রাশিয়ার গবেষণাবিদরা অতলান্তিক মহাদেশের প্রবাদপ্রতীম ভস্তোক নামক হ্রদ থেকে বরফের নমুনা সংগ্রহ করেছেন. ঐ হ্রদটা বরফের ৪ কিলোমিটার স্তরের নীচে অবস্থিত. বিজ্ঞানীদের এই বিশ্বাস, যে অতলান্তিক মহাদেশের বৃহত্তম ঐ জলাশয়ের বরফের প্রকৃতি বিশিষ্টরকমের হতে পারে.

ভস্তোক – অতলান্তিকে অবস্থিত কয়েকশো জলাশয়ের একটি. তার আয়তন ১৫ বর্গ কিলোমিটারের বেশি. আপাততঃ বিজ্ঞানীরা বলতে পারছেন না, যে হ্রদটির গভীর থেকে সংগৃহীত বরফের প্রাকৃতিক ধর্ম কেমন হবে. ১০ই জানুয়ারী ঐ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ও মে মাসের মাঝামাঝি তা আনা হবে সেন্ট-পিটার্সবার্গে. এই প্রসঙ্গে উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ভালেরি লুকিন বলছেন ---

ঐ নমুনাটি রাসায়নিক ও জৈবিক গবেষণা করার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে. ভস্তোক হ্রদের তলায় অভূতপূর্ব ও বিশিষ্ট প্রাকৃতিক বস্তু নিয়ে আমরা গবেষণা করছি. এর আগে পৃথিবীতে অন্য কেউ ঐ নমুনা সংগ্রহ করেনি. যদি আমরা কোনো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবানু ওখানে আবিস্কার করতে পারি, তবে আমাদের গ্রহের বিবর্তন সম্পর্কে আমরা নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারবো, কারন ঐসব জীবানু এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে বাস করে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও সম্ভব নয়.

বরফ খন্ডটির বিশ্লেষণ পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ বছর অতীতের ইতিহাস খুলে ধরতে পারবে. বিজ্ঞানীরা এমনকি আশা করছেন, যে নমুনাটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্য কোনো গ্রহের বিবর্তনের সাথে সাদৃশ্যও দেখাতে পারে. এই প্রসঙ্গে রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির সাইবেরিয়া শাখার উপাধ্যক্ষ তামারা হজের বলছেনঃ

বরফের গভীরস্তরে আচ্ছাদিত এরকম হ্রদের গবেষণা মঙ্গলগ্রহের প্রকৃতির সাথে তুলনা করতে সাহায্য করবে আমাদের. কারন, আমাদের ধারনা এই, যে মঙ্গলগ্রহে বরফের স্তর রয়েছে ও ঐ গ্রহে জলের কয়েকটি অনুও পাওয়া গেছে. সুতরাং বরফের গভীরে অবস্থিত হ্রদটি আমাদের সৌরজগতে অন্যান্য গ্রহগুলির জন্ম কিভাবে হয়েছিল – তা বুঝতে সাহায্য করবে.

ঐ জলের নমুনার নিরীক্ষা আমাদের আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান করতে সাহায্য করবে – পৃথিবীতে বহুকাল আগে জীবিত থাকা সেই সব জীবানুদের সম্পর্কে জানার, বহুকাল ধরেই যাদের অস্তিত্ব আর নেই. তামারা হজের আরও বলছেন যে, ভস্তোক হ্রদের গভীরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবানুদের অস্তিত্ব থাকার প্রমাণ এখনো পাওয়া না গেলেও, সেরকম সম্ভাবনা আছে. ---

ভস্তোক হ্রদ প্রাকৃতিক পরিমন্ডল থেকে দশ লক্ষ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচ্ছিন্ন ছিল, তাই সেখানে সবচেয়ে প্রাচীণ জীবনের নমুনা পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে.

অতলান্তিক – পৃথিবীর দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত বিশাল বরফাচ্ছাদিত মহাদেশ, যার বহু রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি. রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর গভীরতম বরফাচ্ছাদিত হ্রদটির রহস্য উন্মোচনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন. এখন বিশুদ্ধ অবস্থায় ২ মিটার আয়তনের বরফের ঐ চাঁইটিকে পরীক্ষাগারে পৌঁছে দেওয়াই আসল কর্তব্য. বাকি কাজ বিজ্ঞানীদের.