কম্পিউটার নিরাপত্তার বিষয়ে রাশিয়া সহ সারা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ সংস্থা – ‘কাসপেরস্কিজ ল্যাবোরেটরিজ’ তথাকথিত ‘রক্তিম অক্টোবর’ নামক সুবিস্তৃত গুপ্তচর নেট-ওয়ার্ক আবিস্কার করেছে. পাঁচ বছর ধরে দুস্কৃতকারীরা হাতিয়েছে গোপন বাণিজ্যিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তথ্যাবলী. বিশেষজ্ঞরা বোঝার চেষ্টা করছেন, যে এই চক্রের নিয়ন্ত্রণে কে বা কারা ছিল.

‘কাসপেরস্কিজ ল্যাবোরেটরিজ’ – এর বিশেষজ্ঞ ভিতালি কামল্যুক স্বীকার করছেন, যে এত বড়মাপের নেট-ওয়ার্ক এই প্রথম আবিস্কার করা গেছে. কোম্পানিটি জানাচ্ছে, যে পাঁচবছর ধরে দুস্কৃতকারীরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক দপ্তর, রাষ্ট্রীয় দপ্তর ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারগুলি থেকে গোপনীয় তথ্যাবলী সংগ্রহ করেছে. যে সব সংস্থার নেট-ওয়ার্কে হামলা করা হয়েছিল, সেখান থেকে মোবাইল গ্যাজেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে. কামল্যুকের মতে, নেট-ওয়ার্কটির কার্যকলাপের পরিধি ছিল বিশাল. ---

আমরা আবিস্কার করেছি হাজার হাজার নজিরবিহীন প্রোগ্র্যাম, যা তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ বিশেষ দপ্তরের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে. তাছাড়াও আমরা জার্মানী ও রাশিয়ার ভূখন্ডে ষাটটারও বেশি এ্যাকাউন্ট ও বহু কার্যরত সার্ভার খুঁজে বের করেছি.

দুস্কৃতকারীদের কর্মকান্ড সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা থেকে উগান্ডা এমনকি পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল. বিশেষজ্ঞরা দুস্কৃতকারীদের অভিপ্রায়ের তিনটি অভিমুখ খুঁজে পেয়েছে – আর্থ-বাণিজ্যিক, ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক. খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্পের প্রতি তারা বিশেষ মনোযোগ রেখেছিল. আসল প্রশ্ন হচ্ছে একটাই – কার কোন স্বার্থে প্রয়োজন পরেছিল এমন একটা বিশাল নেট-ওয়ার্ক তৈরি করার? ভিতালি কামল্যুক উল্লেখ করছেন, যে কোনো দেশের সরকারের সাথে দুস্কৃতকারীদের সরাসরি যোগাযোগ আবিস্কার করা না গেলেও, রাষ্ট্রীয় কিছু দপ্তর হয়তো তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের বায়না দিত.---

হয়তো এটা কোনো বাণিজ্যিক সংস্থা, যারা তথ্য সংগ্রহ করতো পরে দামীমূল্যে সেগুলো বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে. কিছু কিছু সরকারী দপ্তর বোধহয় ছিল এর ক্রেতা. বর্তমানে গোপন তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত আছে এরকম বেশ কয়েকটা কোম্পানি. সম্ভবতঃ ওদের কাছ থেকে তথ্য কেনে গোয়েন্দা দপ্তরগুলি বা অন্য কিছু কিছু সরকারী দপ্তর.

শেষ প্রশ্নটা হচ্ছে – সাইবার-গুপ্তচরদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় আছে কি? একবাক্যে এ উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়. আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার মধ্যে লড়াই চলছে বহু বছর ধরে. কখনো একপক্ষ, কখনো অন্যপক্ষ জেতে. তবে বিশেষজ্ঞের মতে কখনো কখনো আক্রান্ত সংস্থাগুলির কর্মচারীরাই অসাবধানতা বশতঃ দুস্কৃতকারীদের সাহায্য করে ফেলে. যেমন, এবারই নেট-ওয়ার্কে ভাইরাস ঢুকে গেছিল অজ্ঞাতপরিচয় একজনের কাছ থেকে আসা ই-মেইল খোলায়.