার্সবার্গ শহরের ঐ নাম ছিল. জার্মান নাত্সী ফৌজ প্রায় ৯০০ দিন ঐ নগরীকে অবরোধ করে রেখেছিল.

অবরোধের সময় সবচেয়ে দুঃসহ ছিল ১৯৪১-৪২ সালের শীতকাল. শহরবাসীদের মাথাপিছু মাত্র ১২৫ গ্রাম করে রুটি দেওয়া হতো. ডিসেম্বরের শুরুতে নগরীতে তাপবন্টন ব্যবস্থা অকেজো হয়ে গেছিল. বাতাসের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত. পোষাক-আষাক ও লেপকম্বলে ঠান্ডা মানাচ্ছিল না. খাট, দেওয়াল সবকিছু ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিল. বিদ্যুতশক্তির অনটন ছিল. সব বিদ্যুতশক্তি সরবরাহ করা হচ্ছিল হাসপাতাল ও সামরিক কারখানাগুলোকে. ইগর সুভোরভ স্মৃতিচারণা করে বলছেন, যে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে আলো থাকতো না. তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর. –

লোকে অন্ধকারের মধ্যে চলাফেরা করতো. ধাক্কা খাওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তখন বিক্রি করা হতো গোলাকৃতি বা রম্বসের আকৃতির ব্যাজ. বিদ্যুতের আলোর কাছে কিছুক্ষণ রাখলেই ঐ ব্যাজগুলিতে মাখানো ফসফরাস জ্বলতো. লোকে ঐসব ব্যাজ পরেই রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতো.

শহরে পুরুষমানুষ প্রায় ছিলই না. সব কাজের দায়িত্ব নিয়েছিল মেয়েরা ও শিশুরা. যাদের বয়স একটু বেশি হয়েছিল, তারা কাজ করতো কল-কারখানায়. অনেকে দমকল বাহিনীতে কাজ করতো, যারা আগুনে বোমায় ক্ষতবিক্ষত বাড়িঘরে আগুন নেভাতো. এই গল্প করছেন মারিয়া মাসলাক. ১২ বছর বয়সে তিনি দমকল বাহিনীতে চাকরি পেয়েছিলেন. –

আমাদের কার্যালয় ছিল ১৫ নম্বর স্ট্রীটে একটা দোতলা বাড়িতে. আমরা দোতলায় ও ছাদে উঠতাম. সেখানে রাখা থাকতো অনেক জলের ড্রাম ও বালির বাক্স. এই বোমা ফেলছে... আমরা সাথেসাথে কাঁটা দিয়ে সেগুলো তুলে ছুঁড়ে ফেলতাম জলের মধ্যে অথবা বালির তলায়. সবসময় বোমা জানলা দিয়ে বাইরে ছুঁড়ে ফেলার মতো শক্তি আমাদের থাকতো না.

তবুও নগরী মাথা নত করেনি, শত্রুকে লেনিনগ্রাদ দখল করতে দেয়নি. যুদ্ধ চলাকালে লেনিনগ্রাদে ১২ লক্ষেরও বেশি অসামরিক অধিবাসী প্রাণ হারিয়েছিল. অবরোধের সময় যারা মারা গেছিল, তাদের ৯৭ শতাংশই ছিল ক্ষুধার শিকার.