রাশিয়া থেকে আধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহকে বাংলাদেশের জন্য যুক্তিসঙ্গত বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীডা.দিপু মনি

0

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনার সদ্য শেষ হওয়া তিনদিনের রাশিয়া সফরের সামগ্রিক দিক নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে

0 তিনি এ কথা বলেন।

দিপু মনি আরও বলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় ঋণে ১০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র ক্রয় করার সিদ্ধান্ত ছিল তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

0 রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন,

“রাশিয়ার সমরাস্ত্রের সাথে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশ পরিচিত

0

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে মিগ-২১ কেনা হয়েছিল এবং পরে আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য এ দেশ থেকেমিগ-২৯ সরবরাহ করা হয়

0

এছাড়া আমাদের রয়েছে যাত্রীবাহী রুশ বিমান ও হেলিকপ্টার

0

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রাশিয়া থেকে এই নতুন সমরাস্ত্র ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

0

বাংলাদেশের সেনারা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর হয়ে প্রায় সবধরণের শান্তি প্রতিষ্ঠা অভিযানে অংশ নিয়ে থাকে

0

আর তা হওয়া উচিত আধুনিক পর্যায়ে

0

রাশিয়া থেকে এবার যে সমরাস্ত্র পেতে যাচ্ছি তা ওই উদ্দ্যেশ্যেই ব্যবহার করা হবে

0

সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্রের জন্য মিগ-২৯, সাঁজোয়া যান বিটিআর-৮০, বিআরইয়েএম-কে ও বিএমএম কিনেছিল। বিমানবাহিনীর তালিকায় আছে সামরিক পণ্য পরিবহন উপযোগী এমআই১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার।

মস্কোতে অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে শীর্ষ বৈঠকে আরোও যে সব চুক্তপত্র সই হয়েছে তার মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থঋণকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক রচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দিপু মনি।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে দেশের যে প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে তার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ৫শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি সমঝোতা চুক্তি সাক্ষর করেছে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরোও বলেন, “ওই চুক্তির আলোকে মাদক পাচার প্রতিরোধ, অনুমোদনবিহীন অস্ত্র পরিবহন ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ, জলদস্যু দমন অভিযান ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ ও রাশিয়া একে অপরকে তথ্য সরবরাহ করে সাহায্য করবে। সেই সাথে দুই দেশের বিশেষ গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের যৌথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা এতে উল্লেখ রয়েছে। ”

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আমদানি-রফতানি বানিজ্য বাড়াতে সম্মতি হয়েছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। দুই পক্ষই যে এ খাতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সে বিষয়ে জানিয়েছেন দিপু মনি। তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে খুব শিগ্রই একটি বানিজ্য পরিষদ গঠন করা হচ্ছে। ব্যাবসায়ীদের রাশিয়া আগমনের ভিত্তিতে ভিসা দেওয়ার প্রস্তবাটি ভেবে দেখছে রুশ সরকার। রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্যের জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স (জিএসপি) বা অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সাথে রাশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বিপাক্ষীক সম্পর্কীত একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন খাতে রাশিয়া-বাংলাদেশে সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করবে ওই কমিটি। ”

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা র(এসসিও)পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা চেয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। এ সংস্থায় যোগ দেওয়া রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও বেগবান করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন বাংলাদেশর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি।