প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও অধুনাতন প্রধানমন্ত্রী দমিত্রি মেদভেদেভ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার সাধনের যে কাজ শুরু করেছিলেন, তা আশানুরুপ ফল দেয়নি. এরকম সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী আলেক্সেই কুদ্রিনের নেতৃত্বাধীন ‘নাগরিক উদ্যোগ কমিটি’র বিশেষজ্ঞরা. “রাজনৈতিক পার্টি ও নির্বাচন পদ্ধতি বিষয়ক ২০১২ সালে করা সংস্কারের প্রাথমিক ফলাফল” নামক রিপোর্টের সংকলকদের মতে, শাসকদের প্রয়াস এক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল দেয়নি.

নতুন আইন অনুযায়ী নতুন পার্টি নথিভুক্ত করনের প্রক্রিয়া শিথিল করা হয়েছে ও সেনেটরদের সরাসরি আমনির্বাচন আবার প্রবর্তন করা হয়েছে. রাজনৈতিক পার্টির দ্বারা উত্থাপিত প্রার্থীর আর সই সংগ্রহ করার দরকার হবে না. নির্দল প্রার্থীদের জন্য আবশ্যকীয় সমর্থকদের সইয়ের সংখ্যাও অনেক কমানো হয়েছে.

সমালোচকদের মতে, রাশিয়ায় শাসকদের প্রতি অনাস্থা রয়েই গেছে ও তা অতিক্রম করা যায়নি. রাশিয়ার বহু নাগরিক ভোট দিতে যায়নি. তারমানে তাদের জন্য যথেষ্টমাত্রায় পরিবর্তন সাধন করা হয়নি অথবা তারা আর কোনো পরিবর্তনেই বিশ্বাস করে না. রিপোর্টের সংকলকেরা দ্বিতীয় ধারনাটাকেই সম৪থন করছেন. এই প্রসঙ্গে নাগরিক উদ্যোগ কমিটির বিশেষজ্ঞ দমিত্রি ওরেশকিন বলছেনঃ ---

পরিস্থিতি পরস্পরবিরোধী, কারন আমাদের দেশে সংস্কার ও প্রতিসংস্কার চলছে প্রায় একইসাথে. মেদভেদেভ উদারপন্থী ধারনা পেশ করছেন, যেমন, সেনেটরদের সরাসরি নির্বাচন. কিন্তু যেই ঐ ধারনা পেশ করা হল জনসমক্ষে, তক্ষুনি শুরু হয়ে গেল প্রতিসংস্কার, যেমন, তথাকথিত মিউনিসিপ্যাল ফিল্টার. মানে প্রত্যেক নির্দল প্রার্থীকে পৌরসভার সদস্যদের নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট পেতে হবে. আর সব পৌরসভাই কম বা বেশি মাত্রায় সেনেটরের উপর নির্ভরশীল. তাই ওরেশকিনের মতে, আঞ্চলিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য শুভ ধারনার গলায় ফাঁস পরানো হয়েছে.

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে রাজনৈতিক সংস্কার পুরোমাত্রায় কার্যকর করার জন্য সময় দরকার. আজ বিরোধী দলগুলি সহ সব পার্টিই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় উদারপন্থা প্রয়োগের সুফল স্বীকার করছে. যেমন, এক বছরের মধ্যে রাশিয়ায় নথিভুক্ত রাজনৈতিক পার্টির সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ৫৫-য় দাঁড়িয়েছে. আরও প্রায় ২০০টি দল আবেদনপত্র জমা দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ে. গত শরত্কালে আঞ্চলিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ২৩টি পার্টির প্রার্থীরা. ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সংসদের নির্বাচনে একশোরও বেশি পার্টি অংশ নিতে পারে.

রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কার শুরু হওয়ার পরে এখনো এক বছরও কাটেনি. তাই সার্বিক মূল্যায়ণের সময় এখনো আসেনি. কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে সর্বত্র. ডজন ডজন রাজনৈতিক পার্টি নির্বাচকদের উদ্দেশ্যে তাদের কর্মসূচী পেশ করছে, তাদের ভোট পাওয়ার জন্য লড়ছে. সংবাদ মাধ্যমগুলিতে তুমুল তর্ক-বিতর্ক চলছে রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভাবী সব অভিমুখ নিয়ে. আর মাত্র কিছুদিন আগেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ‘একতাবদ্ধ রাশিয়া’ ক্রমশঃই অন্যান্য পার্টির সাথে চুলচেরা প্রতিদ্বন্দিতা করতে বাধ্য হচ্ছে.