আজ সোমবার থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মস্কোতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হচ্ছে. এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন আমাদের বিশ্লেষক গিওর্গি ভানেতসব।

প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ থেকে শীর্ষ পর্যায়ে রাশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় সফর হচ্ছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সবসময়ই ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ১৯৭১ সালে যে সব দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল রাশিয়া ছিল ( সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) তার মধ্যে অন্যতম এবং ওই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের আজকের প্রজন্মরাও রাশিয়াকে কৃতজ্ঞতা জানায় এবং তাঁরা জানে রুশি নাবিকরা কিভাবে জীবণ বাজি রেখে দেশের প্রধান বন্দর চট্রগ্রামকে মাইন মুক্ত করেছিল।

মস্কো সফরে আসার আগে শেখ হাসিনা রাশিয়ার গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে রাশিয়াকে একটি বিশ্বস্থ বন্ধু রাষ্ট্র বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে এর প্রমাণ আমরা পেয়েছি এবং ওই সময়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আমাদের জনগনের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল।

বর্তমানে রাশিয়া ও বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমস্যা নিরসণে একযোগে কাজ করে চলছে। দুই দেশের বানিজ্যিক সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মস্কো সফরে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ঋণচুক্তির অধীনে রাশিয়ার সাথে ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ক্রয় এবং রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রায় ৫শ’ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করবেন।

ভারতের পর বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ২য় দেশে যেখানে রাশিয়ার সহযোগিতায় পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এমনটি জানিয়েছেন রসআটোমের কর্মকর্তা ভ্লাদিসলাভ বোসকোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রূপপুরে যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে তার চুল্লীগুলো হবে ৩য় প্রজন্মের এবং প্রতিটি চুল্লী ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। চুল্লীগুলো হবে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এবং উচ্চ শক্তিসম্পন্ন। এটি রাশিয়ার পরমাণু শিল্পে সর্বশেষ আবিষ্কার”।

রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে তেল ও গ্যাস কুপ খনন ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতা এগিয়ে চলছে. এক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি গ্যাসপ্রম।

মস্কো আসার আগে সাংবাদিকদের শেখ হাসিনা বলেন, “সোভিয়েত নেতাদের সাথে বাংলাদেশের স্থপতি আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে আমি এই সফর অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে মনে করছি এবং আশা করি তা ফলপ্রসু হবে। ভবিষ্যতে নানা খাতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক আরও সম্প্ররিত হবে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করছি”।