২০০৭ সালে পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে হত্যা করার পর দেশটির কোয়েটা শহরে সম্প্রতি শিয়া মুসলিমদের ওপর দু’টি ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে.

এ নিয়ে পুরো দেশে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে.

এদিকে সরকারের দায়িত্বে পালনে অবহেলা করেছে এই শ্লোগান নিয়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে. সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হচ্ছেবালুচিস্তান প্রদেশেরপ্রধান শহর কোয়েটা শহরে. এখানে বোমা হামলায় নিহতদের লাশ নিয়ে মিছিল করেছে স্থানীয়রা ও রাস্তাঘাট আটকে রেখেছে.

প্রসঙ্গত, শিয়া সংখ্যালঘুদের ওপর ওই হামলা যা পূর্ব পরিকল্পিত ছিল এবং দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির আগামী মে মাসের পার্লামেন্ট নির্বাচন ভন্ডুল করার জন্যই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে.

খবরে জানা যায়, কোয়েটা শহরের একটি বিলিয়ার্ড ক্লাবে প্রথম আত্বঘাতি বিস্ফোরণটি চালানো হয়. এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে খুবই জনপ্রিয় এলাকা হিসেবে পরিচিত. বিলিয়ার্ড খেলার যে মূল্য অনেক তা হামলার পরই প্রমাণ পেয়েছে. এর মূল্য হিসেবে দিতে হয়েছে ৯২টি প্রাণ ও ১২০ জনেরও অধিক আহত হয়েছেন. আর সম্প্রতি ২টি বোমা হামলা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে পাকিস্তানে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ননা করা হয়েছে.

নিহত ও আহতদের আত্বীয়-স্বজন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শিয়া সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবী জানিয়েছে এবং প্রশাসনের জন্য তা রীতিমত প্রধান একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে. ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে শতকরা ২০ ভাগ হচ্ছে শিয়া সম্প্রদায়ভূক্ত. পাকিস্তানকে রীতিমত এখন হতাশায় ফেলেছে. পারমানবিক অস্ত্রধারী দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটি এখন নতুন সংকটের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে.

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইংরেজ শাসন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশ স্বাধীন হলে এবং পরবর্তিতে ভরত ও পাকিস্তানর বিবক্তের পর বিগত ছয় দশকের মধ্যে ২০১২ সালটি ছিল স্থানীয় শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর. গতবছর জঙ্গি হামলায় ১২০ জনেরও বেশি শিয়া মুসলমান নিহত হয়.

ইতিহাস স্মরণ করার এখন সময় এসেছে. ভারতীয় উপমহাদেশে একটি ইসলামিক দেশ গঠন করার জন্যই ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ওই অঞ্চলে বসবাসরত মুসলমানরা. ওই যুদ্ধ শিয়া-সুন্নীদের মধ্যে ভাগ সৃষ্টি করার জন্য করা হয় নি. শিয়া সম্প্রদায়ের কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আপনি শিয়া নাকি সুন্নি?. উত্তরে তাঁরা বলেন, আমি শিয়া ও সুন্নীর নই, আমি মুসলমান.

যদিও পাকিস্তানে এই নাটকীয় ট্রাজিডী এখনও বয়ে চলছে এবং তার আজও সমাধান করা সম্ভব হয় নি.

পাকিস্তানের ৪টি প্রদেশ, জনগন ও উপজাতীয় যারা ইসলাম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্ম মতবলম্বী তাদের মধ্যে সংঘাত ক্রমশই বেড়ছে.

এদিকে এই পরিস্থিতিতে আল-কায়দা ও অন্যান্য উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে. তাছাড়া পাকিস্তানের সুন্নী গোত্রের বিভিন্ন সংগঠন যেমনঃ লশকার- ই- জঙ্গি, আর্মি জঙ্গি, সিপা-ই-সাহাবা যারা শিয়াদের ওপর একাদিক হামলার দায় স্বীকার করেছে.

আজ যখন পাকিস্তানের সরকারের ওপর বিশ্বাসের হার যখন হ্রাস পাচ্ছে এবং দেশ যখন পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ঠিক তখনই উগ্রবাদীরা নতুন করে চিত্রপট রচনা করছে. এরা দেশে সহিংসতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে দুর্বল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলার পরিকল্পনা করছে. এমন পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের স্বান্তনা দিতে

আগামী রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ যখন কোয়েটা শহর সফর করবেন তখন তার কাছে স্থানীয় জনগন জঙ্গীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করার শুধু বানী শুনতে চাইবেন না বরং কাজে দেখতে চাইবেন. দেরীতে শুরু হলেও তা কখনও না করার চেয়ে অনেক ভাল. বর্তমানে বালুচিস্তান রাজ্য সরকারকে অপসারণ এবং সেখানে গভর্ণর বিধি জারি করা হয়েছে.