প্রথমবারের মত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় ৫শ’ মিলিয়ন ডলার ঋণ পাচ্ছে। মস্কো সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে ক্রেমলিনে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষীক বৈঠকে এসব চুক্তিপত্র সই হয়েছে। দুই নেতা দ্বিপাক্ষীক সম্পর্কের ভবিষ্যত রুপরেখা নিয়েও আলোচনা করেন।

ভ্লাদিমির পুতিন ও শেখ হাসিনার ওই বৈঠকে আন্তর্জাতিক ইস্যুও ওঠে আসে। প্রসঙ্গত, ৪০ বছর পর বাংলাদেশ থেকে শীর্ষ পর্যায়ে রাশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় সফরে আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৯৭২ সালের এপ্রিলে মস্কো সফরে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের সূচনায় শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের বিরাট অবদান ছিল। পুতিন আরও বলেন, ক্রেমলিনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে বরণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। রুশ রাষ্ট্রপতির ভাষায়, “জ্বালানী খাতসহ আমাদের দুই দেশ যৌথভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে চলছে। রসআটোম বাংলাদেশে প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র “রুপপুর” নির্মাণ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আমরা শুধুমাত্র আধুনিক প্রযুক্তিই সরবরাহ করবো না বরং অন্যান্য দেশের মত প্রাথমিক পর্যায়ে অর্থঋণ দিয়েও বাংলাদেশকে সাহায্য করবো এবং এ ঋণের পরিমান হচ্ছে ৫শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার”।

২০১১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে ১ম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আন্তর্জাতিক সব শর্তাবলী মেনে নিয়েই রাশিয়ার সর্বশেষ প্রযুক্তির প্রয়োগ করেই এটি নির্মাণ করা হবে এবং তা হবে পূর্ণ নিরাপত্তা। ওই প্রকল্প অনুযায়ি ২টি চুল্লী বসানোর কথা রয়েছে এবং প্রতিটি চুল্লী ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়াকে বেছে নেওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ এ শিল্পের সাথে জড়িত শীর্ষ দেশগুলোর সাথে আলোচনা করেছে। কিন্তু, রুশ পরমাণু প্রযুক্তির খ্যাতি সারা বিশ্বে যে পরিচিতি লাভ করেছে সেই কারণেই বাংলাদেশ রাশিয়ার শরনাপন্ন হয়েছিল। এমনটি বলেছেন পরমাণু জ্বালানী বিষয়ক সাবেক সহকারি মন্ত্রী ও কুরচাট ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ভিক্তর সিদোরেনকা। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “এ থেকে এটিই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, রুশ প্রযুক্তির ওপর আস্থা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অর্থঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া রাশিয়ার সাহায্যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য অনেক দেশের সাথে আলোচনা চলছে। উদাহরণ হিসেবে চীন, ভারত বা অন্য দেশের কথা বলা যেতে পারে। এর অর্থ এই যে, প্রযুক্তি সমসাময়িক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই কাজ করছে।

রাশিয়া ও বাংলাদেশ তেল এবং গ্যাস খাতে সহযোগিতা সম্পর্ক প্রসারিত করছে। রাশিয়ার বৃহত্তম তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি গ্যাসপ্রম ইন্টারন্যাশনাল খুব শিঘ্রই বাংলাদেশে দুটি গ্যাসকুপ খননের কাজ শুরু করবে। বাংলাদেশের জাতীয় তেল-গ্যাস কর্পোরেশন পেট্রোবাংলার সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ি গ্যাসপ্রম ৬টি তেল সমৃদ্ধ এলাকায় ১০টি কুপ খননের কাজ করবে।

ক্রেমলিনে পুতিন ও হাসিনার মধ্যে বৈঠকে একই সাথে সন্ত্রাসবাদ দমন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক, চিকিৎসা এবং কৃষিখাতে সম্পর্ক চুক্তি সই হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বাক্ষরিত প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নকে আরও বেগবান করবে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ সফর করার জন্য শেখ হাসিনা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রন জানিয়েছেন।