রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা যা “প্রতিরক্ষা “সার্ভিস হিসেবেই বেশি আলোচিত হচ্ছে, সেই মামলার বিচার কাজ আরও বিস্তৃত হবে. তদন্তে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির অর্থের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে. এমনটি বলছেন রাষ্ট্রীয় তদন্তকারী কমিটির প্রধান আলোক্সান্দার বাসত্রিকীন. উচ্চপদস্থ দুর্নীতিগ্রস্থ ওইসব সরকারি কর্মকর্তাদের নামমাত্র সাঁজা দেওয়া হতে পারে বলে আশংকা করছেন সাধারণ রুশ নাগরিকরা.

বিষয়টি এখন এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, অবশেষে রাশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে.

সাংবাদিক, সামাজিক কর্মী ও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সবসময়ই প্রসিকিউটর ও রাষ্ট্রীয় তদন্তকারী দলের সমালোচনা করে থাকে. সবারই একই প্রশ্নঃ আটক হওয়া ওই সব উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা কোথায়, তাদের কি বিচার হচ্ছে. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার কাজের সুনির্দিষ্ট ফলাফল না পাওয়ায় ইতোমধ্যে এ মামলার সঠিক বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই. এ বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছন রাশিয়ার মানবাধিকার পরিষদের বিশেষজ্ঞ ভালেরী ভোরশোভ. তিনি বলেন, “মামলার বিচারকাজ আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়. তেমন তথ্যও আমরা পাচ্ছি না. মামলার তদন্তে নতুন করে নাম আসছে না এবং একজন অন্যজনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে. এদিকে তদন্তকারী দলও সন্দেহজনক তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ দিয়েছে এবং এতে অনেকটা সন্দেহই জাগছে সবার কাছে”.

প্রসঙ্গত, গত দুইবছরে রাশিয়ায় দুর্নীতির দায়ে মামলা হয়েছে এমন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা হবে দেড় হাজারেরও বেশি. এদের মধ্যে ১৫০ জনের মত হচ্ছে তদন্তকারী কমিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক, ৪২ জন প্রসেকিউটরস ও ৪১ জন হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং ১১ জন হচ্ছে আইনজীবি.

রাশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও বেগবান হচ্ছে, এমনটি জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিটির প্রধান আলোক্সান্দার বাসত্রিকীন. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রম যা বর্তমানে পূর্ণমাত্রায় রুপ পেয়েছে এবং এখন পরবর্তি ধাপ এগিয়ে চলছে. যেসব সমালোচনা আমরা শুনেছি তা সবই যুক্তিসংগত. এর আগে যে দুর্নীতি মামলা হয়েছিল তা শুধু ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা হত. কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তদন্ত কমিটি নতুন বছরের জন্যই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য অধিক শতকর্তা গ্রহণ করবে. তবে, আমাদের কাছে যদি দুর্নীতির প্রমাণ পৌঁছায় তাহলে সে বিষয়ে আরও প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে”.

 

রাশিয়ার ওই রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিটির প্রধান আরোও জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান “প্রতিরক্ষা সার্ভিস” এর কাছে মন্ত্রনালয়ের যে সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছিল সেই দুর্নীতিতে ইতোমধ্যে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে. সব মামলাগুলোকে একটি অভিন্ন রুপ দেওয়া হয়েছে. প্রাথমিকভাবে এতে ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরকারি ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে. তবে এই সংখ্যাই চুড়ান্ত নয়, এটি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে.

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আনাতোলি সেরদিইউকোভের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ প্রমান পাওয়ায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ২০১২ সালের ৬ নভেম্বর তাকে বরখাস্ত করেন. সেরদিইউকোভের বেশ কয়েকজন আপনজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে. এ মামলায় সেরদিইউকোভ হচ্ছেন প্রতক্ষ্যদর্শী. যদিও তিনি ইতোমধ্যে ২ বার মামলায় হাজিরা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন.