মঙ্গলবার সকালে ইসলামাবাদে প্রচন্ড গন্ডগোল হয়েছে. রাজনৈতিক সংস্কারসাধনের দাবী জানিয়ে জনতার মিছিল পুলিশ ছত্রভঙ্গ করেছে কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে ও শূন্যে গুলি ছুঁড়ে. প্রত্যুত্তরে ক্ষিপ্ত জনতা পুলিশের দিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়েছে ও যানবাহন পুড়িয়েছে. সংসদ ভবনের অনতিদূরে পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষ বেঁধেছিল. এই প্রসঙ্গে সবিস্তারে বলছেন আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ.

গতকাল সন্ধ্যায় সদ্য ক্যানাডা থেকে প্রত্যাবর্তন কারী পাকিস্তানের বিখ্যাত ধর্মীয় নেতা তাহির-উল-কাদ্রির নেতৃত্বে মিনহজ-উল কোরান গোষ্ঠীর হাজার হাজার সমর্থক ইসলামাবাদে মিছিলে জড়ো হয়েছিল. তাহির প্রকাশ্যে বলছেন, যে তিনি নাকি ২০ লাখ লোক জড়ো করতে সক্ষম. তার কথায়, সমাবেশকারীরা নাকি ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না তাদের দাবী পূরণ করা হচ্ছে. আন্দোলনকারীরা সরকারের ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবী করছে. উল-কাদ্রি দাবী করছে, যাতে দুর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতিজ্ঞরা শাসনক্ষমতা ছেড়ে দেয় ও রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী যেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে. আপাতদৃষ্টিতে তার দাবীদাওয়া ন্যায্য – বলছেন স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের কর্মী আজদার কুর্তভ. ---

কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, পশ্চিমী সমাজে দৃঢ় শক্তিসম্পন্ন গণতন্ত্রের সব আদর্শ কিছুতেই প্রাচ্যের জীবনধারার সাথে খাপ খাচ্ছে না. আপনাআপনি ঐ আদর্শগুলিকে প্রাচ্য দুনিয়ায় স্থাপণ করার ফল প্রায়শঃই হয় উল্টো. এ বিষয়ে বহু দেশের উদাহরন দেওয়া যায়. যেমন, শ্বেতবিপ্লবের আমলে ইরান ও অন্যান্য আরবী দেশ. সেই জিনিসই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি পাকিস্তানে. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিগুলো ইসলামী উগ্রপন্থী সহ বিভিন্ন চরমপন্থীদের দেশের শাসনক্ষমতা দখল করার হাতিয়ার মাত্র. অতএব আগামী কয়েকদিনে বা কয়েকমাসে পাকিস্তানে আমরা দেখতে পাবো আইনগত ভাবে, এমনকি অস্ত্র প্রয়োগ করেও বিভিন্ন গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখল করার প্রয়াস, যাতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক চালচিত্রই বদলে যেতে পারে.

এদিকে পাকিস্তানে এই গুজব ছড়াচ্ছে, যে উল-কাদ্রিকে নাকি সেনাবাহিনী মদত যোগাচ্ছে ও ভবিষ্যতে তার নাকি প্রধানমন্ত্রীর পদ অধিকার করার সম্ভাবনা রয়েছে. উল-কাদ্রি স্বয়ং এই সব গুজব অস্বীকার করছে. সে প্রকাশ্যে ঘোষনা করছে, যে সেনাবাহিনীর সাথে তার নাকি কোনো যোগসাজস নেই ও আন্দোলনে সে নেমেছে শুধুমাত্র গণতন্ত্রের নামে.

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক উপরোক্ত সমাবেশকে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন. মে মাসের জন্য নির্ধারিত সংসদের নির্বাচন পন্ড না হতে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশের বর্তমান শাসকরা সর্বতোভাবে চেষ্টা করছে পরিস্থিতিকে জটিলতর না হতে দেওয়ার. পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে ‘ট্রিবিউন’ সংবাদপত্র লিখেছে, যে ক্ষমতাসীন শাসকরা তাহির-উল-কাদ্রিকে গ্রেপ্তার করবে না, কিন্তু একান্তভাবে তাকে পরামর্শ দিচ্ছে ক্যানাডায় ফিরে যাওয়ার জন্য, যেখানে সে বহুকাল বসবাস করেছে.