বুধবার ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হাইকম্যান্ডের প্রতিনিধিরা কাশ্মীরা নিয়ন্ত্রণ রেখার দুপাশে উত্তেজনা প্রশমন করার বিষয়ে বোঝাপড়া করেছে. ভারতের পক্ষ থেকে লেফটেন্যান্ট জগদীপ ডাহিয়া সাংবাদিকদের এই খবর জানিয়েছেন. তিনি বলেছেন, যে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল জোর দিয়ে বলেছেন, যে তার অনুগত সেনারা নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলিগোলা না চালানোর আদেশ পেয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ লিখছেন –

কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখায় আর গুলিগোলা চালানো হবে না. আধুনিক বিশ্বে কাশ্মীর সমস্যা দীর্ঘকালীন ও অত্যন্ত জটিল. বিশেষতঃ ভারত ও পাকিস্তানের দখলে পারমানবিক অস্ত্র থাকার প্রেক্ষাপটে. জাতিসংঘের আলোচনাসূচীতে এই সমস্যা সেই ১৯৪৮ সাল থেকে রয়েছে. সমস্যাটা মূলতঃ ভারত ও পাকিস্তানের.

গত কয়েকদিনে কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী ঘটনাবলীর দরুন দুইদেশ আবার নতুন যুদ্ধের কিনারায় গিয়ে পৌঁছেছিল. তবে ইতিহাস অনেক শিক্ষা দেয়. যুদ্ধের চেয়ে শান্তি ভালো – এটা যেমন নয়াদিল্লীতে, তেমনই ইসলামাবাদে বুঝতে পেরেছে. ভারত ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানরা টেলিফোন আলাপে কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখায় গুলিবিনিময় বন্ধ করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন. পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ভারতীয়দের শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন.

আলোচনা খুব সহজ হবে না. রাশিয়ার রাজনীতিতত্ত্ববিদ আজদার কুর্তবের মতে, দুই দেশেই এমন অনেক শক্তি আছে, সীমান্তে শান্তি যাদের কাম্য নয়. –

পাকিস্তানে এমন অনেক শক্তি আছে, যারা মুলতঃ ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গীর সমর্থক. তারা চায় ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে শরিয়তের আইনমাফিক, ঠিক যেরকম এখন মিশরে গড়া শুরু হয়েছে. এমন সব শক্তিও পাকিস্তানে আছে, যারা ভারতকে চিরকালের শত্রু বলে গণ্য করে ও তার বিরূদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নিতে উদগ্রীব. তারা নিজেদের কার্যসিদ্ধিতেই ব্যস্ত. দক্ষিণ এশিয়ার এই উত্তেজনাকর এলাকায় শান্তি স্থাপিত হোক – সেটা তারা চায় না কোনোভাবেই.

ইসলামাবাদেও সে কথা স্বীকার করা হচ্ছে. তাই হিনা রাব্বানি খার বলেছেন, যে তাদের উচিত হবে না সুবিধাবাদীদের স্বার্থরক্ষার প্রচেষ্টার শিকার হতে. তবে এটাও ঠিক, যে ভারত ও পাকিস্তানের কোনো সরকারই কখনোই গোটা কাশ্মীরের উপর অধিকার কায়েম করার দাবী ছাড়বে না – সেটা হবে রাজনৈতিক আত্মহত্যা. আজকের দিনে কাশ্মীর সমস্যার নিষ্পত্তির আশা তেমন নেই. তবে বিশ্বের ইতিহাসের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, যে কাশ্মীর সমস্যায় ব্যতিক্রমী তেমন কিছু নেই. অনেক দেশের মধ্যেই সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক রয়েছে. তাই বলে তারা যুদ্ধ বাধায় না বা অর্থনৈতিক সহযোগিতাও পরস্পরের সাথে করে. যেমন ভারতের সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক শুধু পাকিস্তানের সাথেই নয়, চীনের সাথেও. তাসত্বেও ভারত ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ক্রমাগত জোরদার হচ্ছে. ইন্দো-চীনা পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন সামান্য – বার্ষিক মাত্র ৩০০ কোটি.

বোধহয় ভূখন্ড বিতর্কের সমস্যার নিষ্পত্তির জন্য সাময়িকভাবে তার অস্তিত্বই ভুলে যাওয়া দরকার. উত্তেজনা জিইয়ে রাখা ও পেশী প্রদর্শন করে কোনো সুফল মিলবে না. বোধহয় এই বিতর্ককে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিবেশীদের দরকার পারস্পরিক স্বার্থোপযুক্ত ব্যাপারে মনোনিবেশ করার, যেমন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে?